সাবেক স্ত্রীর কাছ থেকে মেয়েকে ফিরে পেতে ব্যবসায়ীর সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:১১ পিএম, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন ব্যবসায়ী মো. দেলোয়ার হোসেন

আট বছরের মেয়েকে ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মো. দেলোয়ার হোসেন নামে এক গার্মেন্ট ব্যবসায়ী। মিথ্যা মামলা-হামলার শিকারসহ কোটি টাকার ব্যবসাও নষ্ট হয়েছে বলেও জানান তিনি। দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি মিথ্যা মামলা-হামলায় জর্জরিত। আমি এসবের কোনো বিচার চাই না। আমার কোটি টাকারও কোনো বিচার চাই না। আমি শুধু আমার সন্তানকে ফিরে পেতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে হাতজোড় করে একটাই অনুরোধ, তিনি যেন আমার মেয়েকে ফিরে পেতে সহায়তা করেন। আমি এক অসহায় বাবা।

মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এ আকুতি জানান রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার সোনাপুরের পাইকারি গার্মেন্ট ব্যবসায়ী মো. দেলোয়ার হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দেলোয়ার বলেন, ২০১২ সালে মহাখালীর ওয়ারলেস গেট এলাকার বায়তুল আমান জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন মাওলানা মাঈনুদ্দিনের মেয়ের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। একবছর পর আমাদের একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। বর্তমান বয়স আট বছর। বিয়ের প্রায় চার বছর পর ২০১৬ সালে আমি হজ করতে যাই। আমার মেয়ের বয়স তখন তিন বছর। হজে যাওয়ার আগে কেরানীগঞ্জ ইসলাম প্লাজা মার্কেটে ২৮ লাখ টাকা দিয়ে একটি দোকান কিনি। সেই দোকান বায়নাসূত্রে আট লাখ টাকা দেওয়া হয়, বাকি টাকা পরিশোধের আগে আমার হজের ফ্লাইট হয়ে যায়। ২০ লাখ টাকা আমার এক বন্ধুর কাছে রাখা ছিল। তাই আমার এক বন্ধু ও শ্বশুরকে বলি দুজনে মিলে দোকান মালিককে টাকাটা দিয়ে দলিল করে নিতে। আমার শ্বশুর আমার বন্ধুর কাছ থেকে টাকাটা নিয়ে বলে যে আমার কাছে রেখে যাও তোমার কষ্ট করতে হবে না। আমি নিয়ে দিয়ে আসবো। সরল মনে আমার বন্ধু টাকা রেখে চলে যায়।

তিনি বলেন, আমি প্রায় দুই মাস পর হজ থেকে এসে শুনতে পাই আমার দোকান কেনা হয়নি। আমার শ্বশুর টাকা খরচ করে ফেলেছেন। এই টাকা দিয়ে তার ছোট মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। এ বিষয়ে আমাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে জীবনের প্রথম কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। অনেক তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও টাকা ফেরত না পেয়ে একপর্যায়ে আমি আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হই। পরে টাকা দেওয়ার কথা বলে আমার শ্বশুর তার মেয়েকে বাসায় নিয়ে যান।

দেলোয়ার বলেন, মেয়েকে বাসায় নেওয়ার পর থেকে তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। আমি আমার মা, বড় ভাই, ভাবি, ছোট বোন, বোন জামাইসহ বহুবার তাদের বাসায় যাই, যোগাযোগের চেষ্টা করি। কিন্তু তারা বাড়ির গেট না খুলে বরং আমার শ্যালক সাব্বির আহমেদসহ এলাকার কিছু উচ্ছৃঙ্খল ছেলে দিয়ে আমার মা-ভাবিকে তাড়িয়ে দেয়। স্থানীয় প্রভাবশালীর মাধ্যমে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বলে, যদি এখানে থাকি তাহলে পুলিশের মাধ্যমে থানায় নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা দেবে। আমরা ভয়ে তখন নিজ বাড়িতে চলে যাই। তার এক সপ্তাহ পর আমার স্ত্রী ডিভোর্সের চিঠি পাঠায়।

মামলা নিষ্পত্তির জন্য তারা চাপ দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করে দেলোয়ার হোসেন বলেন, একপর্যায়ে উভয়পক্ষের আইনজীবী পরিকল্পিতভাবে মীমাংসার কথা বলে আমাকে মামলাগুলো তুলে নিতে বলেন। আমি সরল মনে তাদের কথা বিশ্বাস করে মামলা তুলে নিই। কিন্তু তারা কোনো মীমাংসায় না এসে বরং আমার নামে একের পর এক মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট ছয়টি মামলা করে। স্ত্রী চলে যাওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত আমার একমাত্র মেয়ে সানজিদা আক্তারের সঙ্গে একবারও আমাকে কোনো যোগাযোগ করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। আমি আমার মেয়েকে দেখতে এবং সমস্যা নিরসনের জন্য বিভিন্ন মহলে আবেদন করতে থাকি। কিন্তু আমার মেয়ের মুখটি একটিবারও দেখার জন্য কেউ কোনো ব্যবস্থা করতে পারেননি। আমি মেয়েকে দেখার জন্য পাগল হযে যাচ্ছি। কী করবো বুঝতে পারছি না। আমার কলিজার সঙ্গে আমার পাঁচ বছর কোনো কথা বলা ও দেখা করার সুযোগ হয়নি এবং আমি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আমার মেয়ের জন্য কাপড়-চোপড়, বই-খাতা, কলম ইত্যাদি পাঠাই, সেগুলো রিসিভ না করে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। তারা কী ভেবে, কেন এমন করছে জানি না। আমার মেয়ে আদৌ বেঁচে আছে কি নাকি মেরে ফেলেছে তাও বুঝতে পারছি না।

তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, আমি এসবের কোনো বিচারও চাই না। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হাতজোড় করে আমার সন্তানকে ভিক্ষা চাই। আমি এক অসহায় বাবা। তিনি যেন আমাকে ন্যায়বিচার পেতে এবং আমার মেয়েকে ফিরে পেতে সহায়তা করেন।

আরএসএম/বিএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।