বেতার সব সময় সব কাজে

কৃষিবিদ ডক্টর মো. জাহাঙ্গীর আলম
কৃষিবিদ ডক্টর মো. জাহাঙ্গীর আলম কৃষিবিদ ডক্টর মো. জাহাঙ্গীর আলম , কৃষিবিদ ও লেখক
প্রকাশিত: ১০:০৪ এএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

আজ ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব বেতার দিবস। বিশ্বের অনেক দেশের মতো আজ বাংলাদেশেও বিশ্ব বেতার দিবসটি পালিত হচ্ছে যথাযথ মর্যদার সাথে। বেতার বর্তমান বিশ্বের যোগাযোগের নির্ভরযোগ্য সহজ সরল সমাজ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি,নীতি নিয়ম, দুর্যোগ দুর্বিপাক, শিক্ষা সংস্কৃতি, সংবাদ ও বিনোদনের বিশেষ বাহন হিসেবে কাজ করছে। তথ্য সরবরাহ এবং বিস্তৃতির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বিবেচনায় প্রতি বছর ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবসটি পালন করা হয়।

স্পেনের অনুরোধে এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ইউনেস্কো ২০০৮ সালে দিবসটি পালন শুরু করে। প্রথমে দিবসটি ৩০ অক্টোবর নির্ধারণ করলেও ২০১১ সালে ইউনেস্কোর এক্সিকিউটিভ বোর্ড ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবসটি পুনর্নির্ধারণ করে। ২০১২ সালেই সর্বপ্রথম বিশ্বব্যাপী আড়ম্বড়তার সাথে বেতার দিবস পালন করা হয়।

একই বছরে আন্তর্জাতিক রেডিও কমিটি নামক একটি কমিটি গঠিত হয়। দিবসটির প্রধান অনুষ্ঠান পালন করা হয় ইউনেস্কোর সদর দফতর প্যারিসে। অনুষ্ঠানে বিশ্বের খ্যাতনামা বেতার সংস্থাগুলো অংশগ্রহণ করে। বেতারের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, বেতারের মাধ্যমে অবাধ তথ্য পাওয়ার সুযোগ সুবিধাদি এবং ব্রডকাস্টারদের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ বাড়ানোই এ দিবসের মূল লক্ষ্য।

বেতার আদি অনন্ত। বেতার ছিল, বেতার আছে, বেতার থাকবে অনাদিকাল ধরে। বেতার আমাদের গর্বিত অহংকারের আলোকিত বাতিঘর। মিটমিট করে জ্বলছে আমাদের সমাজের নিভৃত আধারী ঘরে আলোর বর্তিকা হয়ে। অনেকেরই ধারণা আইসিটি বা ইন্টারনেটের অগ্রযাত্রার এ সময়ে বেতার তার গুরুত্ব হারিয়েছে। ধারণাটি সঠিক নয় মোটেই বরং ভুল প্রমাণিত। কারণ সময় যেমন বদলেছে, ঠিক তেমনই সময়ের সাথে তালমিলিয়ে প্রচারণার ধরনও বদলে গেছে। এখনও মানুষ বেতার শোনে।

এখনও বেতারের ওপর নির্ভর করে অগণিত মানুষ। বিশেষ করে দুর্যোগ দুর্বিপাকে যখন অন্য সব মিডিয়াগুলো অকোজে স্থবির স্তব্ধ বন্ধ হয়ে যায় তখনও বেতার সেবা দিয়ে যায় নিরবিচ্ছিন্নভাবে। গ্রামের শহরের কৃষক, মজুর, শ্রমিক, ক্ষুদে ব্যবসায়ী, মেহনতি মানুষগুলো এখনো রেডিওকে তাদের বিনোদনের প্রধান এবং বিশেষ ভরসার মাধ্যম হিসেবে মনে করে। পুরোবিশ্বে বেতার এখনও অন্যতম জনপ্রিয় গণমাধ্যম। বেতারের রয়েছে দুর্গমস্থানে পৌঁছানোর অদম্য শক্তি। তথ্য প্রযুক্তির অবাধ প্রসারের ফলে সম্প্রচার জগতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রতিযোগিতাও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। গ্রামগঞ্জ ও দুর্গম এলাকায় এখনও বেতার তথ্য আদান-প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যম হিসেবে নিজের স্বকীয়তা বজায় রেখেছে এগিয়ে চলছে শুভ সুন্দর আগামীর পথে।

