ছিটমহল বিনিময়ে আপত্তি তুলে নিয়েছে মমতা


প্রকাশিত: ০৯:৫১ এএম, ০৩ ডিসেম্বর ২০১৪

ছিটমহল হস্তান্তর নিয়ে আপত্তি তুলে নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিবঙ্গের মুখ্য সচিব সঞ্জয় মিত্র কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে এ কথা জানিয়েছেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকার চায় ৬৫ বছর ধরে ঝুলে থাকা বিষয়টির সমাধান হোক। ভারত ও বাংলাদেশের ছিটমহল বিনিময়ে নীতিগতভাবে কোনও আপত্তি নেই রাজ্য সরকারের। তবে ছিটমহলের যে অংশ পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত হবে, সেখানে প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রণয়ন ও পরিকাঠামো উন্নয়নে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। রাজ্য চায় সেই আর্থিক দায়িত্বের পুরোটাই নিতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে।

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার কোচবিহারের জনসভায় রাজ্য সরকারের এই অবস্থান পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর জনসভার জন্য ছিটমহল লাগোয়া কোনও মাঠ বাছার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। তখনই স্পষ্ট হয়েছিল, জনসভায় ছিটমহল নিয়ে কোনও বড় খবর ঘোষণা করতে চান মমতা। শেষ পর্যন্ত কোচবিহারের প্রত্যন্ত এলাকা ডাকুর হাটকে তার জনসভার জন্য বেছে নেয়া হয়েছে। এখানে তার মঞ্চের দেড়শ’ মিটার পিছনেই বাংলাদেশি ছিটমহল করলা। ছিটমহলের বাসিন্দারাও জনসভায় আসবেন তা সবার জানা।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে স্থলসীমান্ত চুক্তির খসড়াটি অনুমোদিত হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের দুই প্রতিনিধি সুগত বসু ও মুমতাজ সংঘমিতা এত দিন বিরোধিতা করে এলেও এই বৈঠকে চুক্তির পক্ষেই সায় দেন। গত সোমবার ভারতের পার্লামেন্টে বিনাবাধায় রিপোর্টটি উত্থাপিত হয়েছে।

পাঁচ বছর আগে এই চুক্তির খসড়া রচনার সময়েই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে জানিয়ে দিয়েছিল, ছিটমহলবাসীর পুনর্বাসন প্রকল্পটি রাজ্য প্রশাসন রূপায়ণ করলেও সম্পূর্ণ আর্থিক দায়ভার তারাই নেবে। এ জন্য ৩০৮ কোটি টাকার একটি তহবিলও তৈরি করে রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

মমতা সরকারের এই অবস্থান পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি’র নেতা দীপ্তিমান সেনগুপ্ত জানান, স্থলসীমান্ত চুক্তি বিল সংসদে পাশ হওয়াটা এখন সময়ের অপেক্ষা। আশার আলো দেখছেন দু’দেশের ১৬২টি ছিটমহলের প্রায় ৫৬ হাজার অধিবাসী। - বাসস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।