রমজা‌নে ৩ হাজার প্র‌তিষ্ঠানকে দুই কো‌টি টাকা জ‌রিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৩৭ পিএম, ১২ জুন ২০১৯

রমজান মাসে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ভেজালবিরোধী অভিযানে আড়ং, পারসোনাসহ ৩ হাজার ১২৭ প্রতিষ্ঠানকে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মে মাসে দেশব্যাপী ৬৪ জেলায় ভেজালবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে এ জরিমানা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

ভেজাল, পচা-বাসি, মেয়াদহীন খাবার ও ইফতার বিক্রি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি, মিথ্যা বিজ্ঞাপন, বিদেশি পণ্যে আমদানিকারকের স্টিকার না থাকা এবং অবৈধ নকল পণ্য ও কসমেটিকস বিক্রিসহ বেশি দামে পণ্য বিক্রির অপরাধে এসব জরিমানা করা হয়।

আরও পড়ুন >> অন্যদের ভাগ্য গণনা করেন, ভোক্তা অধিকার আসবে জানতেন না

অধিদফতর সূত্র জানায়, চলতি বছরের মে মাসে বিভিন্ন অভিযোগ নিষ্পত্তি ও অভিযানে দেশব্যাপী ৩ হাজার ১২৭ প্রতিষ্ঠানকে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় ৯০ জন অভিযোগকারীকে জরিমানার ২৫ শতাংশ পুরস্কার হিসেবে ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৭৫ টাকা প্রদান করা হয়। অবশিষ্ট ২ কোটি ৩২ লাখ ২ হাজার ১২৫ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়।

Vokta

সূত্র আরও জানায়, প্রতি বছরই রমজান মাসে চাহিদা বেশি থাকায় কিছু অসৎ মুনাফালোভী ব্যবসায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। তাই পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার মিল, আড়ত ও পাইকারি খুচরা বাজার, বিভিন্ন ছোট-বড় শপিংমলে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ভোক্তার অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে এমন অভিযোগে ফুটপাত থেকে শুরু করে নামিদামি ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়।

আরও পড়ুন >> বিদেশি পণ্যে আমদানিকারকের স্টিকার না থাকায় জরিমানা

এ সময় সুপারশপ আলমাস, মোস্তফা মার্ট, বিবিবি কসমেটিকস, দেশীয় ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠান আড়ং, পারসোনা, অফিসার্স ক্লাবসহ নামিদামি বিভিন্ন রেস্তোরাঁকে জরিমানার আওতায় আনা হয়।

Vokta

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (উপসচিব) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত করতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর কাজ করছে। এর ধারাবাহিকতায় অন্যান্য মাসের মতো রমজানে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় অনেক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন >> কারখানার রঙ দিয়ে মিষ্টি তৈরি, লাখ টাকা জরিমানা

তবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানা করা মূল উদ্দেশ্য নয় উল্লেখ করে ভোক্তা অধিদফতরের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘জরিমানা করা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে আমরা অধিদফতরের পক্ষ থেকে কাউন্সিল করেছি, যেন আগামীতে তারা এ ধরনের কোনো অপরাধ না করে। প্রতিটি ব্যবসায়ী আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ভোক্তা অধিকার ক্ষুণ্ন হয় এমন কাজ তারা করবে না।’

Vokta

তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের এমন প্রতিশ্রুতি আগামীতে ভোক্তার স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয় এমন অপরাধ কমে যাবে। এভাবেই একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আমরা এগিয়ে যাব।’

এসআই/এসআর/এমকেএইচ