তেঁতুলিয়ায় নৌকার ভরাডুবি : নৌকা শূন্য একটি কেন্দ্র
পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া উপজেলার ৫নং বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাদশা সুলায়মানের নৌকা প্রতীক নিয়ে ভরাডুবি হয়েছে। তিনি ওই ইউনিয়নের ৪৩নং নারায়ণগছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে একটি ভোটও পাননি।
ওই কেন্দ্রের পোলিং এজেন্টরা ভোট না দেওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিষয়টি আলোচিত হয়েছে ইউনিয়ন আর উপজেলা ছাড়িয়ে জেলা পর্যায়ে।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৫নং বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪৩নং নারায়ণগছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা ৫৯৬ জন। এই কেন্দ্রে মোট ভোট পড়েছে ৫৩৩টি। যার শতকরা হার ৮৯ শতাংশ। এর মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ৫১৪টি এবং নষ্ট হয়েছে ১৯টি ভোট। ৫১৪ বৈধ ভোটের মধ্যে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী তারেক হোসেন চশমা প্রতীক নিয়ে পান ৩৬৫ ভোট, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে পান ৭১ ভোট, কলিম উদ্দীন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পান ৫৮ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তফা জামাল আনারস প্রতীক নিয়ে পান ২০ ভোট।
আর আওয়ামী লীগ প্রার্থী বাদশা সুলায়মান এর নৌকা প্রতীক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী তজিবদ্দিন এর ঘোড়া প্রতীকের কোনো ভোট পড়েনি।
শুধু নারায়ণগছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নয়। ৫নং বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের বাকি ৮টি ভোট কেন্দ্রেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাদশা সুলায়মানের নৌকা প্রতীকের ভরাডুবি হয়েছে। এই ইউনিয়নের মোট ৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে বাকি ৮টি ভোটকেন্দ্রে তিনি সর্বমোট মাত্র ৯৯ ভোট পেয়ে ৫ম স্থান পান। এর মধ্যে তিনি ৩৭নং লালগছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ৫ ভোট, ৩৮নং হারাদীঘি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ২ ভোট, ৩৯নং বন্দিভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ৪ ভোট, ৪০নং নাওয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ৮ ভোট, ৪১নং কাটাপাড়া মাদরাসা ভোটকেন্দ্রে ৪৮ ভোট, ৪২নং সরদারগছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ২৬ ভোট, ৪৪নং বুড়াবুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ৪ ভোট এবং ৪৫নং আইবুল হক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ২ ভোটসহ মোট ৮টি ভোটকেন্দ্রে মাত্র ৯৯ ভোট পান।
অন্যদিকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. তারেক হোসেন চশমা প্রতীক নিয়ে ওই ইউনিয়নে ২ হাজার ৭৭৬ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
৪৩নং নারায়ণগছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ইউনুস আলী তার কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে কোনো ভোট নেই উল্লেখ করে বলেন, এখানে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।
এনিয়ে বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতারা কোনো মন্তব্য করেননি। তবে নারায়ণগছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে একটি ভোটও না পড়ার ঘটনায় অবাক হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইয়াছিন আলী মণ্ডল। এ নিয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি চমকে উঠেন। তিনি বলেন, সেখানে একজনও নৌকায় ভোট দেননি ! শুনে আমি অবাক হলাম।
তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট বলেন, ওই কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে একটিও ভোট না পাওয়ার খবর জেনেছি। কি কারণে এমন হলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের দলীয় নেতাকর্মীদের ডেকে কথা বলা হবে।
সফিকুল আলম/এমএএস/এবিএস