খুলনার জেল সুপার ও জেলারকে আদালতে তলব


প্রকাশিত: ১০:৪৪ এএম, ২৪ মার্চ ২০১৬

সুস্থ আসামিকে মানসিক রোগী সাজিয়ে সুবিধা দিয়ে অন্যত্র পাঠানোর অভিযোগে খুলনা কারাগারের জেল সুপার মো. কামরুল ইসলাম ও জেলার জান্নাতুল ফরহাদকে স্ব-শরীরে আদালতে হাজির হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

দণ্ডবিধির ২১৭ ও ২১৯ ধারার অপরাধের অভিযোগ এনে বুধবার খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিম এমএলবি মেছবাহ উদ্দিন আহমেদ এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, আদালতে বিচারাধীন জিআর মামলা নং-৬৬/১৫ চার্জ গঠনের জন্য দিন ধার্য করা হয়। ওই মামলার আসামি মো. জুয়েলকে গত ১১ মার্চ মানসিক রোগী হিসেবে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাবনা জেলা কারাগারে প্রেরণ করে জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আদালতের কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি।

গত ২১ মার্চ পাবনা কারাগারের জেল সুপার মো. ওবায়দুর রহমান স্বাক্ষরিত এক ফ্যাক্স বার্তার (স্মারক নং ৪৪.০৭.৭৬০০.১৩৪.০১.০০৯.১৬-৯০১/২) মাধ্যমে এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন আদালত।

আদালতের আদেশে বলা হয়, ১৫ ফেব্রুয়ারি আসামি মো. জুয়েল মামলার ধার্যদিনে আদালতে হাজির ছিলেন (আদেশ নং-১৮)। এ সময় তাকে আদালত কর্তৃক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এমন কি তার পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের জন্য লিগ্যাল এইড অফিসারকে অনুরোধও করা হয়। আদালতে উপস্থিত থাকা অবস্থায় আসামির আচরণ মানসিক অসুস্থ এ রকম কোনো বিষয় আদালতের পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েনি। এছাড়া এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কর্তৃক আদালতে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) আসামির মানসিক অসুস্থতা বিষয়ে কোনো কিছু উল্লেখ করেননি।

পুলিশ রেগুলেশন বুক (পিআরবি)`র ২৬৭ অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- আমলযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি পাগল অথবা পাগল নয় সে বিষয়ে পুলিশ কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে না। কোনো মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যদি আসামির মধ্যে এ ধরনের লক্ষণ দেখতে পান তাহলে তা পরীক্ষার জন্য আদালতের কাছে অনুরোধ জানাবেন। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩ (৪৬৪-৪৭৫) ধারার অধ্যায়ে উল্লেখিত পাগল/মানসিক অসুস্থ ব্যক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট আদালতের।

আদেশে আরো বলা হয়, খুলনা জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. কামরুল ইসলাম ও জেলার জান্নাতুল ফরহাদ আদালতের অনুমতি ছাড়াই কারাগারে থাকা জিআর মামলা নং ৬৬/১৫`র মামলার আসামি মো. জুয়েলকে পাগল ও মানসিক অসুস্থ সাব্যস্ত করে উন্নত চিকিৎসার নামে পাবনা কারাগারে প্রেরণ করেছেন।

আসামিকে সুবিধা পাইয়ে দিতে আদালতের অজান্তে তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড করেছেন বলে আদালত ধারণা করছেন। এজন্য জেল সুপার ও জেলারের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১৭ ও ২১৯ ধারায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা আগামী ১১ এপ্রিলের মধ্যে আদালতে স্ব-শরীরে হাজির হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর জন্য আদেশ দেয়া হয়। এছাড়া মামলার ধার্য তারিখে আসামি মো. জুয়েলকে আদালতে হাজিরেরও নির্দেশ দেয় আদালত।

এ বিষয়ে খুলনা জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. কামরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আদালতের আদেশ হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আলমগীর হান্নান/এআরএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।