ইউপি চেয়ারম্যানের দম্ভোক্তি

ওসি সাহেব, এরকম একশ মামলা দিলেও সমস্যা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৯:৫৮ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
ইউপি চেয়ারম্যান লেয়াকত আলীকে কারাগারে নেওয়া হচ্ছে

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলার মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান লেয়াকত আলীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের বাঁশখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রিমান্ড শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে কারাগারে নেওয়ার সময় প্রিজন ভ্যানের দরজায় দাঁড়িয়ে বাঁশখালী থানার ওসি কামাল উদ্দিনকে উদ্দেশ করে লেয়াকত আলী বলেন, ‘ওসি সাহেব, এরকম মামলা ১০০টি দিলেও সমস্যা নেই’।

লিয়াকত আলীর এমন বক্তব্যে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত তার সমর্থকরা হাততালি দেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে বাঁশখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঈনুল ইসলামের আদালতে লিয়াকত আলীর পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, গণ্ডামারার একটি মামলায় লেয়াকত আলীকে সকালে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তার পাঁচদিনের রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি গণ্ডামারায় একটি ঘটনার জের ধরে লেয়াকত আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তখন পুলিশ জানিয়েছিল, একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গণ্ডামারায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বালু ভরাটের কাজ করছিল। গত ৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাকে করে মালামাল নিয়ে কাজ করতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে যান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। তারা ফেরার পথে তাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেন চেয়ারম্যান লেয়াকতের অনুসারীরা। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি পুলিশ মীমাংসা করতে গেলে পুলিশের ওপর চড়াও হন তারা। একপর্যায়ে পুলিশের ওপর দফায় দফায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে পুলিশের চার সদস্য আহত হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। ওইসময় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

এরপর লেয়াকত আলীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, পুলিশের ওপর হামলা ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় তিনটি মামলা হয়। এ মামলায় লেয়াকত আলীকে আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

বাঁশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন বণিক বলেন, গণ্ডামারায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়। মামলার আসামি লেয়াকত আলীর পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত শুনানি শেষে তাকে একদিনের রিমান্ড দিয়েছেন।

২০১৬ সালের এপ্রিলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিরোধিতা করেন লেয়াকত আলী। ওই মাসে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধ নিয়ে সংঘর্ষে চারজন নিহত হন। এরপর আলোচনায় আসেন বিদ্যুৎকেন্দ্র বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া লেয়াকত। বিদ্যুৎকেন্দ্রকে কেন্দ্র করে নানান ঘটনার তার বিরুদ্ধে ২০টি মামলা রয়েছে। ২০১৬ সালের ওই ঘটনার পর জামিনে বেরিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঠিকাদারি কাজে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

ইকবাল হোসেন/কেএসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।