পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ১৮ বহুতল ভবন নির্মাণ করবে ডিএসসিসি: প্রশাসক
পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, এরই অংশ হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো ভবনগুলো ভেঙে আধুনিক ও সুবিধাসম্বলিত ১৮টি বহুতল আবাসন ভবন নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে ভবন নির্মাণকালীন বিকল্প আবাসন, গ্যাস-পানি সমস্যার সমাধান এবং শিশুদের জন্য খেলার মাঠ ও উপাসনালয় নিশ্চিত করতে কাজ করছে ডিএসসিসি।
বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর দয়াগঞ্জে পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিবাস পরিদর্শন শেষে উপস্থিত কর্মী ও স্থানীয় সুধীজনের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নিরাপদ আবাসন ও আধুনিকায়ন
বিদ্যমান ভবনগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থার কথা উল্লেখ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, বর্তমান ভবনগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন ভবন নির্মাণের আগে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। আপনারা যত দ্রুত সহযোগিতা করবেন, আমরা তত দ্রুত আধুনিক আবাসন নির্মাণ সম্পন্ন করতে পারব।
তিনি জানান, মিরনজিল্লা, ধলপুর, গণকটুলি, দয়াগঞ্জ, ওয়ারী ও পোস্তগোলাসহ বিভিন্ন কলোনিতে ১৮টি বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে।
নাগরিক অধিকার ও বিশেষ নির্দেশনা
মো. আবদুস সালাম পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার পাবেন। আবাসন প্রকল্পে মন্দির ও শিশুদের খেলার মাঠ থাকবে।
কর্মীদের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হবে এবং গ্যাস বিল ডিএসসিসির পক্ষ থেকে পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আসন্ন ঈদুল আজহায় ৮ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা দেন তিনি।
সচেতনতার আহ্বান
শহর পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে প্রশাসক বলেন, নাগরিকরা সচেতন না হলে শুধু পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের দিয়ে শহর পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। ড্রেন বা খালে ময়লা ফেলার কারণেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। নগরবাসীকে এ বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
পরিদর্শনকালে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এমএমএ/এমআইএইচএস