রেডিওর গুরুত্ব আছে বলেই বাংলাদেশে ৩০টির বেশি প্রাইভেট এফএম এবং ৩২টি কমিউনিটি রেডিও এফএম অনুমোদিত হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ বেতার ১২টি আঞ্চলিক বেতারকেন্দ্র এবং ৩৫টি এফএম কার্যক্রম পরিচালনা করছে দেশব্যাপী। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১২টি আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ বেতার প্রতিদিন ২৮০ ঘণ্টার মতো বিভিন্ন আঙ্গিকে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলো হচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, ঠাকুরগাঁও, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, বান্দারবান ও কুমিল্লা। এছাড়া অনুষ্ঠান প্রচারে ইউনিটগুলো হচ্ছে ট্রান্সক্রিপশন সার্ভিস, বহির্বিশ্ব কার্যক্রম, বাণিজ্যিক কার্যক্রম, কৃষিবিষয়ক কার্যক্রম, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেল এবং ট্রাফিক সম্প্রচার কার্যক্রম এবং আরো কতগুলো ইউনিট।

এবার ২০১৮ সালে বিশ্ব বেতার দিবসের প্রতিপাদ্য Radio and Sports, with all radio stations, regulatory bodies ...। গণ প্রজাতন্ত্রী সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশে বিশ্ব বেতার দিবস পালিত হচ্ছে, যেখানে রেডিও অনুরাগী, বাংলাদেশ বেতার, প্রাইভেট এফএম রেডিও এবং কমিউনিটি রেডিওগুলো অংশগ্রহণ করছে। বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে রেডিওগুলো পালন করছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। বেতার দুর্যোগ-দুর্বিপাকে বিরামহীন সম্প্রচার মানুষকে সঠিক ও সময়োপযোগী দিকনির্দেশনা দেয়। মহান স্বাধীনতাযুদ্ধেও বেতারের ছিল গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা।

সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে গণমানুষকে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করতে বেতার শক্তিশালী হাতিয়ার ও মাধ্যম। এ ছাড়াও জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগ সম্পাদন করা এবং দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় বেতারের ভূমিকা অনন্য অসাধারণ। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও নতুন তথ্য প্রযুক্তি বেতারকে আরও অমিত সম্ভাবনাময় করে তুলছে চলমান সময়ের প্রেক্ষাপটে।

দুঃসময়ে বেতারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সিডর, আইলা, নার্গিস, মহাসেন, রোয়ানুর মতো বিভিন্ন দুর্যোগের সময় কমিউনিটি বেতারের কর্মীবাহিনী দুর্যোগকালীন সময়ে বিরামহীন নিরবচ্ছিন্নভাবে তথ্য প্রদান করে দেশ ও জাতির সেবায় নিয়োজিত থেকেছে। তাছাড়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিনোদন ও তথ্যপ্রযুক্তি দিয়ে সাধারণ মানুষের আচরণগত পরিবর্তনেও বেতার তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে নিরবচ্ছিন্নভাবে গর্বের সাথে। যৌতুক, বাল্যবিবাহ, আত্মহত্যা, নারী নির্যাতন এসব অনেকাংশে কমেছে বেতারের উদ্বুদ্ধকরণ প্রোগ্রামের মাধ্যমে।

