নার্সকে থাপ্পড় দেওয়ায় রোগীর স্বজনদের আটকে রেখে মারধর
ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এক নার্সকে থাপ্পড় মারার জেরে স্বজনদের আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। মরদেহ আটকে রাখা হয় বলেও দাবি করেন রোগীর স্বজনরা।
পুলিশের হস্তক্ষেপে বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ছাড়া পান স্বজনরা।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, ৩ এপ্রিল রাতে মাগুরার শ্রীপুর এলাকার আনোয়ারা বেগম নামের এক নারী হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। তিনদিন সিসিইউতে থাকা ওই রোগী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে মারা যান। ওষুধের ভুল প্রয়োগে তার মৃত্যু হয়েছে।
মারা যাওয়ার রোগীর পুত্রবধূ সোনিয়া বেগম বলেন, ‘রোগীর মৃত্যু নিয়ে আমাদের সঙ্গে কর্তব্যরত এক নার্সের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আমার ভাই এক নার্সকে থাপ্পড় মারেন। এতে কর্তব্যরত নার্সরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। নার্সের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা যোগ দিয়ে আমার স্বামী অহিদুল ইসলাম ও ননদকে একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করা হয়।’
সোনিয়া আরও বলেন, ‘খবর পেয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন রঞ্জন সরকার ও কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিলসহ পুলিশের কয়েকটি টিম উপস্থিত হয়। দুপক্ষের সমঝোতা করিয়ে রাত সাড়ে ১২টায় স্বজনদের উদ্ধার করে এবং মরদেহ বুঝিয়ে দেয়।’
ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কেউ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন রঞ্জন সরকার বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। কারো অভিযোগ না থাকায় এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। মরদেহ আটকে রাখার কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এন কে বি নয়ন/এসজে/এমএস