১০ মাসে ৬ বার বদলি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৫৯ এএম, ১৭ অক্টোবর ২০২০

গণপূর্ত অধিদফতর দুর্নীতি-অনিয়মের জন্য খবরের শিরোনাম হয়েছে বহুবার। অনিয়মই সেখানকার নিয়ম হয়ে ওঠে কখনও কখনও। ঘটনা পরিক্রমায় আলোচনা হয়, তদন্ত হয়, ফের চাপা পড়ে যায় অন্য ঘটনায়। এ দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি নিয়েও অনিয়মের খবরের শেষ নেই। কেউ ক্ষমতা বলে একই জায়গায় থাকছেন বছরের পর বছর, কেউ আবার বদলি হচ্ছেন প্রতি মাসেই।

গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী গোলাম বাকী ইবনে হাফিজ তেমনই কর্মকর্তা, যিনি বদলি নামের গ্যাঁড়াকলে পড়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে চলছেন অনবরত।

গত ১০ মাসে এই প্রকৌশলীকে বদলি করা হয়েছে ৬ বার। হাফিজের মত আরও অনেকেই এমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এমন ঘটনায় দফতরের অনেকের মাঝেই বদলি আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বদলি বাণিজ্যের শিকার হয়ে কেউ হচ্ছেন বলির পাঁঠা, আবার কেউ থাকছেন বহাল তবিয়তে। আর এ বাণিজ্যের কেন্দ্র থাকছেন প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম, এমন অভিযোগ সবার মুখে মুখে। যদিও ঊর্ধ্বতন আরও কর্মকর্তার নামেও অভিযোগ উঠে এসেছে।

সূত্র জানায়, গত ৫ জানুয়ারি গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী গোলাম বাকী ইবনে হাফিজকে ঢাকা গণপূর্ত উপবিভাগ-৫ থেকে খুলনা গণপূর্ত উপবিভাগ-৩ এ বদলি করা হয়। এর মাত্র ৭ দিনের মাথায় ১২ জানুয়ারি খুলনা থেকে ঢাকা-৪ এ বদলি করে সংযুক্ত করা হয়। এরপর ২ মার্চ আরেক আদেশে ঢাকা-৪ এ রিজার্ভ হিসেবে রাখা হয়।

গত ৩১ আগস্ট এক আদেশে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪ রিজার্ভ থেকে নোয়াখালী গণপূর্ত উপবিভাগ-১ এ বদলি করা হয়। গত ৫ অক্টোবর নোয়াখালী থেকে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪ এ সংযুক্ত করা হয় এবং একই দিন বান্দরবানের লামা গণপূর্ত উপবিভাগে বদলি করা হয়।

এর আগে ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪ থেকে গোলাম বাকী ইবনে হাফিজ পদোন্নতি পেয়ে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে ঢাকা গণপূর্ত উপবিভাগ-৫ এ আসেন।

গোলাম বাকী ইবনে হাফিজের মতো আল আমিন নামে এক নির্বাহী প্রকৌশলীকেও একইভাবে গত ১০ মাসে ৫-৬ বার বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ওয়াহিদ বিন ফরহাদ, সালেহ উদ্দিন আহমেদ, মো. হেলাল উদ্দিন, কামরুল হাসান, কাজী শরীফ উদ্দিন আহমেদ, আল আমিন, মো. নুরুল হাসান, আবু সায়েম খান সহ ১০-১৫ জন প্রকৌশলীকে গত ১০ মাসে একাধিকবার বদলির অভিযোগ উঠেছে।

বদলি হওয়া প্রকৌশলীদের মধ্যে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী গোলাম বাকী ইবনে হাফিজকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘বদলি প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের জন্য স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু ১০ মাসে যদি ৬ বার বদলি হতে হয়, তাহলে সেটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া থাকে না। কোনো কারণ ছাড়াই বারবার বদলি করা হচ্ছে আমাকে। এতে পারিবারিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রকৌশলী জানান, গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম বদলি বাণিজ্যের অংশ হিসেবে তাদের এরকম বদলি করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, তার সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) নন্দিতা রাণী সাহা এবং উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী কল্যাণ কুমার কুণ্ডু মিলে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে বদলি হওয়া প্রকৌশলীদের অধিদফতর থেকে বিভিন্ন কার্যালয়ে বদলি করে অন্য প্রকৌশলীদের এখানে বসিয়েছেন।

১০ মাসে ৬ বার বদলির বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্ত বিভাগের সংস্থাপন শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নন্দিতা রাণী সাহা বলেন, ‘এরকম হয়েছে নাকি? আমার জানা নেই। কার বেলায় হয়েছে বলবেন? তবে হয়ে থাকলেও আমার কোনো হাত নেই, যা হয়েছে সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশেই হয়েছে। আপনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতে পারেন।’

নিয়োগের পর আপনি গত ২০ বছর ধরে একটানা ঢাকায় চাকরি করছেন, আপনার তো কোথাও বদলি হলো না– এমন প্রশ্নের জবাবে নন্দিতা রাণী বলেন, ‘আমার চাকরির বয়স ২০ বছরের একটু কম হয়েছে। তবে যোগদানের পর বদলি হয়নি। সেটা ভিন্ন ব্যাপার।’

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয় গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের সঙ্গে। একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

এএসএস/এমএসএইচ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]