বাংলাদেশ বেতারের জন্মকালের সাথে বাংলাদেশের জন্মের রয়েছে এক ঐতিহাসিক মিল। বাংলাদেশে বেতারের যাত্রা ১৯৩৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর। এর ঠিক ৩২ বছর পর এ দিনটিতেই চূড়ান্ত বিজয় লাভের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে পরিণত হয় বাংলাদেশ।একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বেতার ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের অপরিহার্য সঙ্গী। বাংলাদেশ বেতার মুক্তিযুদ্ধে দেশে বীর সেনাদের অন্যতম এক অনুপ্রেরণার মাধ্যম। সে বেতার আজ ৭৮ বছরে। সে এক অভাবনীয় সাফল্যগাঁথা। প্রাসঙ্গিকভাবেই বলতে হয় বিশ্বে প্রথম রেডিও আবিষ্কারই হয়েছিল ১৮৯৮ সালে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ঢাকা বেতারকেন্দ্র। যুদ্ধের সময় এটি হয়ে যায় স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র। আর সাফল্যের খবর শুনিয়ে সহজেই কেড়ে নেয় মুক্তিকামী মানুষের মন। মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় ফ্রন্ট নামে খ্যাত স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র ছিল বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের এক বলিষ্ঠ প্রচার কাণ্ডারি। স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত কালজয়ী কথিকা, সংবাদ, প্রবন্ধ, নাটিকা, রম্যরচনা, গান,সাক্ষাৎকার, ভাষণ ও অনুষ্ঠানগুলো একদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবলকে শক্তিশালী সুদৃঢ় করেছে, অন্যদিকে দেশের জনগণকে স্বাধীনতার দিকে অনুপ্রাণিত উজ্জীবিত করেছে প্রতিনিয়ত।

শুধু কী তাই, মানুষের যাপিত জীবনে বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, মহামারীসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রকৃত বন্ধুর মতো পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ বেতার। এখনো অবিরাম তথ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ বেতার দেশের ১৬ কোটি মানুষের জন্য সব সময় সব কাজে। আরেকটি ঐতিহাসিক সত্য হচ্ছে, একাত্তরে রমনা রেসকোর্স ময়দানে ৭ মার্চের জনসভায় জাতির জনক যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, ১৯ মিনিট স্থায়ী এই ভাষণ বেতারের কয়েক জন দুঃসাহসী বাঙালি কর্মকর্তা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তা সম্প্রচার করেছিলেন।

এ ভাষণের মধ্য দিয়েই বাঙালির নেতা পাকিস্তান সরকারের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা করেন। এ ভাষণে বাঙালির স্বাধিকারের আকাঙ্ক্ষাকে আরো তীব্র করে তোলেন। ১৯৭১ সালে কালজয়ী ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার বেতারের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। এ ভাষণ প্রচারের পর সর্বস্তরের মানুষ জাতির জনকের আহবানে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশ মাতৃকাকে স্বাধীন করার জন্য।

রেডিও এখন শাখা-প্রশাখায় বিস্তৃত। মূলত চারটি ধারায় রেডিও সম্প্রচার করে। ০১. পাবলিক সার্ভিস ০২. আন্তর্জাতিক রেডিও ০৩. বাণিজ্যিক রেডিও এবং ০৪. কমিউনিটি রেডিও। পাবলিক সার্ভিস ব্রডকাস্টিং প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ বেতার যেমন বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচার করছে; তেমনি বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস, ভয়েস অব আমেরিকা, এনএইচকে, রেডিও তেহরান, রেডিও চায়না, জার্মান, রেডিও ভেরিতাস ও অন্যান্য বিদেশি মাধ্যমেও বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে পারছে।

আবার দেশে সম্প্রতি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সম্প্রচার করছে শহরভিত্তিক বেসরকারি এফএম রেডিও, অনলাইন রেডিও। আর কমিউনিটি রেডিওগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্রামবাংলার তৃণমূল কার্যক্রমকে তুলে ধরছে উন্নয়নে, সহমর্মিতায়, সহযোগিতায়, সুন্দরে, সফলতায় আর সমৃদ্ধিতে। সব মিলিয়ে রেডিওর প্রচার কার্যকারিতা দিনে দিনে প্রসারিত হচ্ছে দক্ষতা যোগ্যতা আর একনিষ্ঠ শ্রোতাবান্ধব হিসেবে।

