রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিকেলে কূটনীতিকদের ব্রিফ করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৪৬ এএম, ২৯ আগস্ট ২০১৯

রোহিঙ্গা ইস্যুর সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকদের ব্রিফ করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় কূটনীতিক ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের ব্রিফ করবেন বলে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের অনিচ্ছা ও মিয়ানমার সম্পর্কে তাদের মাঝে আস্থার ঘাটতির কারণে প্রত্যাবাসন শুরুর সর্বশেষ প্রচেষ্টাটি ব্যর্থ হওয়ায় এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার অভিযোগে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন শুরু হয়। ঘরবাড়ি জ্বালানো, ধর্ষণ, হত্যাসহ নানা সহিংসতায় প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গারা। এ সময় প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা আসে বাংলাদেশে। এরাসহ পূর্বে আসা রোহিঙ্গা মিলিয়ে নিবন্ধনের আওতায় এসেছে ১১ লাখ ১৮ হাজার ৪১৭ জন। এরা উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান করছে।

জাতিসংঘসহ নানা সংস্থার নানা উদ্যোগের পর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সরকারের আলোচনায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ২০১৮ সালের ২৩শে জানুয়ারি প্রত্যাবাসন শুরুর কথা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি।

এছাড়া গত বছরের ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রথম সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু রোহিঙ্গারা রাজি না হওয়ায় একজনকেও ফেরত পাঠানো যায়নি। সে সময় তারা অভিযোগ করেন, মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি।

সর্বশেষ গত ২২ আগস্ট ব্যাপক প্রস্তুতির পরও রোহিঙ্গাদের অনিচ্ছার কারণে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন শুরুর কার্যক্রম আটকে যায়। টেকনাফের শালবাগান ক্যাম্পে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে কক্সবাজারের ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, ২২ আগস্ট রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফেরত পাঠানো শুরু হওয়ার কথা ছিল। ৩ হাজার ৪৫০ জনের সাক্ষাৎকার নেয়া হবে। এর মধ্যে ২৯০ জনের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে। তারা প্রত্যেকেই বলেছেন, মিয়ানমারে ফেরত যাবেন না।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর চুক্তি সই করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। পরে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি দুই দেশ মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ নামে চুক্তি করে। ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ চুক্তি অনুযায়ী, প্রত্যাবাসন শুরুর দুই বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ বিষয়ে অগ্রগতি নেই বললেই চলে।

রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবাসনের আগে যাচাইয়ের জন্য গত ২৯ জুলাই ছয় হাজার পরিবারের ২৫ হাজার রোহিঙ্গার নতুন একটি তালিকা মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করে বাংলাদেশ। এ নিয়ে বাংলাদেশের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৫ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা পেয়েছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তারা প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য ছাড়পত্র দিয়েছে মাত্র ৩৪৫০ জন রোহিঙ্গাকে

বুধবার (২৮ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি টাস্কফোর্সের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও আগামীতে কী পদক্ষেপ নেয়া দরকার তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

জেপি/এমএসএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।