সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:০৭ পিএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে ফেসবুক, ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নানা চ্যানেলকে আইনশৃঙ্খলা কমিটি চিঠি দিয়েছে, কিন্তু এতে কোনো লাভ হয়নি। তাই আমরা চাই এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর কার্যালয় বাংলাদেশে স্থাপন হোক। যেন আমরা প্রচলিত আইনের মধ্যে থেকে মিথ্যাচার নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।

রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বলেন, সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণে আমরা ব্যর্থ। আইনশৃঙ্খলা কমিটি বারবার চেষ্টা করেছে। যারা এগুলো নিয়ন্ত্রণ করে- ফেসবুক, ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নানা চ্যানেলকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে তারা তেমন কোনো সাড়া দেয় না। তার প্রধান কারণ হিসেবে আমরা ধরেছি, তাদের কোনো হেড অফিস না থাকায় আমরা তাদের নিয়ন্ত্রণ সেভাবে করতে পারি না।

তিনি বলেন, আমাদের পাশের দেশ ভারতে এসব চ্যালেনের কার্যালয় আছে, সেখানে কোনো অন্যায় হলে জবাবদিহি করতে হয়। অথচ আমাদের দেশে ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে মিথ্যাচার করছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। যদি তাদের কার্যালয় থাকতো, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা যেতো।

মোজাম্মেল হক বলেন, আইনানুগভাবে যে একটা প্রতিকার নাগরিক পেতে পারে। কিন্তু সেটা সম্ভব হচ্ছে না। তাই আমরা চাই এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর কার্যালয় বাংলাদেশে রাখা হোক। যেন আমরা প্রচলিত আইনের মাধ্যমে মিথ্যাচার নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।

সাইবার ক্রাইমের ব্যর্থতা কোথায় জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটা নাগরিকের অধিকার আছে, সম্মান আছে। যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অহেতুক মিথ্যাচার করে, আমরা তো এসব মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলিনি। বলা হয়েছে যারা মিথ্যাচার করছে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কারণ যে করছে সে অন্য কোনো দেশে বসে এসব মিথ্যাচার করছে।

‘এজন্য আমাদের দেশে এসব সামাজিক মাধ্যমের কার্যালয় করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা তাদের অনেকবার চিঠি দিয়েছি। তারা যে উত্তর দিয়েছে সেটা আমাদের কাছে যথাযথ মনে হয়নি। আর তাদের আমরা কোনো লাইসেন্স দেই না। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। তারা শুধু আমাদের ঘোরাচ্ছে। আমরা চাচ্ছি, এটা যেন দ্রুত বাস্তবায়ন হয়।’

তিনি আরও বলেন, মাদক গোটা জাতির জন্য শঙ্কার বিষয়। মাদক কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং কলাকৌশল বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এরই মধ্যে মাদক কারবারি, সেবনকারী ও পাচারকারীদের তালিকা করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। সেসব তালিকা ক্রস চেক করা হবে। তারপর আমরা একটি স্থায়ী তালিকা করবো। কারণ পৃথিবীর সব দেশেই যারা এসব করে তাদের একটা তালিকা থাকে। সব সংস্থাই আলাদা আলাদা তালিকা করবে। পরে সমন্বয় করা হবে। তবে এই তালিকা প্রকাশ করা যাবে না।

মন্ত্রী বলেন, গোয়েন্দা সংস্থা সম্প্রতি রিপোর্ট দিয়েছে- আমাদের দেশে প্রচুর অবৈধ অস্ত্র আসছে। এর মধ্যে অনেকে জাল লাইসেন্স তৈরি করে এনেছে। এসব বিষয়ে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে। আর যেসব অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্র আছে, সেখানে সুনির্দিষ্ট চোরাকারবারির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র জব্দ করা হবে। এক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে, যেন অন্য কোন ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এমএএস/আরএডি/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।