রাতে কারা তারকাঁটা টপকায়, প্রশ্ন নৌপ্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:০৫ পিএম, ২৭ জুন ২০১৯

ভারতের সঙ্গে সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য বৈধপন্থায় হচ্ছে উল্লেখ করে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘রাতের বেলা সীমান্তের তারকাঁটা টপকানোর দরকার নেই। কারা তারকাঁটা টপকে যায়?’

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইন্ডিয়ান মিডিয়া করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইমক্যাব) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-ভারত নৌ যোগাযোগ : সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক ডায়লগে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্র।

খালিদ মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের এখন ওয়ান স্টপ সার্ভিস দেয়া হচ্ছে। রাতের বেলা সীমান্তের তারকাঁটা টপকানোর দরকার নেই। কারা তারকাঁটা টপকায়? এটা চিন্তার বিষয়। এগুলোকে নিয়ে একটা তিক্ততা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এটাও এক ধরনের রাজনীতি।’

‘ভারতের সঙ্গে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছু বৈধপন্থায় হচ্ছে। এতগুলো আমাদের ল্যান্ড পোর্ট এবং প্রত্যেকটার ইমিগ্রেশন আছে। আমাদের প্রত্যেকটা জেলায় পাসপোর্ট অফিস হয়ে গেছে। ভারতের দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রায় সারাদেশে ভিসা সেন্টার চালু করা হয়েছে। তাহলে সমস্যা কী? রাতের বেলায় এসব জায়গায় যায় করা? এদের পরিচয় কী? এ বিষয়গুলো আমাদের নিয়ে আসতে হবে। সে দেশপ্রেমী নাকি দেশদ্রোহী সেটা কিন্তু বিশ্লেষণ করার সময় চলে আসছে’ বলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এগুলো নিয়ে রাজনীতি হয়, আমরা এর আগে দেখিছি পরিকল্পিতভাবে বর্ডার এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করা হয়। এগুলো বন্ধ করতে হবে এবং বর্তমান সরকার এ বিষয় দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবন্ধ।’

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো সমস্যা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। ভারতের সঙ্গে সমস্যা হওয়ার কথাও না। এ ধরনের (ভারতের সঙ্গে সমস্যা) একটি ধারণা ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সৃষ্টি করা হয়েছে। রাজনীতি করার জন্য এবং সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিকে পুঁজি করে, দেশকে পিছিয়ে দেয়ার অভিপ্রায় নিয়ে এটা করা হয়েছে।’

খালিদ মাহমুদ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আমাদের এ দেশ কখনও ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হয়নি। যে কারণে এখানে সাম্প্রদায়িক বিষয় আনার চেষ্টা করা হয়েছে। ভারতের সামরিক বাহিনীর প্রায় ১২-১৩ হাজার সদস্য আমাদের দেশমাতৃকাকে হানাদার বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সহায়তা করেছে। এক কোটি শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল।’

‘দেশের প্রথম যে সরকার মুজিবনগরে শপথ নিয়েছিল, সেই সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে ভারত সরকারের অসামান্য অবদান রয়েছে। সে সময় যদি আমরা ভারতের জায়গাগুলো ব্যবহার করতে না পারতাম, তাহলে মুক্তিযুদ্ধে আমাদের জয়লাভ করাটা কতটা সহজতর হতো সেটা বড়ই ভাববার বিষয়’ যোগ করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘পানি নিয়ে বাংলাদেশের যে সমস্যা, তার থেকে বেশি সমস্যা ভারতের। ভারতে প্রায় আমরা দেখি বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে উচ্চ-বাচ্য সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশে এখনও সে পর্যায়ে যায়নি। মুজিব-ইন্দিরা যে চুক্তি হয়েছে, সেই চুক্তি অনুযায়ী যদি আমরা চলতাম তাহলে কোনো সমস্যা হতো না। সেটা হয়েছিল ভারত এবং বাংলাদেশ দুই দেশেরই স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় সামনে রেখে। দুঃখজনক এ চুক্তি নিয়েও রাজনীতি করা হয়েছে। কিন্তু দেখেন যারা এটা নিয়ে রাজনীতি করেন তারাও এ চুক্তি বাতিল করেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক জায়গায় নদী দখল হয়ে গেছে, নদীর কোনো চিহ্ন নেই। এসব বিষয়ে আমাদের কাছে চিঠিপত্র আসছে এখানে নদী ছিল আপনারা আসেন। জনসচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে এটাই আমাদের বড় পাওয়া। গত ছয় মাসে নদীর প্রতি মানুষ দৃষ্টি দিয়েছে। প্রতিটি জেলায় আমরা নদী রক্ষা কমিটি করেছি। প্রায় সবকটি উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করে আমরা নদী রক্ষা কমিটি গঠন করেছি।’

বক্তব্যের শেষ দিকে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আর কোনো অধ্যাদেশ থাকবে না। সবই আইনে পরিণত হবে।’

ইমক্যাবের সভাপতি বাসুদেব ধরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের উপদেষ্টা নকিব আহমেদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ওমর ফারুক, ইমক্যাবের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সবুজ, সাংগঠনিক সম্পাদক আফরোজ জামান প্রমুখ।

এমএএস/এনডিএস/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :