সম্মিলিত চেষ্টাই পারে শিশু নির্যাতন বন্ধ করতে


প্রকাশিত: ০১:১৬ পিএম, ৩১ মার্চ ২০১৬

‘পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এবং গণমাধ্যমের সম্মিলিত চেষ্টাই পারে শিশু নির্যাতন বন্ধ করতে। আজকের সমাজ যেভাবে শিশুদের বাসযোগ্যহীন হয়ে পড়েছে সেখান থেকে মুক্তি দিতে প্রয়োজন সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। তাছাড়া, শিশুর প্রতি চলমান মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন বন্ধ করতে পরিবারের পাশাপাশি প্রত্যেকটি মানুষের সচেতনতাই মূখ্য ভূমিকা পালন করবে।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার আর্টস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘সাম্প্রতিক শিশু হত্যা ও সামাজিক অস্থিরতা প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভাটির আয়োজন করে ‘কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড রিচার্স’ (কোর)।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘স্বাধীনতার এতো বছরে এসেও আজ ২০১৬ সালের প্রথমে শিশু নির্যাতন নিয়ে আমাদের আলোচনা সভা করতে হচ্ছে যা আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। তবে আশার বাণী হচ্ছে দেশে যে শিশু নির্যাতন চলছে তা অন্যদের তুলনায় অনেক কম।’

তিনি বলেন, ‘আজ আমরা আমাদের ব্যক্তি স্বার্থে, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে, পারিবারিক কলহের জের ধরে শিশুকে বলি হিসেবে ব্যবহার করছি। তাই এ অবস্থা থেকে আমাদের বের হয়ে আসা দরকার। এটি একার দ্বারা সম্ভব নয় সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে এ শিশু নির্যাতন বন্ধ করতে। তার জন্য প্রয়োজন অপরাধীকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা। এবং এর পরবর্তীতে যেন আর শিশু নির্যাতন না হয় তার জন্য সে শিক্ষা দেয়া। যেটি আমরা প্রাথমিক থেকে শুরু করতে পারি। সেখানে যদি আমরা শিশুদের নৈতিক, সমাজিক ও দেশপ্রেম শিশুদের শিক্ষা দিতে পারি তাহলে তা অনেকাংশে কমে যাবে। তাছাড়া পরিবার থেকে খেলার মাঠ এবং স্কুলে শিশুর নিরাপত্তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।’

উপাচার্য বলেন, ‘শিশু নির্যাতন বন্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকা বর্তমানে অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তা আরো বৃদ্ধি পাবে। তবে গণমাধ্যমকে অবশ্যই স্বাধীন থাকতে দিতে হবে। তাদের সাংবাদিকদের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা আমাদের দিতে হবে।’

arefin

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান  অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া বলেন, আজ দেশে যেভাবে যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবার তৈরি হচ্ছে তাতে কিন্তু শিশুর দেখবাল করার লোক কমে যাচ্ছে। তাই পরিবারের পরিবর্তে শিশুদের যে সোস্যাল সার্ভিস দেয়া দরকার তা কিন্তু সেভাবে দেয়া হচ্ছে না। কিন্তু এ পরিস্থিতিতেও মানুষের মধ্যে যে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে তার জন্য বড় ধরণের ভূমিকা পালন করছে গণমাধ্যম।’

গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, ‘আজ সমাজে ধনী-গরীব, উঁচু-নিচুর যে ব্যবধান তা তীব্রমাত্রায় ধারণ করছে। এমতাবস্থায় গণমাধ্যমকে যেভাবে ট্রুথপুল, ফেয়ারন্যাস থাকা দরকার, সেভাবে থাকতে পারছে না। কারণ আমরা আজ সব কিছুর শুরুতে ঘটনাটাকে পলিটিক্যালভাবে দেখা শুরু করি। আজ গণমাধ্যমগুলো কারা পরিচালনা করছে, মূল চেয়ারে কারা সেটা দেখতে হবে। সাথে সাথে আমরা কি ক্রাইমকে খুব বেশী এ্যানকারেজ করছি সেটাও ভাবা উচিত।’

সেভ দ্যা চিলড্রেন এর চাইল্ড প্রটেকশন ডিভিশনের পরিচালক লায়লা খন্দকার বলেন, ‘গণমাধ্যমে শিশু নির্যাতনের যে চিত্র আসছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তবে তা আরো ভালো করে আসা দরকার। তাছাড়া কোন ঘটনা যখন গণমাধ্যমে আসে তার পরবর্তী ফলোআপটা গণমাধ্যমে খুবই কম হয়ে থাকে। তাই গণমাধ্যমের সে সকল শিশু নির্যাতন কিংবা ঘটনার শেষটা কি হয়েছে সেটি খতিয়ে দেখা উচিত।’

সংগঠনের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক তৌহিদুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব সুলতানা রহমান, ইকবাল বাহার প্রমুখ।

এমএইচ/এসকেডি/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।