‘বিমানবালা’ নন, যেন তারা ‘ট্রেনবালা’
বিমানে ‘বিমানবালা’ থাকলেও ট্রেনে ‘ট্রেনবালা’ চোখে পড়ে না। সাধারণত রেলের কোচগুলোতে যাত্রীসেবায় এটেন্ডেন্টদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। কিন্তু এবার ট্রেনেও যেন যুক্ত হলো ‘ট্রেনবালা’। আর সেটি হয়েছে সদ্য চালু হওয়া ঢাকা-কক্সবাজার রুটের ‘কক্সবাজার এক্সেপ্রেস’ ট্রেনে। যেখানে নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে যাত্রীসেবায় ৯ জন নারী এটেন্ডেন্ট এই ট্রেনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
তাদেরই একজন চট্টগ্রামের একটি কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ফাহমিদা সাফনান। অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেখে আবেদন করেন কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টুয়ার্ড পদে। নিয়োগও পেয়ে যান। বাংলাদেশ রেলওয়ের ইতিহাসে এবরই প্রথম নারীদের এই পদে নিয়োগ দেওয়া হলো। শুধু সাফনান নন, তার মতো এমন আরও কয়েকজন নারী স্টুয়ার্ড নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ট্রেনে।
আরও পড়ুন: প্রথম দিনে যাত্রীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা রেলওয়ে ডিজির
শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফেরার পর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে নারী স্টুয়ার্ড ফাহমিদা সাফনানের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

ফাহমিদা জাগো নিউজকে বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর পরিবারকে জানাই। পরিবারের কেউ প্রথমে রাজি হয়নি। পরে তাদের রাজি করিয়েছি। আজ বাসা থেকে বের হওয়ার সময় পরিবারের সদস্যরা আমাকে ‘ট্রেনবালা’ বলে সম্বোধন করছিল। বিষয়টা আমার খুবই ভালো লাগলো।
তিনি বলেন, ট্রেনে যখন কক্সবাজার থেকে ঢাকায় এলাম যাত্রাপথে যাত্রীদের মধ্যেও অনেকে বলতে শুরু করেন- ‘আপনারা তো এখন ট্রেনবালা হয়ে গেলেন।’ জবাবে বললাম- ঠিক আছে, আপনারা যে নামেই ডাকেন, ডাকতে পারেন।
আরও পড়ুন: ট্রেনে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় আসতে পেরে উচ্ছ্বসিত যাত্রীরা
নাদিয়া সুলতানা নামের আরেক নারী স্টুয়ার্ড জাগো নিউজকে বলেন, প্রথমবারের মতো এই পদে নারীদের নিয়োগ দেওয়া হলো। অনেক ভালো লাগছে যে যাত্রীদের সেবা দেওয়ার সুযোগ পেলাম। এটি একেবারে নতুন এক অভিজ্ঞতা। সবার সঙ্গে হাসিখুশিভাবে দিনটা কেটে গেল। ভালোই লাগলো।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. কামরুল আহসান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় নারী ক্ষমতায়নের ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে ৯ জন নারী এটেন্ডেন্ট সংযুক্ত করেছি। আশা করছি তারা ভালো যাত্রীসেবা দিতে পারবেন।
আরএসএম/এমকেআর