বাংলাদেশে কমিউনিটি রেডিওর সাফল্যও অনেক। বর্তমানে ১৭টি কমিউনিটি রেডিও প্রতিদিন ১৫০ ঘণ্টার বেশি সময় অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। কয়েক হাজার যুব নারী ও যুবকের অংশগ্রহণে নতুন ধারার এ গণমাধ্যমটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ১৭টি জেলায় সর্বমোট ৭৫টি উপজেলার প্রায় ১ কোটি জনগোষ্ঠী কমিউনিটি রেডিওর সুবিধা ভোগ করছে।

কমিউনিটি রেডিওতে ৫ হাজারের বেশি শ্রোতাক্লাব গঠিত হয়েছে। প্রথমবারের মতো স্থাপিত কমিউনিটি রেডিওগুলোর অর্জন ইতোমধ্যে সব মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ১৭টি কমিউনিটি রেডিও সম্প্রচারে আছে। অল্প সময়ের মধ্যে অনুমোদিত বাকি ১৫টি কমিউনিটি রেডিও সম্প্রচারের কাজ শুরু করবে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কমিউনিটি রেডিওগুলোরমূল প্রভাব হলো জনগণের দোরগোড়ায় স্থাপিত এই গণমাধ্যম দরিদ্র এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজেদের কথা নিজেদের মতো করে নিজেরাই সরাসরিভাবে বলার সুযোগ পাচ্ছে। তৈরি হয়েছে কণ্ঠহীনদের কণ্ঠস্বর সোচ্চার হওয়া ও শোনার সুযোগ। আমার রেডিও আমার কথা বলে এ স্লোগান এখন বাস্তব। এ নয়া গণমাধ্যম জাতীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, পারিপার্শ্বিক, পারিবারিক, মানসিক, মানবিক এবং পরিবেশের ক্ষেত্রে পল্লী অঞ্চলে বসবাসরত জনগোষ্ঠীকে তথ্য এবং যোগাযোগের অবাধ সহজ সরল দ্রুত যৌক্তিক অধিকার এনে দিয়েছে।

এছাড়া যৌতুক, বাল্যবিয়ে, দুস্থ মানবতার সেবা, সহযোগিতা, সহমর্মিতা, সামাজিক উন্নয়ন, আত্মহত্যা, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ কৃষি উন্নয়ন, নারী ও শিশু, আবহাওয়া-জলবায়ু, আইসিটি, উন্নয়ন, সমৃদ্ধি, শিক্ষা, পুষ্টি, বিনোদন বিষয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং একটা মাত্রিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্ব বেতার দিবস উদযাপনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে একটি অনুসরণীয় মডেল দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি) ২০০০ সালে থেকে বাংলাদেশে গ্রামীণ জনপদে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর মধ্যে উন্নয়নমূলক তথ্য ও জ্ঞান বিনিময়ের পাশাপাশি, সরকারি ও বেসরকারি সেবা, জীবনঘনিষ্ঠ যাবতীয় তথ্য জনগণের মাঝে সহজ ভাষায় প্রচারের লক্ষ্যে কমিউনিটি রেডিও চালু করতে সরকারের সাথে অ্যাডভোকেসি করে আসছে। এদিকে তথ্য মন্ত্রণালয় কমিউনিটি রেডিও স্থাপন, সম্প্রচার ও পরিচালনা নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। মন্ত্রণালয়ের সুদৃষ্টি ও সদিচ্ছার কারণে ইতোমধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে কমিউনিটি রেডিও বিষয়ক একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণীত হয়েছে। বাংলাদেশ হচ্ছে কমিউনিটি রেডিও বিষয়ক নীতিমালা প্রণয়নকারী দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় দেশ।

