আম্ফান : মমতাকে ফোন করে খোঁজখবর নিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:১০ পিএম, ২২ মে ২০২০
ফাইল ছবি

অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্ফান বয়ে গেছে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে। আম্ফানের কারণে বাংলাদেশের উপকূলের মতো পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি শহর তছনছ হয়ে গেছে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে খোঁজখবর এবং সহমর্মিতা জানাতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে টেলিফোন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার (২২ মে) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে ফোন করেন।এ সময় তিনি ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে খোঁজখবর নেন এবং সহমর্মিতা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেলা ১১টা ১০ মিনিটে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে টেলিফোন করেন এবং পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হানা অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তার কাছে জানতে চান।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আম্ফানে জান-মালের ক্ষয়ক্ষতিতে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের প্রতি সমবেদনা জানান এবং অচিরেই রাজ্য সরকার এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সমর্থ হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’

প্রেস সচিব ইহসানুল করিম আরও বলেন, সমবেদনা জ্ঞাপন করায় মমতা বন্দোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

উল্লেখ্য, বুধবার (২০ মে) ভারতের পশ্চিমবঙ্গে উপকূলবর্তী অঞ্চলে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরে, হাওড়া, হুগলী এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের অনেক এলাকায়। হাজার হাজার কাঁচা বাড়ি ও গাছপালা ভেঙে গেছে আম্ফানের ভয়াল থাবায়। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন মারা গেছেন কলকাতায়।

একই দিন বিকালে তীব্র ঝড়ো বাতাস আর বৃষ্টি ঝরিয়ে সাগর থেকে উপকূলে উঠে আসে আম্ফান। তবে বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা ও সুন্দরবন অংশের ওপর আঘাতের পর আম্ফানের বাংলাদেশ অংশটি উঠে আসে স্থলভাগে।

আম্ফানের কারণে বৃহস্পতিবার (২১ মে) পর্যন্ত সারাদেশে শিশুসহ ২৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে যশোরে ১২, সাতক্ষীরায় দুই, ভোলায় দুই, পিরোজপুরে দুই, পটুয়াখালীতে তিন এবং চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, সিরাজগঞ্জ ও চাঁদপুরে একজন করে রয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই মারা গেছেন গাছচাপা পড়ে।

কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে দেশে মোট এক লাখ ৭৬ হাজার সাত হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘এসব জমিতে থাকা বিভিন্ন ফসলের ৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতি হয়েছে।’

এছাড়া ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে দেশের এক হাজার ১০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান। বিভিন্ন এলাকায় বাঁধ, রাস্তা, ব্রিজ-কালভার্টসহ অবকাঠামোর পাশাপাশি ঘরবাড়ি, কৃষি ও চিংড়ি ঘেরসহ মাছের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সাতক্ষীরার চার উপজেলার কমপক্ষে ২৬টিরও বেশি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানিতে ভেসে গেছে হাজার হাজার বিঘা মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি। বিধ্বস্ত হয়েছে ৮৪ হাজার ঘরবাড়ি। আম্ফানের প্রভাবে খুলনা ও বরিশাল বিভাগ এবং ঢাকা বিভাগের একাংশ নিয়ে গঠিত ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ২১ জেলায় প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এইউএ/এএইচ/এমএস/জেআইএম