লন্ডনে বঙ্গবন্ধুর ছবির অবমাননা, বিচার করতে হবে বাংলাদেশি আইনে

তানভীর আহমেদ
তানভীর আহমেদ তানভীর আহমেদ , লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক
প্রকাশিত: ১২:৪২ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাজাকে কেন্দ্র করে লন্ডনে অবস্থানরত দলটির নেতাকর্মীরা প্রতিবাদের যে নজির সৃষ্টি করেছেন সেটিকে ১৯৭৫ সালের পুনরাবৃত্তি বলা যায়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যুক্তরাজ্য দূতাবাসে বন্ধুবন্ধুর খুনিদের দোসররা যেভাবে হামলা চালিয়েছিলো ঠিক একই কায়দায় ৭ ফেব্রুয়ারি হামলা হয়েছে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে।

ব্রিটেনের মতো সভ্য দেশে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ কিংবা স্মারকলিপি প্রদান করা একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে যুক্তরাজ্য বিএনপি যেভাবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান তছনছ করে জাতির জনকের ছবির অবমাননা করেছে সেটি পুরো জাতিকে স্তম্ভিত করেছে। দলীয় চেয়ারপার্সনের জেলদণ্ডের ঘটনায় নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হবেন, তারা প্রতিবাদ জানাবেন, স্মারকলিপি দেবেন তাদের ক্ষোভের বহির্প্রকাশ ঘটাবেন তাই বলে  হাইকমিশনে প্রবেশ করে জাতির জনকের ছবি ভাঙচুর করে ফেলতে হবে? শুধু তাই নয় দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারিকে হুমকি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।

সাধারণত ব্রিটিশ পুলিশ এধরনের ছোটখাটো সভা সমাবেশে নিরাপত্তার সময় কোন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বহন করে না। তবে সহিংস ঘটনার আংশকা থাকলে রায়ট পুলিশ তাদের প্রস্তুতি নিয়ে আসে। ৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশটি লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের অনুমতি নিয়েই করা হয়েছিলো, যুক্তরাজ্য বিএনপি সেই অনুমতিপত্রে লিখিতভাবে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করবে বলে, সহিংস কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করেছে। প্রথমত যুক্তরাজ্য বিএনপিকে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ একটি নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে থেকে দুপুর ২ টা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অনুমতি দেয়।

বিকাল সাড়ে চারটার দিকে সমাবেশ শেষে বিএনপির প্রতিনিধিরা যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করতে গেলে সেখানে দূতাবাসের কর্তব্যরত কর্মচারীদের হুমকি দেন বিএনপির নেতা কর্মীরা।  যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেকের দাবি, তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী হাইকমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দিতে ভেতরে প্রবেশ করতে চেয়েছেন কিন্তু মিশনের কর্মচারীরা তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। তাদের স্মারকলিপি গ্রহণ করতে অপারগতা প্রকাশ করলে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা হাইকমিশনে প্রবেশ করে। কিন্তু হাইকমিশনের দায়িত্বশীল সূত্র বলছেন তারা একজন বিএনপির প্রতিনিধিকে ভেতরে গিয়ে স্মারক লিপি দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন, কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীরা দূতাবাসের দরজা ঠেলে জোরপূর্বক হাই মিশনের ভেতরে প্রবেশ করে, হাই কমিশনারের নাম ধরে  ডাকতে থাকে, কর্মকতাদের হুমকি দেয়। 

এসময় তারা হাইকমিশনের রিসেপশন কক্ষে রাখা বঙ্গবন্ধুর ছবি দেয়াল থেকে নামিয়ে ভাঙচুর করে, দূতাবাসের বাইরে নিয়ে ছবির অবমাননা করে। ঘটনার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগে প্রাথমিক ভাবে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করেছে। হাইকমিশন থেকে পুলিশকে মামলার প্রয়োজনীয় আলামত ও ভিডিও ফুটেজ সরবরাহ করা হয়েছে।

