সুদীপ্ত হত্যা : নির্দেশদাতা ‘বড় ভাই’ জামিনে মুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৯:৪৩ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

চট্টগ্রামের ছাত্রলীগ নেতা সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যায় নির্দেশদাতা ‘বড় ভাই’ হিসেবে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলম মাসুম জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে মাসুমকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়।

সন্ধ্যায় বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. কামাল উদ্দিন। তিনি জানান, হাইকোর্ট থেকে পাঠানো জামিনের আদেশ বিকেলে কারাগারে পৌঁছানোর পরেই তাকে মুক্তি দেয়া হয়।

এদিকে নগর আওয়ামী লীগের একাংশের পক্ষ থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, নগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাসকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় হত্যা মামলার আসামি আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলম মাসুমের হাইকোর্ট থেকে পাওয়া জামিনের আদেশ চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে পৌঁছায়। আজ সে আদেশ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছালে মাসুমকে মুক্তি দেয়া হয়।

মাসুম নগরের লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। চট্টগ্রামের রাজনীতিতে তিনি নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। ১৯৯৭-৯৮ মেয়াদে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন মাসুম। তিনি লালখান বাজারের চাঁনমারি রোডের ইপিক কামারপার্ক নামে একটি ভবনের বাসিন্দা আবদুল হকের ছেলে।

shortgun

২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর সকালে নগরীর সদরঘাট থানার দক্ষিণ নালাপাড়ার নিজ বাসার সামনে নগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাসকে পিটিয়ে খুন করা হয়। সেই মামলার অন্যতম আসামি মিজানুর রহমান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, সুদীপ্ত বিশ্বাসকে হত্যা করা হয়েছিল তার দলেরই এক বড় ভাইয়ের নির্দেশে। সেই বড় ভাই আর কেউ নন। তিনি নগর আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলম মাসুম।

এরপর গত ২২ জুলাই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের লালখান বাজার ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর এ এফ কবির আহমেদ মানিক মাসুমের নামে বিশেষ বিবেচনায় বরাদ্দ থাকা দুটি অস্ত্রের (শটগান/৫৪৪৪/ডবলমুরিং ও পিস্তল/৩৩/খুলশী) লাইসেন্স বাতিলের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদনে মাসুমকে চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী উল্লেখ করে তাকে ছাত্রলীগ নেতা সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়।

ওই আবেদনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চট্টগ্রামের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে অস্ত্র দুটির লাইসেন্স বাতিলপূর্বক জব্দের নির্দেশনা দেয়া হয়। পরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বিশেষ শাখার উপকমিশনার মো. আব্দুল ওয়ারিশ খান ১ আগস্ট খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অস্ত্র দুটি জব্দের নির্দেশ দেন। একদিন পর ৩ আগস্ট দিদারুল আলম মাসুম নিজে খুলশী থানায় গিয়ে অস্ত্র দুটি জমা দেন। অস্ত্র জমা দেয়ার পরদিন ৪ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাসুমকে ঢাকার বনানীর কামাল আতার্তুক এভিনিউয়ের ব্লু ওশান টাওয়ারের সামনে থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

আবু আজাদ/বিএ/জেআইএম