যে কারণে বাঁকা পদ্মা সেতু

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:২১ পিএম, ২৪ জুন ২০২২

পদ্মা বহুমুখী সেতুর মোট দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। মুন্সিগঞ্জের মাওয়া থেকে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে বাঁকা হয়ে বয়ে গেছে বাংলাদেশের দীর্ঘতম এ সেতু। অনেকের ধারণা সেতুটি বাঁকা না হয়ে সোজা হলে এর দৈর্ঘ্য আরও কম হতো। কমতো প্রকল্পের ব্যয়। তাহলে সোজা না করে বাঁকা কেন করা হলো?

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, অনেকেই ভাবতে পারেন, কেবল সৌন্দর্য রক্ষার্থে পদ্মা সেতুকে বাঁকা করে বানানো হয়েছে। কিন্তু বিষয়টা এমন নয়। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সেতুটি সোজাও হতে পারতো। কিন্তু প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা ইচ্ছে করেই বাঁকা করে নকশা করেছেন। এমনটা করার প্রধান কারণ দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো।

আরও পড়ুন: পদ্মা সেতু হয়ে ট্রেন যাবে ২০২৩ সালের জুনে

বাঁকা হওয়া প্রসঙ্গে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ইচ্ছা করেই সেতুটি বাঁকা করে নির্মিত হয়েছে। সেতু সোজা হলে চালকের ঝিমুনি আসতে পারে, অনেক চালক হয়তো স্টিয়ারিং ছেড়ে দিয়ে চালাতে পারেন। বাঁকা করার ফলে চালক কিন্তু সাবধানে ড্রাইভ করবেন। এছাড়া সেতু বাঁকা হলে দেখতেও ভালো লাগে। মূলত সৌন্দর্য ও নিরাপত্তার কারণেই পদ্মা সেতু বাঁকাভাবে নির্মিত।

এর আগে বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন প্রয়াত বরেণ্য প্রকৌশলী অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী। পদ্মা সেতু প্রকল্পের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের প্রধান ছিলেন এই বিশেষজ্ঞ।

আরও পড়ুন: ‘পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করা ছিল বিশ্বব্যাংকের চরম ভুল’

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘যদি আমরা আকাশ থেকে দেখি তাহলে বোঝা যায়, সেতুটি ডাবল কার্ভড। অর্থাৎ ডানে-বাঁয়ে দুবার সামান্য বাঁকানো। এমনটা শুধু পদ্মা সেতুর বেলায় করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র, চীন কিংবা জাপানে লম্বা লম্বা মহাসড়কও এভাবে বাঁকিয়ে তৈরি করা হয়েছে।’

এর ব্যাখ্যায় অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেছিলেন, এটি মূলত করা হয় চালকদের কথা চিন্তা করে। একদম সোজা সেতু হলে চালকরা সেতুতে উঠে একঘেঁয়েমিতায় ভোগেন। ক্লান্তি ও জড়তায় ড্রাইভিং থেকে মনোযোগ হারিয়ে ফেলেন। অনেকের তো স্টিয়ারিং একইভাবে ধরে রাখার কারণে ঝিমুনি আসে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে। কিন্তু একটু বাঁকানো হলে চালকদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হয়। এর মাধ্যমে তাদের মাথা সচল থাকে শতভাগ। এড়ানো যায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

এমওএস/এএসএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]