নতুন আইনেই গঠন হবে নির্বাচন কমিশন

সালাহ উদ্দিন জসিম
সালাহ উদ্দিন জসিম সালাহ উদ্দিন জসিম , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৪৪ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০২২
নির্বাচন ভবন, আগারগাঁও, ঢাকা/ফাইল ছবি

নতুন আইনেই গঠন করা হবে পরবর্তী নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত আইনের খসড়া অনুমোদনও দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সংসদের এই অধিবেশনেই আইনটি পাস হবে। সরকার নতুন আইনের মাধ্যমে পরবর্তী কমিশন গঠন করতে চাইছে।

সংবিধান অনুযায়ী, ইসি গঠনের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির। সংবিধানে এ বিষয়ে আইন করার কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু কোনো সরকারই আইন করেনি। এতদিন রাষ্ট্রপতি সরাসরি ইসি গঠন করে দিতেন। সার্চ কমিটির মাধ্যমে বিগত দুটি কমিশন গঠন করেছেন রাষ্ট্রপতি। এবারও একই প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছেন তিনি।

সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ২০ ডিসেম্বর থেকে রাষ্ট্রপতি সংলাপ শুরু করেছেন। সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে নতুন ইসি গঠনের সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে বেশ কিছু দল সংলাপে অংশ নেয়। এবারের সংলাপে ৩২টি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও এতে এ পর্যন্ত অংশ নিয়েছে আওয়ামী লীগসহ ২৫টি দল। তবে বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সিপিবি, বাসদ, জেএসডিসহ (রব) সাতটি রাজনৈতিক দল সংলাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নতুন আইনেই গঠন হবে নির্বাচন কমিশনসার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠিত বর্তমান নির্বাচন কমিশন/ফাইল ছবি

সংলাপে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নানা সময়ে বিশিষ্টজনেরা ইসি গঠনে আইন প্রণয়নের বিষয়ে দাবি জানিয়ে আসছেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২’ করার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকার এই আইনের মাধ্যমেই নতুন কমিশন গঠন করতে চায়।

তবে বাধ হচ্ছে সময়। হিসাব অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখে শেষ হবে বর্তমান হুদা কমিশনের মেয়াদ। এরই মধ্যে নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দিতে হবে। হাতে সময় আছে মাত্র ১৫ কর্মদিবস। অথচ সরকার কেবল ইসি গঠন আইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে। যার নানা প্রক্রিয়া শেষ হয়ে সংসদে উত্থাপন হতে বেশ সময় লাগার কথা। এমন পরিস্থিতিতে চলমান পুরোনো প্রক্রিয়ায় নতুন সিইসি-ইসি নিয়োগ হবে নাকি নতুন আইনে হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

নতুন আইনেই নির্বাচন কমিশন গঠন হচ্ছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘নতুন আইনেই নির্বাচন কমিশন গঠনে আন্তরিক সরকার। আশা করা যায়, স্বল্প সময়ের মধ্যেই আইন পাস করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া যাবে।’

নতুন আইনেই গঠন হবে নির্বাচন কমিশনপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাষ্ট্রপতির সংলাপে অংশ নেয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ/সংগৃহীত ছবি

একই প্রশ্নের জবাবে সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যদি এর মধ্যে আইনটি চূড়ান্ত হয়ে যায় তাহলে নতুন আইনেই কমিশন গঠন করা হবে।’

এত অল্প সময়ে আইন প্রণয়ন করা সম্ভব কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো কিছুই অসম্ভব নয়, অপেক্ষা করুন।’

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন আইন সংসদের চলমান অধিবেশনে পাস করানোর সর্বাত্মক প্রয়াস থাকবে বলেও জানান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদক।

এদিকে, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২’র খসড়া মন্ত্রিসভায় পাসের পর আগামী নির্বাচন কমিশন এই আইনের অধীনে হবে কি না— এমন প্রশ্ন ছিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের কাছে। জবাবে তিনি সোমবার (১৭ জানুয়ারি) বলেন, ‘যদি এর মধ্যে আইন পাস হয়ে যায়, তাহলে হবে। আজ অনুমোদন দেওয়া হলো, হয়তো কাল-পরশু দুদিন লাগবে আইন মন্ত্রণালয়ের। তারপর যদি উনারা সংসদে পাঠান, সংসদেও তো কয়েকদিন লাগবে। স্ট্যান্ডিং কমিটিতে যাবে, উনারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। যদি হয়, তো হয়ে যাবে, অসুবিধা তো নেই।’

নতুন আইনেই গঠন হবে নির্বাচন কমিশনরাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপের পর ব্রিফ করছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের/সংগৃহীত ছবি

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আইনটি চূড়ান্ত করতে খুব বেশি সময় লাগার কথা নয়। এটি খুব বেশি বড় আইন নয়। এ জাতীয় আইন যেহেতু আমরা হ্যান্ডেল করে আসছি, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন আছে। মোটামুটি সেই অনুযায়ী এটা করা হয়েছে।’

তবে সরকার ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির আহ্বানে সংলাপ ও সেই আলোকে সার্চ কমিটি গঠন এবং নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। এর মধ্যে আইনটি চূড়ান্ত হলে আইনের আলোকেই নিয়োগ হবে সিইসি ও অন্যান্য ইসি। তবে আইনে নির্বাচন কমিশন গঠন ও রাষ্ট্রপতির চলমান প্রক্রিয়ায় তেমন তফাৎ নেই। দুটোই সামঞ্জস্যপূর্ণ। এমনকি গেলো দুই বারের ইসি গঠনের বৈধতাও এই আইনে দেওয়া হয়েছে।

এসইউজে/এআরএ/এইচএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]