বাবাকে হত্যা করে ‘ডাকাতি’ সাজান সন্তানরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:১৪ পিএম, ২৯ জুলাই ২০১৯
ওয়ারী বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ ইব্রাহীম খান।

পারিবারিক কলহ ও বাবার ওপর দীর্ঘদিনের সঞ্চিত ক্ষোভের কারণে নিজ বাসায় বাবাকে হত্যা করেছে সন্তানরা। শুধু হত্যা করে ক্ষান্ত হয়নি তারা, হত্যা চাপা দিতে পরিকল্পিতভাবে খুনসহ ডাকাতির ঘটনা সাজিয়েছিল তারা।

সোমবার ওয়ারীর ডিসি অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইব্রাহীম খান।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, রোববার সকাল ৬টায় যাত্রাবাড়ী থানার কোনাপাড়া মোমেনবাগে একটি বাড়িতে খুনসহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে- এমন সংবাদে আমরা ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে। বাসায় গিয়ে দেখি রুমের খাটের ওপর মহিবুল্লাহর মরদেহ। মরদেহের মাথায় আঘাত ছিল ও বিছানায় রক্ত জমাট বেঁধে আছে এবং বাসার কাপড়-চোপড় ও অন্যান্য জিনিসপত্র এলোমেলো।

‘মহিবুল্লাহর ছেলে শামীম হাসান (২২), মেয়ে মোহাসিনা আফরোজ প্রীতি (২৫) এবং তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলি। তারা ডাকাতির ঘটনা বলে এবং ডাকাতরা তাদের বাবাকে হত্যা করেছে বলে আমাদের জানায়। ঘটনা সম্পর্কে আমরা সব তথ্য সংগ্রহপূর্বক তদন্ত শুরু করি। যেহেতু খুনসহ ডাকাতি তাই সম্ভাব্য সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমরা তদন্ত শুরু করি’- যোগ করেন ডিসি।

তিনি বলেন, তদন্তকালে তাদের দেয়া তথ্যে সন্দেহ হলে আমরা তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে এমন কিছু তথ্য পাই, যে তথ্যের সঙ্গে মহিবুল্লাহর ছেলে ও মেয়ের প্রদত্ত তথ্যের অমিল রয়েছে। তখন আমরা তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে প্রাপ্ত তথ্য শামীম ও প্রীতির কাছে প্রকাশ করলে, তারা বুঝতে পারে আমরা সত্য উদঘাটন করতে পেরেছি।

তারা জানায়, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে যে যার যার রুমে শুয়ে পড়েছিল। এমন সময় তার বাবা-মাকে মারধর করে। সে সময় পাশের ঘর থেকে মেয়ে প্রীতি এসে বাবা মহিবুলকে জিজ্ঞাসা করে কেন মাকে মারছেন? এমন প্রতিবাদ করায় প্রীতিকে মারধর করে বাবা। তখন তার ছেলে শামীম আসে। ছোটবেলা থেকে শামীম দেখছে তার বাবা মাকে ও তাদের মারধর এবং গালাগালি করত। এ কারণে বাবার প্রতি তাদের তীব্র ঘৃণা ও দীর্ঘদিনের সঞ্চিত ক্ষোভ ছিল। এই ক্ষোভ ও ঘৃণার কারণে শামীম তার বাবার গলা চেপে ধরে ও প্রীতি পাশে থাকা ভারী মগ দিয়ে বাবা মহিবুল্লাহর মাথায় আঘাত করলে সে বিছানায় ঢলে পড়ে।

বাবার মৃত্যু নিশ্চিত করতে আলমারি থেকে রশি এনে গলায় ফাঁস দেয়। এরপর তারা হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মতে তারা আলমারি থেকে কাপড় বের করে রুমে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখে, রুমের মধ্যে বাইর থেকে আসা জুতার ছাপ দিয়ে ডাকাতির ঘটনা সাজায় এবং ভোর ৪টা বা সাড়ে ৪টার দিকে আশপাশের ভাড়াটিয়া প্রতিবেশীদের বলে তাদের বাসায় ডাকাতি হয়েছে। ডাকাতরা তার বাবাকে খুন করেছে।

আসামিদের মহিবুল্লাহ’র ভাইয়ের দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

এআর/জেএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]