jago

ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিশ্চয়ই পুলিশ তার নিজস্ব গতিতে আইনি ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু পুরো ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে শুধু পুলিশের তদন্তের আশায় বসে থাকলে ফলাফল অশ্বডিম্ব ছাড়া আর কোনো কিছুই আসবে বলে মনে হয় না। হাইকমিশন ও ব্রিটিশ পুলিশের দুর্বল দিকগুলোকে আমলে নিয়ে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ডিপ্লোম্যাটিক জোনের নিরাপত্তার দায়িত্ব ডিপ্লোম্যাটিক পুলিশের আর হাইকমিশনের নিরাপত্তার দায়িত্ব বাংলাদেশের। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশ হাইকমিশনের সূত্রমতে মিশনে মাত্র তিনজন দারোয়ান রয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশের যাদের আমরা দারোয়ান বলি তাদের পক্ষে কোনভাবেই বিদেশের  মাটিতে দূতাবাসের মতো স্পর্শকাতর স্থানের নিরাপত্তা রক্ষা করা সম্ভব নয় কেননা তাদের নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে ব্রিটেনের কোন প্রশিক্ষণ বা লাইসেন্স নেই। 

যুক্তরাজ্যে নিরাপত্তা রক্ষী বা দারোয়ান হিসেবে কাজ করতে হলে যুক্তরাজ্যের সিকিউরিটি ইন্ডাস্ট্রি অথরিটি বা এসআইএ লাইসেন্স নিতে হয়। ব্রিটিশ পুলিশের যেমন দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে, তেমনি হাইকমিশনেরও পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট সুলতান মাহমুদ শরীফ বলেছেন, হাইকমিশন হামলার ঘটনায় ব্রিটিশ পুলিশ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নির্দেশে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। 

বাংলাদেশ হাই কমিশনে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এধরনের সিসি ক্যামেরা সার্বক্ষণিক একজন নিরাপত্তা কর্মকতা মনিটরিং করে থাকেন। তাহলে যখন বিএনপির কর্মীরা দলবল নিয়ে মিশনের ভিতরে ঢুকে গেলো তখন হাইকমিশনের অভ্যন্তরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা  ব্যক্তিরা নিশ্চয়ই সেটি সিসি ক্যামেরায় দেখেছেন। তাহলে এটি পরিস্কার তারা সেই সময়ে হয় তাদের দায়িত্ব অবহেলা করেছেন অথবা এধরনের ঘটনা প্রতিহত করার মতো পর্যাপ্ত প্রস্তুতি বা প্রশিক্ষণ তাদের ছিলো না। 

Post

অন্যদিকে ব্রিটিশ পুলিশের অবহেলার বিষয়টি আরো পরিস্কার। সাধারণত বিএনপির নেতাকর্মীদের হাইকমিশনের বিপরীতে নির্ধারিত স্থানে বিক্ষোভ করার কথা, একজন ব্যক্তি শুধুমাত্র হাইকমিশনের ভেতরে স্মারকলিপি নিয়ে প্রবেশ করার অনুমতি ছিলো। সেই অর্থে যখন ব্রিটিশ পুলিশ দেখলো মিশনের প্রধান ফটকে অনুমতি ছাড়া অহেতুক জটলা সৃষ্টি হয়েছে তখনই তাদের ছত্রভঙ্গ করে নির্দিষ্ট কর্ডনে ফিরে যেতে বলা বা হাইকমিশনের গেইটে অবস্থান নেওয়া উচিত ছিলো। কিন্তু পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে কেমন করে বিএনপির কর্মীরা মিশনে প্রবেশ করল এই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হাইকমিশনের উচিত ব্রিটিশ পুলিশ কমিশনের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করা। 

পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি রিপোর্ট করা অত্যন্ত জরুরি। কেননা ব্রিটিশ পুলিশ বাংলাদেশ হাইকমিশনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে হাইকমিশন এই ব্যাখ্যা দাবি করবে না। ইতিপূর্বে হাইকমিশনে একাধিকবার হামলা হয়েছে, সাবেক হাইকমিশনার সাবিহ উদ্দীনের আমলেও হাইকমিশনে হামলা হয়েছিলো, তখনও অপরাধীরা সাজা পায়নি। সবচেয়ে দুঃখজনক হলো বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া তার নেতাকর্মীদের সহিংস না হওয়ার নির্দেশনা দেওয়ার পরও তারা লন্ডনের মতো স্থানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে রয়েছেন। তার দলের নেতাকর্মীরা এধরনের হামলা চালিয়েছে তাই দলের নেতা হিসেবে তিনি এই হামলার দায় এড়াতে পারেন না।

