প্রতিকূলতার মধ্যেও উৎপাদনের ধারা অব্যাহত আছে: কৃষিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:০১ পিএম, ২৭ জুলাই ২০২২
এআইপি সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন কৃষিমন্ত্রী

মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও বন্যাসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যে বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদনের ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

বুধবার (২৭ জুলাই) এআইপি বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সম্মাননা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান হয়। এসময় ২০২০ সালের জন্য ১৩ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে এআইপি পুরস্কার তুলে দেন কৃষিমন্ত্রী।

দেশের খাদ্য পরিস্থিতির অবস্থা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭০-৭১ সালে যেখানে মোট খাদ্যশস্য (চাল, গম ও ভুট্টা) উৎপাদন ছিল প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টন, সেখানে ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট খাদ্যশস্যের উৎপাদন ৪ কোটি ৬০ লাখ মেট্রিক টনের ওপরে। চাল উৎপাদনে বিশ্বে পরপর চতুর্থবার তৃতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।

তিনি আরও বলেন, এবার এক লাখ ৬০ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। কিন্তু হাওর এলাকায় বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারপরও বোরোতে ২ কোটি টনের বেশি চাল উৎপাদন হয়েছে। আর এবছর শুধুমাত্র চালের উৎপাদন হয়েছে ৪ কোটি টনের বেশি। চাল, গম ও ভুট্টা মিলে গত বছর দানাদার খাদ্যশস্যের উৎপাদন হয়েছিল ৪ কোটি ৪৩ লাখ টন, আর এ বছর দানাদার খাদ্যশস্যের উৎপাদন ২০ লাখ টন বেড়ে হয়েছে ৪ কোটি ৬৫ লাখ টন। এছাড়া আলু উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ টন, সবজি ২ কোটি ১৫ লাখ টন।

jagonews24

গত দুই বছরে কৃষি মন্ত্রণালয় ১০ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

তিনি জানান, চলতি বছর ৩৬ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। এরই মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের মধ্যে ২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন আলু রপ্তানি ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে কৃষিপণ্যের রপ্তানি ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে দুটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে ভোজ্যতেলের চাহিদার শতকরা ৪০ ভাগ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করার জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পরপরই কৃষকের উন্নয়নে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠকে বঙ্গবন্ধু চাষিদের সব বকেয়া খাজনার সুদ মওকুফ করে দেন। ২৫ বিঘা পর্যন্ত খাজনাও মওকুফ করার ঘোষণা দেন। জমির মালিকানার সর্বোচ্চ সিলিং ১০০ বিঘা নির্ধারণ করেন। পাকিস্তানি শাসন আমলে রুজু করা ১০ লাখ সার্টিফিকেট মামলা থেকে কৃষকদের মুক্তি দেন।

এআইপি সম্মাননা কৃষিখাতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কৃষকদের সম্মান জানানোর জন্য এটি একটি নতুন উদাহরণ। এর ফলে কৃষি পেশার মর্যাদা আরও বাড়বে।

অনুষ্ঠানে কৃষি সচিব মো. সায়েদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, অতিরিক্ত সচিব ওয়াহিদা আক্তার।

এনএইচ/জেডএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।