বাস্তবতা, সময়, চাহিদা, যৌক্তিকতা বলে দেয় আগামীর বাংলাদেশ হবে রেডিওর বাংলাদেশ। এ নতুন গণমাধ্যম সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং পরিবেশের ক্ষেত্রে পল্লী অঞ্চলে বসবাসরত জনগোষ্ঠীকে তথ্য যোগাযোগ সেবার অধিকার এনে দিয়েছে। সুশাসন নিশ্চিতকরণে জনপ্রতিনিধি, সরকারি,বেসরকারি কর্মকর্তাদের সাথে জনসাধারণের সংলাপ আদান-প্রদানের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা,সহস্রাব্দ উন্নয়ন অভিষ্ট লক্ষ্য, সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার প্রধান খাতগুলোর সাথে জনসাধারণের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা, নার্গিস, মহাসেন, রওয়ান কমেনের সময় উপকূলীয় অঞ্চলে স্থাপিত কমিউনিটি রেডিওগুলোর সাহসী কার্যকর ও সময়োপযোগী ভূমিকা ও পদক্ষেপের কারণে সব মহলে প্রশংসিত হয়। তাছাড়া গত কয়েক বছর কমিউনিটি রেডিওগুলো ব্যঞ্জরিত কার্যক্রমের জন্য যোগ্যতার সাথে বিভিন্ন শিরোনামে আশাতীত অভূতপূর্ব সফলতা দেখিয়েছে। এ মুহূর্তে আরও অন্তত ৫০-৬০টি কমিউনিটি রেডিওর আনুমোদন দিলে গ্যাপ এলাকা যথা মিডিয়া ডার্ক এলাকাগুলো কমিউনিটি রেডিওর আওতায় আসবে তথ্য প্রযুক্তি সম্প্রসালণ বিস্তৃতিতে অসামান্য ভূমিকা রাখবে।

বেতার আছে বেতার থাকবে। দেশের জনগণের নিত্য চাহিদা মেটানোর জণ্য বেতার অনন্য আবশ্যকীয়। আমাদের উন্নয়ন সমৃদ্ধিতে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে বেতারের বিকল্প নেই। সে জন্য বেতারকে বিশেষ করে কমিউনিটি রেডিওগুলোকে দক্ষতা যোগ্যতা কারিশমা নিয়ে দাঁড় করিযে রক্ষণাবেক্ষণ, ব্যবস্থাপনা সহজ সরল নিশ্চিত করতে পারলে অভাবণীয় সফলতা এনে দেবে এসব কমিউনিটি রেডিও।

আমরা কমিউনিটি রেডিওভিত্তিক সেসব শুভ সুন্দরের অপেক্ষায় রইলাম। রেডিও থেকে আমি আমরা কখনো বিচ্ছিন্ন নই, রেডিও আমার আমি রেডিওর সব কাজে সব সময়। আমাদেরকে পারস্পরিক নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ করবে আগামীর সময়ে। রেডিও আমাদের যাপিত জীবনের নিত্য সহচর, পরম বিশ্বস্তবন্ধু...।

লেখক : কৃষিবিদ, অতিরিক্ত পরিচালক, ক্রপস উইং, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, ঢাকা।

এইচআর/এমএস

‘মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় ফ্রন্ট নামে খ্যাত স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র ছিল বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের এক বলিষ্ঠ প্রচার কাণ্ডারি। স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত কালজয়ী কথিকা, সংবাদ, প্রবন্ধ, নাটিকা, রম্যরচনা, গান,সাক্ষাৎকার, ভাষণ ও অনুষ্ঠানগুলো একদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবলকে শক্তিশালী সুদৃঢ় করেছে, অন্যদিকে দেশের জনগণকে স্বাধীনতার দিকে অনুপ্রাণিত উজ্জীবিত করেছে প্রতিনিয়ত।’