বিদেশে দূতাবাস চালালেও বিদেশে বাংলাদেশি মিশনগুলো চলে বাংলাদেশি স্টাইলে। লন্ডনে ভারতীয় দূতাবাসের প্রবেশ পথেই রয়েছে কয়েক স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা বেষ্টনী। প্রথমেই কল করলে ভিডিও আইনডেন্টিফিকেশনের মাধ্যমে দর্শনার্থীকে নিরাপত্তা কর্মীরা পর্যবেক্ষণ করে প্রবেশ করতে দেয়। তারপর দর্শনার্থীকে বিমান বন্দরের মতো মেটাল ডিটেকটর ও স্ক্যানিং করেই প্রবেশ করতে হয়। প্রবেশের আগে সকল প্রকার ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ইউএসবি ড্রাইভ এমনকি টেলিফোনটি পর্যন্ত অর্ভ্যথনা ডেস্কের লকারে রেখে প্রবেশ করতে হয়। আর অ্যামেরিকান দূতাবাসে তো রীতিমতো আর্মড পুলিশ প্রহরায় থাকে। যদিও ইংল্যান্ডে ইউএস দূতাবাস ছাড়া অন্য কোন দূতাবাসে আর্মড পুলিশ নেই। তবে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মতো ভিসা সার্ভিস ও ডিপ্লোম্যাটিক সার্ভিস একই ভবনে রাখার নজির ইংল্যান্ডে সচরাচর দেখা যায় না। 

Post-1

অধিকাংশ দূতাবাস তাদের ভিসা সার্ভিস ভিএফএস গ্লোবালের মতো প্রফেশনাল প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করে সেবার মান বাড়িয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ হাইকমিশন যুগ যুগ ধরে পাতাল কক্ষের নিচে অন্ধকার স্যাঁতস্যাঁতে আলো বাতাসহীন কক্ষে বসে পাসপোর্ট সেবা প্রদান করছেন। মাঝে মাঝে আমার দূতাবাসের কর্মচারীদের জন্য কষ্ট হয়। এমন একটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তারা বসে কাজ করেন যেই পাতাল কক্ষের কোন জানালা নেই!

মোটকথা, হাইকমিশনের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। ব্রিটেনে অনেক বড় বাংলাদেশি কমিউনিটির বসবাস। লন্ডনের সাথে বাংলাদেশের রাজনীতির ঐতিহাসিক যোগাযোগ। সামনে নির্বাচন, তাছাড়া বিএনিপর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান যেহেতু লন্ডনে রয়েছেন তাই তার দলের নেতাকর্মীরা যে কোনো সময়ে মাত্রা অতিক্রম করে আরো বড়ো ক্ষতি সাধনের আগে বিদেশী দূতাবাস, সোনালী ব্যাংক বা বিমান বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরাদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

এই হামলার বিচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারকে খুব সতর্কভাবে এগোতে হবে। অপরাধীদের ব্রিটেনের আইনে বিচার না করে বাংলাদেশের আইনে বিচার করলে বঙ্গবন্ধুর ছবির অবমাননা আইনটি কার্যকর করা সম্ভব। বাংলাদেশ হাইকমিশন লন্ডন বাংলাদেশের ভূখণ্ড বলে বিবেচিত হবে। সেই অর্থে যারা বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলা চালিয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবির অবমাননা করেছে তাদেরকে সনাক্ত করে বাংলাদেশে বিচার করতে হবে। তাদের উপস্থিতি কিংবা অনুপস্থিতিতে। কেননা ব্রিটেনের আইনে বঙ্গবন্ধুর ছবির অবমাননার কোনো সাজা নেই। ব্রিটেনের যে কোন সংরক্ষিত স্থানে বা প্রতিষ্ঠানে, অনুমতি ছাড়া প্রবেশ ও হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের মামলায় সর্বোচ্চ তিন থেকে ছয় মাসের জেল হতে পারে অপরাধীদের। এই বিষয়টিকে আইনের ভাষায় বলা হয় সাসপেন্ডেড পানিশমেন্ট। 

অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুর করলেও তারা কোনো দণ্ড ভোগ করছে না। ব্রিটেনের আদালত যদি অপরাধীদের এধরনের সাজা দিয়ে ফেলে তাহলে বাংলাদেশ একই অপরাধীকে দুইবার সাজা দিতে পারবে না, তখন অভিযুক্ত ব্যক্তি দাবি করবেন তিনি একবার ব্রিটেনের আদালতে সাজা পেয়েছেন। আইন বলে এক অপরাধীর একই অপরাধে দুইবার দুই দেশে সাজা হয় না। 

ব্রিটেনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো, কোন রাজনৈতিক নেতাকে ডিম ছুঁড়ে মারলে কোন শাস্তি হয় না। কারণ কোন রাজনৈতিক নেতা গিয়ে আদালতে বলেন না তাদের ডিম ছুঁড়ে মারা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও তার মন্ত্রী জন প্রেসকোটকে ডিম ছুঁড়ে মারা হয়েছিলো। তাদের কেউই অভিযোগ করেন নি তাই অপরাধীর সাজাও হয়নি। তেমনি বাংলাদেশ হাইকমিশনের সরকারি কর্মকতারা কি আদৌ আদালতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুরের সাক্ষ্য দেবেন? সরকারি কর্মকতারা ব্রিটেনের আদালতে সাক্ষ্য দিবেন কিনা সেটিও বিবেচনার বিষয়। তাই সবকিছু বিবেচনা করে অপরাধীদের বাংলাদেশের আইনে বাংলাদেশে বিচার করলেই সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব। 

jagonews

শেষ করছি একটি দৃষ্টান্ত দিয়ে, ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী ১৯৩১ সালে ভাইসরয় লর্ড আরভিনের সাথে ভারতের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলতে চেয়েছিলেন। মহাত্মা গান্ধীর এই আগ্রহ সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইন্সটন চার্চিল তাচ্ছিল্য করে বলেছিলেন, নেঙটি পরা হাফ নেইকেড তথাকথিত ব্যারিস্টারের সাথে কিসের স্বাধীনতার আলাপ? কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! চার্চিল তখন জানতেন না, তার মৃত্যুর পর তারই ভাস্কর্যের পাশে ওয়েস্টমিনস্টার পার্লামেন্টের সামনে এই নেঙটি পড়া গান্ধীজীর ভাস্কর্যও স্থান পাবে! গান্ধী অনুসারীরাও চার্চিলের অবমাননাকর মন্তব্যের কারণে চার্চিলের ভাস্কর্যের অবমাননা করেনি, অন্যদিকে ব্রিটিশ রাজনীতিবিদরাও নেঙটি পরা হাফ নেইকেড গান্ধির ভাস্কর্যকে চার্চিলের কাছাকাছি স্থান দিতে বিরোধিতা করেনি। সহনশীল রাজনীতির উৎকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে জাতীয় নেতাদের সম্মান  করা। 

যে নেতার নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হলো তাঁকে অসম্মান করে দেশকে ভালোবাসা যায় না। বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক দলই শাসন ক্ষমতায় আসুক না কেন জাতির পিতাকে সম্মান করেই রাজনীতি করতে হবে। যেমন ভারতের নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকার ভিন্ন রাজনৈতিক দর্শন ধারণ করলেও ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর ছবি অপসারণ করেনি। একটি কথা স্মরণ রাখতে হবে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের নন, তিনি বাঙালি জাতির পিতা।

লেখক: কারেন্ট এফেয়ার্স এডিটর, চ্যানেল এস টেলিভিশন লন্ডন। যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি একাত্তর টেলিভিশন।

এইচআর/পিআর

সহনশীল রাজনীতির উৎকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে জাতীয় নেতাদের সম্মান  করা। যে নেতার নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হলো তাঁকে অসম্মান করে দেশকে ভালোবাসা যায় না। বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক দলই শাসন ক্ষমতায় আসুক না কেন জাতির পিতাকে সম্মান করেই রাজনীতি করতে হবে।’‘সহনশীল রাজনীতির উৎকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে জাতীয় নেতাদের সম্মান  করা। যে নেতার নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হলো তাঁকে অসম্মান করে দেশকে ভালোবাসা যায় না। বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক দলই শাসন ক্ষমতায় আসুক না কেন জাতির পিতাকে সম্মান করেই রাজনীতি করতে হবে

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]