বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ছিল প্রতিটি বাঙালির মনের কথা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৫৬ পিএম, ০৭ মার্চ ২০২১

র‌্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯ মিনিটের যে ভাষণ দিয়েছিলেন তা ছিল বাংলার প্রতিটি মানুষের মনের কথা। বাংলার লাখো-কোটি মানুষ সেদিনের রেসকোর্স ময়দানে সমবেত হয়েছিল তাদের মহান নেতার এই ভাষণ শোনার জন্য; দিক-নির্দেশনা নেয়ার জন্য। সেদিন ভাষণে তিনি যখন বলেছেন, কোর্ট-কাচারি চলবে না, দোকান-পাট বন্ধ থাকবে- তাই হয়েছিল। দোকানপাট সব বন্ধ ছিল। তিনি আরও বলেছিলেন, ব্যাংক খোলা থাকবে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে, আমার লোকজন যেন তাদের বেতন-ভাতা নিতে পারে। সেদিন তাই হয়েছিল।

রোববার (৭ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‌্যাব সদরদফতরে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে র‌্যাব মহাপরিচালক এসব কথা বলেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ স্মরণে ও বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ায় র‌্যাব সদরদফতরে এই আনন্দ উদযাপন অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ প্রসঙ্গে র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, ঐতিহাসিক ৭ মার্চে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ভাষণ দিয়েছিলেন, সেই সময় যে অবস্থা ছিল, তার প্রতিটি ভাষণই এক একটা ইউনেস্কো হেরিটেজে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মতো।

তিনি বলেন, ওই দিন কোনো লিখিত আদেশের প্রয়োজন ছিল না। বঙ্গবন্ধু ওই দিন যে আদেশ দিয়েছিলেন, সারাদেশের মানুষ সেই আদেশ অনুসরণ করেছে। তার আহ্বানে সারাদেশের মানুষ শিহরিত হয়েছে, উজ্জীবিত হয়েছে। তিনি স্বাধীনতার যে আহ্বান করেছিলেন সারাদেশের মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে ইপিআর, মিলিটারি, পুলিশসহ সকল বাহিনীতে যত বাঙালি ছিল, তারা একাত্ম হয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সেদিন কেউ কিন্তু চিন্তা করেনি, আমাদের নেতা যেভাবে তার জীবনকে উৎসর্গ করে জীবনকে বাজি রেখে সব সময় এই দেশের জন্য, দেশের মুক্তিকামী মানুষের জন্য যে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি পুরো বাঙালি জাতিকে উজ্জীবিত করেছেন। এজন্যই দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। মাত্র ৯ মাসের যুদ্ধে বাংলাদের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন। এতে মুষ্টিমেয় কিছু রাজাকার, আলবদর মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল।

পৃথিবীর বিখ্যাত যেসব ভাষণ রয়েছে, সেগুলো জাতিসংঘের ইউনেস্কো দলিল হিসেবে সংরক্ষণ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণটিও সংরক্ষিত হয়েছে। এই ভাষণটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে জাতিসংঘের ইউনেস্কো তার গ্রহণযোগ্যতা ও সার্বজনীনতা আবারও প্রমাণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে র‌্যাব ডিজি বলেন, উন্নয়নের মহাসড়ক থেকে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এলডিসির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে। আগামীতে ২০৩০ সালে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবে বাংলাদেশ। ২০৪০ সালে আমাদের দেশ উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে উঠবে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে একটি আর্থিক সচ্ছলতা এসেছে। এই সচ্ছলতা দিন দিন বাড়ছে। আগামী বিশ্বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে পরিচিত লাভ করবে এবং গর্বের সঙ্গে বলবো যে, আমরা বাংলাদেশের অধিবাসী।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন, বাংলাদেশ খুব দ্রুত একটি স্বনির্ভর দেশ হিসেবে, উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে। সে সময় এর জন্য সবাইকে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বীর মুক্তিযোদ্ধারা তাদের অস্ত্র সমর্পণ করেছিলেন। তার একক আহ্বানে দেশের মানুষ উন্নয়নে একত্রিত হয়ে কাজ শুরু করে, ঠিক তখনই একটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্র বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। আল্লাহর অশেষ রহমতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে গিয়েছিলেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক, র‌্যাবের অপারেশন উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ এফতেখার উদ্দিন, র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার ছাড়াও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার করা হয়। এরপর বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তিতে তৈরি ডকুমেন্টারি দেখানো হয়।

টিটি/এআরএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]