বেশিরভাগ গৃহকর্মী অন্তত একবার শারীরিক হয়রানির শিকার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:২১ পিএম, ২৫ মে ২০২২

বেশিরভাগ গৃহকর্মীরাই অন্তত একবার শারীরিকভাবে হয়রানির মুখোমুখি হয়েছেন। আর একাধিকবার হয়রানির শিকার হওয়া গৃহকর্মীদের সংখ্যাও কম নয়।

বুধবার (২৫ মে) রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টার ইন মিলনায়তনে ‘ভয়েসিং অ্যান্ড চ্যালেঞ্জিং ওয়ার্কপ্লেস সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট’ শিরোনামে একটি জাতীয় কর্মশালার আয়োজন করা হয়। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) আয়োজিত এ কর্মশালায় ‘দ্য জেন্ডারড প্রাইস অব প্রিক্যারিটি: সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট ইন দ্য ওয়ার্কপ্লেস’ নামক গবেষণা থেকে একটি প্রতিবেদন ও চারটি পলিসি ব্রিফ উন্মোচিত হয়। গবেষণায় হয়রানির শিকার বিষয়টি উঠে এসেছে।

ব্রিটিশ একাডেমির সহায়তায় ইনস্টিটিউট অব ডেভলপমেন্ট স্ট্যাডিজ (আইডিএস), সাসেক্স ও সবুজের অভিযান ফাউন্ডেশন গবেষণাটি করেছে।

গৃহকর্মীরা যে কতভাবে হয়রানির মুখোমুখি হন, সে ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করেন আরেক তরুণ গবেষক মীম মানজুর। তিনি অ্যাড্রেসিং ওয়ার্কপ্লেস সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট অব ইয়াং ফিমেল ডোমেস্টিক ওয়ার্কার্স শিরোনামের একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। গবেষণা সূত্রে জানা যায়, অধিকাংশ গৃহকর্মী অন্তত একবার শারীরিকভাবে হয়রানির মুখোমুখি হয়েছেন। বারবার শারীরিকভাবে হয়রানির মুখোমুখি হওয়া গৃহকর্মীদের সংখ্যাও কম নয়।

অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন বলেন, এই গবেষণাটির দৃষ্টি তরুণদের ওপর ব্যাপকভাবে নিবদ্ধ। বাংলাদেশে একটা বড় অংশ এ দেশের যুব শক্তি। যার অর্ধেকই নারী। আমাদের লক্ষ্য এ যুব শক্তিকে কর্মশক্তিতে রূপান্তরিত করে সেটাকে কাজে লাগানো। সুতরাং কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এ লক্ষ্যে নারীদের সংস্থাগুলোকে সক্রিয় হতে হবে। আর তা করতে হলে শ্রমবাজার নীতি ও প্রকল্পসমূহে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও সুরক্ষার ব্যাপারটি যুক্ত করা প্রয়োজন।

কর্মশালায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিআইজিডির রিসার্চ ফেলো লপিতা হক ও সিনিয়র ফেলো অব প্র্যাকটিস মাহীন সুলতান। যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ভাষা ও প্রচলিত সামাজিক ও লৈঙ্গিক নিয়ম কীভাবে নারীদের কণ্ঠস্বরকে দমিয়ে রাখে ও অভিযোগ ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করে, তাদের বক্তব্যে এসব বিস্তারিত উঠে আসে। ভাষা, সামাজিক কিছু নিয়ম বা, রীতি যৌন হয়রানির মতো বড় সমস্যাকে কীভাবে সাধারণ একটি ব্যাপারে পরিণত করছে, বক্তারা তা নিয়েও আলোচনা করেন। প্রাতিষ্ঠানিক ও অ-প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে এই কারণগুলোর প্রভাব নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন তারা।

এরপর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ও মানবিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আসিফা সুলতানা ‘দ্য ল্যাংগুয়েজ অব হ্যারাসমেন্ট-গ্যাপস বিটুইন পারসেপশান অ্যান্ড এক্সপ্রেশান’ শিরোনামের একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ফেনী ১ আসনের সংসদ সদস্য ও কর্মজীবী নারীর প্রতিষ্ঠাতা শিরিন আক্তার। তিনি বলেন, একজন গৃহকর্মীর জন্য তার কাজটি তার জীবনেরই অংশ। এই কাজের মাধ্যমে তিনি জীবিকা অর্জন করেন। একবার তিনি তার কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির মতো ঘটনার মুখোমুখি হলে, এটি তার কাজের নীতির জন্য একটি বড় আঘাত। যদি তিনি শারীরিক এবং মানসিকভাবে কাজের প্রতি মনোযোগী না হন তবে উৎপাদনশীলতা বাড়বে না। ফলে কি পরিমাণ ক্ষতি হবে তা নির্ণয় করা জরুরি।

এমওএস/আরএডি/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]