ঢাকা-চট্টগ্রামের নদী দূষণরোধে মাস্টারপ্ল্যান প্রস্তুত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৫৩ পিএম, ২১ জুলাই ২০১৯

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী ও ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণ, দখলরোধে এবং নাব্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কারিগরি সাব কমিটির দুটি খসড়া মাস্টারপ্ল্যান মূল কমিটির কাছে জমা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণ ও দখলরোধে এবং নাব্যতা বৃদ্ধিতে প্রণীত মাস্টারপ্ল্যানের ২৪টি মূল কার্যক্রম এবং এর আওতায় ১৮০টি সহযোগী কার্যক্রম চিহ্নিত করা হয়েছে। অপরদিকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এবং হালদা নদীর দূষণরোধে নাব্যতা বৃদ্ধি ও অবৈধ দখলরোধে প্রণীত মাস্টারপ্ল্যানে ৪৫টি মূল কার্যক্রম এবং এর আওতায় ১৬৭টি সহযোগী কার্যক্রম চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম ক্র্যাশ প্রোগ্রাম, স্বল্প মেয়াদি, মধ্য মেয়াদি এবং দীর্ঘ মেয়াদি এ চারটি পদক্ষেপের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।’

সচিবালয়ে রোববার (২১ জুলাই) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণ ও দখলরোধ এবং নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য গৃহীত মাস্টারপ্লান অবহিতকরণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান তাজুল ইসলাম।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নদনদী দূষণমুক্ত করা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, উৎপাদনশীলতা ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। এ জন্য প্রণীত খসড়া মাস্টারপ্ল্যান দুটি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিভাগের স্ব স্ব দায়িত্ব ও করণীয় মাস্টারপ্ল্যানে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে কিনা-সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় বিভাগের বিস্তারিত মতামত গ্রহণ করা হয়। এ মাস্টারপ্ল্যানে ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, তুরাগ, ও বালু নদী এবং চট্টগ্রামের হালদা নদীর দূষণ ও দখলরোধে এবং নাব্যতা বৃদ্ধির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এ ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রামের চারপাশের নদীগুলোর দূষণ, দখলরোধ ও নাব্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট জেলার শাখা নদী ও খালগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণসহ বাস্তবিক ধারণা নেয়া এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চলমান প্রকল্পসমূহ পর্যালোচনা করে খসড়া মাস্টারপ্ল্যান দুটি প্রস্তুত করা হয়েছে।’

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রণীত এ খসড়া মাস্টারপ্ল্যান দুটি গত ১২ জুলাই অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কালক্ষেপণ না করে এ মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী কার্যক্রম বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় অধিদফতর সংস্থা প্রতিষ্ঠানসমূহ এ মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী নিজ নিজ কার্যক্রম শুরু করবে। মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী কার্যক্রম বাস্তবাযনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবকে আহ্বায়ক করে অতিসত্বর একটি কমিটি গঠন করা হবে।’

২০১৬ সালের ১৪ জুন জাতীয় অর্থনেতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণরোধে এবং নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য মাস্টারপ্ল্যান তৈরির লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়কে আহ্বায়ক করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এবং মহাপরিচালক (প্রশাসন), প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে সদস্য সচিব করে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবকে আহ্বায়ক এবং মহাপরিচারককে সদস্য সচিব করে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণ ও দখলরোধে এবং নাব্যতা বৃদ্ধিকল্পে মাস্টারপ্ল্যান তৈরির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালককে (প্রশাসন) আহ্বায়ক এবং চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর দূষণরোধে ও নাব্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে আহ্বায়ক করে দুটি সাব কমিটি গঠন করা হয়।

এমইউএইচ/এনডিএস/জেআইএম