সাইবার নিরাপত্তা আইন
বিদেশিদের অনুকম্পা পেতে কেউ কেউ অভিযোগ করেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বিদেশি সাংবাদিকদের অনুকম্পা পেতে সদ্য পাস হওয়া সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়ে কেউ কেউ অভিযোগ করেন বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
জাতিসংঘের ৭৮তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল ১৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে যাবে। এর দুদিন পর ১৯ সেপ্টেম্বর শুরু হবে অধিবেশন। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
সাইবার নিরাপত্তা আইন পাস হয়েছে। কিন্তু সাংবাদিক, সুশীল ও নাগরিক সমাজ এটিকে স্বাগত জানায়নি। বিশ্বের কোথাও থেকে এ আইনের ক্ষেত্রে সাধুবাদ পেয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘শোনেন, আপনার মায়ের বিরুদ্ধে যদি কেউ ওয়েবসাইটে একটা বাজে কথা লিখে দেয়, তখন আপনি কী করবেন? সরকারকে গালি দেবেন। বলবেন, সরকার এটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।’
আরও পড়ুন: যুক্তরাজ্য থেকে যে কোনো বন্দিকে ফিরিয়ে আনা সহজ হবে
এ সময়ে পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আগে আইনটি পড়েন, পড়ে দেখেন যে এটি কী ধরনের আইন। তারপরে অভিযোগ করার জন্য হয়তো অভিযোগ করবেন। কেউ কেউ বিদেশি সংবাদমাধ্যমের অনুকম্পা পাওয়ার জন্য এই অভিযোগ করেন।’
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘আগের আইনটি বাতিল করে নতুন আইন করা হয়েছে। সেখানে যে উদ্বেগগুলো ছিল, সবকিছু ভালোমতো অ্যাকোমোডেট করা হয়েছে। আশা করছি, সবাই এটি গ্রহণ করবেন।’
‘যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা আগের আইনটির কিছু বিষয় পরিবর্তন করতে নিয়মিত বৈঠক করতেন। তাদের সেসব বিষয় সামগ্রিকভাবে সমাধান করা হয়েছে। বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা আইনের চেয়েও কুখ্যাত আইন পশ্চিমা বিশ্বে আছে। আমার-আপনার জ্ঞানের অভাবের কারণে সবসময় সেই তুলনা করতে পারি না।’
বাংলাদেশের কেউ এ আইনকে স্বাগত জানায়নি কেন, প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আইনটি পাস হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমালোচনা কে করেছেন, আদৌ করেছেন কি না- এ রকম তালিকা থাকলে আমাদের দেবেন।’
আরও পড়ুন: রাতে লিবিয়া যাচ্ছে বাংলাদেশের ত্রাণ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আপনি জানিয়েছেন। আপনি নিশ্চিত না কেন, প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তারা আমাদের দাওয়াত দিয়েছেন। সেখানে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তার (প্রধানমন্ত্রীর) স্বাস্থ্য ঠিক থাকলে, তিনি যোগ দেবেন। কারণ সেখানে লম্বা লাইন করতে হয়। সে কারণে সরকারপ্রধানদের কর্মসূচির চূড়ান্ত পর্যায়ে আমরা চূড়ান্ত করি। আগে আমরা চূড়ান্ত করি না।’
বাংলাদেশি প্রতিনিধিরা এখান থেকে চার্টার্ড বিমান নাকি বাণিজ্যিক কোনো ফ্লাইটে যাবেন, প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ঢাকা-লন্ডন ফ্লাইটে যাবেন। এরপর তিনি অন্য কোনো বাণিজ্যিক এয়ারলাইনে যাবেন।’
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী কতজন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সফরসঙ্গীর সংখ্যা ইদানীং খুব কমে গেছে, যারা ব্যবসায়ী, তারা নিজের পয়সায় যাবেন। তবে সঠিক সংখ্যা আমি জানি না।’
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাম্ব্যাসেডর-অ্যাট-লার্জ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এরই মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আপনাদের প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম বলেছেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যারা নিরাপত্তা বিষয়টি দেখেন, তারা থাকবেন।’
এরপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আমরা যখন গিয়েছিলাম, তখন নিরাপত্তাকর্মী ছাড়া আমরা মাত্র বারোজন গিয়েছিলাম।’
আইএইচআর/কেএসআর/জেআইএম