দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যা বললেন মাহী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৫৯ পিএম, ২৫ আগস্ট ২০১৯

অর্থ পাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মাহী বি চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (২৫ আগস্ট) তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের উপপরিচালক জালাল উদ্দিন আহমেদ। দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তবে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে মাহী বি চৌধুরী বলেছেন, বিদেশে কোনো সম্পত্তি থেকে থাকলে তা বৈধ আয়ে কেনা। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দুদকে জিজ্ঞাসাবাদের পর বেরিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ছেলে, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জোটসঙ্গী বিকল্পধারা বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য মাহী বি চৌধুরী বলেন, দুদককে সঠিকভাবে কাজ করতে দেয়া না হলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পাবে না।

জানা গেছে, মাহীর স্ত্রী আশফাহ্ হক লোপাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হলেও তিনি আসেননি। এর আগে তাদের তলব করে আলাদা আলাদা চিঠি পাঠান সংস্থাটির উপ পরিচালক জালাল উদ্দিন আহমেদ।

চিঠিতে বলা হয়, মাহী বি চৌধুরীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে অর্থপাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্য দিতে তাদের দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে।

লোপা অসুস্থ জানিয়ে মাহী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি স্ত্রীকে রিপ্রেজেন্ট করি।’

জিজ্ঞাসাদ শেষে বেরিয়ে আসার পর তিনি বলেন, ‘এখানে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সুযোগ নেই, মানি লন্ডারিংয়েরও সুযোগ নেই। দেশের বাইরে যদি কোনো আয় ও ব্যয় থেকে থাকে তা দেশের বাইরের বৈধ আয় থেকেই হয়েছে।’

জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে মাহী বলেন, ‘একটি অভিযোগ এসেছে আমার নামে, সেই অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত করছে দুদক। সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার জন্য আমার বক্তব্য নেয়া প্রয়োজন ছিল। সেই জন্য দুদক আমাকে ডেকেছে, আমি আমার বক্তব্য দিয়েছি।

‘আমি মনে করি দুদকে যেহেতু অভিযোগ এসেছে, দুদক প্রকৃত অথরিটি, সত্য উদঘাটনের জন্য সময় দরকার। আমার কাছ থেকে দুদক যেসব তথ্য চেয়েছে, সেগুলো আমি দেব। দুদক তার মতো কাজ করবে। এর পাশাপাশি আমার কিছু কাজ করতে হবে, যা পরবর্তীতে ওই সংবাদ সম্মেলনে খোলাসা করব। অভিযোগে সত্যতা কতটুকু এর পেছনে কী ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা বলব।’

আগামী ২৭ বা ২৮ অগাস্ট সেই সংবাদ সম্মলেন করা হবে জানিয়ে মাহী বলেন, ‘পেছনে কী কারণ রয়েছে, যে অভিযোগুলো এসেছে, তার ভিত্তি কতটুকু, সেগুলোর ব্যাখ্যা আমরা অবশ্যই দেব।’

নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারবেন কি না এমন প্রশ্নে মাহী বলেন, ‘নির্দোষ প্রমাণ করার কিছু নেই, আমি নির্দোষ, এটা আপনারা দেখতে পাবেন।‘

কোনো হয়রানির শিকার হচ্ছেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘না না, হয়রানির কিছু নেই।’ তবে দুদক তলবের চিঠি দেয়ার পর থেকে অপপ্রচারের শিকার হচ্ছি বলে দাবি করেন তিনি।’

‘গত ২৫ দিন ধরে আমি চুপচাপ রয়েছি, কিন্তু ২৫ দিন ধরে ট্রায়াল চলছে। যা ইচ্ছে এক তরফাভাবে বলা হচ্ছে। এও দেখেছি যে ঘুরে ঘুরে হকার-ব্রোকার বলে বেড়াচ্ছে। গরম খবর গরম খবর মাহী চৌধুরীর ছয় বাড়ি- এগুলো দেখছি। আমাদের পলিটিক্যাল ট্রায়াল বেশি হয়।’

এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মাহী বলেন, ‘অভিযোগ আসার সঙ্গে সঙ্গেই যদি মিডিয়া ট্রায়াল হয়ে যায়, যারা শুধু ষড়যন্ত্রের রাজনীতি বিশ্বাস করেন, তারা এগুলো প্রচার করেন অন্যভাবে। এ অভিযোগগুলো নির্বাচনের আগে থেকে আসা শুরু হয়েছে। আমি দেখেছি, এগুলো মোটামুটি একই অভিযোগ।’

তিনি বলেন, ‘অনেক সময় রাজনীতির কারণে ধৈর্য ধারণ করতে হয়। ধৈর্য ধারণ করলে সত্য উদঘাটিত হবে, তা আমি বিশ্বাস করি।‘

এর আগে গত ৪ অগাস্ট দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে মাহীর গুলশানের বারিধারার (রোড নং ১২, বাড়ি ১৯) ঠিকানায় পৃথক দুটি নোটিশ পাঠিয়ে এ দম্পতিকে ৭ অগাস্ট কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ৭ অগাস্ট তারা অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দিতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের জন্য আরও সময়ের দাবি করে কমিশনে আবেদন করলে ২৫ অগাস্ট তাদেরকে নতুন করে তলব করা হয়। দুদক গত জুন থেকে এ অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করে বলে কমিশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

দুদক সূত্র জানায়, মাহী ও তার স্ত্রী বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল অর্থ পাচার করেছেন বলে দুদকে আসা অভিযোগে বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, অজ্ঞাত খাত থেকে আয়ের টাকা তারা কৌশলে বিদেশে নিয়ে গেছেন। বিএনপি সরকারের সময়সহ বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ অর্থের মালিক হয়েছেন তিনি। এসব অভিযোগ প্রাথমিকভাবে যাচাই-বাছাই করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি। উপ পরিচালক জালাল উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়।

এফএইচ/এএইচ/পিআর