‘পদ্মা সেতুর নির্মাণ সহযোগী হতে পেরে আমরা গর্বিত’

সালাহ উদ্দিন জসিম
সালাহ উদ্দিন জসিম সালাহ উদ্দিন জসিম , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:০১ এএম, ১৬ জুন ২০২২

স্বপ্ন, সাহস ও সক্ষমতার পদ্মা বহুমুখী সেতুর সড়কপথের কাজ শেষ। ২৫ জুন হবে উদ্বোধন। পুরোদমে চলছে রেলপথের কাজ। দেশের গর্বের প্রতীক এই কর্মযজ্ঞের সহযোগী অংশীদার দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগ্রুপ প্রাণ-আরএফএল। এই শিল্পগ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (পিডিএল) এবং রেইনবো পেইন্টস যথাক্রমে পদ্মা সেতুর কনস্ট্রাকশন ও রোড মার্কের কাজ করেছে।

বিষয়টি নিয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন আরএফএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর এন পাল। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সালাহ উদ্দিন জসিম।

এই কর্মযজ্ঞে অংশগ্রহণ করতে পারার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আর এন পাল বলেন, ‘পদ্মা সেতু আমাদের গর্ব। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ সেতু। গর্বের এই সেতু নির্মাণের সহযোগী হতে পেরে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত। এ কাজ আমাদের জন্য বড় উৎসাহ ও মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘আরএফএল বাংলাদেশের বড় একটি প্রতিষ্ঠান। এর প্রধান হিসেবে বা এই পরিবারের সদস্য হিসেবে বলতে পারি, এটা সত্যিই আমাদের গর্বের যে, এই সেতুতে আমরা অনেক কাজ করতে পেরেছি।’

jagonews24

সেতুর বিটুমিনের ওপর রোডমার্কের কাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই সেতুর সঙ্গে কানেক্টিং এন-৮ রোড আছে, তার একটা অংশ আমরা তৈরি করেছি। ব্রিজের ওপর বিটুমিনের ওয়ার্কটাও আমরা করেছি। পাশাপাশি এই বিটুমিনের ওপর রোডমার্কের কাজটাও রেইনবো পেইন্টসের সৌজন্যে আমরা করতে পেরেছি। ইতিহাসের অংশ হতে পেরেছি আমরা। এতে সত্যিই আনন্দিত।’

আর এন পাল বলেন, ‘যারা এই সেতু নির্মাণে সম্পৃক্ত ছিলেন, তারা যে দেশীয় একটি কোম্পানিকে কাজগুলো দিয়েছেন, আমাদের মতো প্রতিষ্ঠান যারা বাংলাদেশের জন্য কিছু করতে চাচ্ছি, তাদের জন্য এটা বড় উৎসাহ ও মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

‘একটা সাহসী উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন। বিশ্বব্যাংকের ঋণ নিয়ে যে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় একটা প্রকল্প করার সাহস দেখিয়েছেন এবং করতে পেরেছেন। এ কারণে প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের ভাবমূর্তি সারাবিশ্বে উজ্জ্বল হয়েছে। আমরা বাঙালি হিসেবে আশা করি এ গর্বটা আজীবন আমাদের থাকবে।’

এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘যারা এই সেতু পার হবে এবং জানতে পারবে যে কী প্রেক্ষাপটে আমরা এই সেতু নিজস্ব অর্থায়নে করতে পেরেছিলাম, তারাও বাঙালি হিসেবে গর্ববোধ করবে। সহযোগী পার্টনার হিসেবে আমরাও গর্ববোধ করি, এই বিশাল সেতু ও কর্মযজ্ঞে আমরাও ছিলাম প্রধানমন্ত্রীর পাশে।’

jagonews24

তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু ছাড়াও আমরা মেট্রোরেলে কাজ করছি। তিনশ ফুট রোডে কাজ করছি। এসব বড় প্রজেক্টে কাজ করে আমাদের যে সাহস তৈরি হয়েছে এবং যে কনস্ট্রাকশন টিম তৈরি করতে সুযোগ করে দিয়েছে, আমার মনে হয় এই টিম আগামীতে সুযোগ পেলে আরও অনেক কিছু করতে পারবে বাংলাদেশের জন্য।’

নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আর এন পাল বলেন, এজাতীয় প্রকল্পে বাইরের কনসালট্যান্ট আসেন, বিভিন্ন নেশনের লোকজন এখানে বিভিন্ন সাইটে কাজ করেন। আমরা যখন কাজ করতে যাই, বিভিন্ন ধরনের ফিডব্যাক পাই। তারা বিভিন্ন দেশে অনেকগুলো মেগা প্রজেক্ট করেছে। কাজের সময় এই ফিডব্যাক পাওয়া এবং এগুলো দিয়ে কাজ করে নিজেকে উন্নতি করা বিশাল একটা সম্পদ। আমরা শিখছি মানুষের কাছ থেকে। কারণ আমরা তো আগে সেতু করিনি। যারা কনসালটেন্সি করেছেন, তারা কিন্তু বিভিন্ন ভুল ধরিয়ে আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছেন। এই শিক্ষাটা আগামী দিনে কাজে আসবে। সৃষ্টিকর্তা চাইলে আগামী দিনে বিভিন্ন দেশে বড় বড় মেগা প্রজেক্টে আমরাও কনসালটেন্সির কাজ করবো।

পদ্মায় মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার। দুই প্রান্তে ঢালু উড়ালপথের মাধ্যমে মূল সেতুকে মাটির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এ উড়ালপথের দৈর্ঘ্য তিন দশমিক ৬৮ কিলোমিটার। সবমিলিয়ে মোট নয় দশমিক ৮৩ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতুর পিচ ঢালাইয়ের কাজটি করছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ প্রাণ-আরএফএলের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (পিডিএল)। এছাড়া ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের এন-৮ প্রকল্পের জাজিরা প্রান্তে আট কিলোমিটার ও মাওয়া প্রান্তে আট কিলোমিটারের কাজটিও করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু করে এরই মধ্যে তিন শতাধিক প্রকল্প অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছে পিডিএল।

এসইউজে/এএসএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]