বিশুদ্ধ পানির সংকট দূর করুন

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ১০:০৫ এএম, ১৪ অক্টোবর ২০১৮

 

পানির অপর নাম জীবন। জীবন ধারণ করতে প্রতিদিন পানি পান করতে হয়। কিন্তু এই পানিই যদি নিরাপদ না হয় সেটি উল্টো জীবনহানির কারণ হতে পারে। আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে পানি নিয়ে এই উদ্বেগজনক খবরই দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। গ্রাম বা শহরাঞ্চলে পাইপলাইনে সরবরাহকৃত পানির ৮০ শতাংশেই ই-কলাই ভাইরাস বা ডায়রিয়ার জীবাণু রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। নিঃসন্দেহে জনস্বাস্থ্যের জন্য এটি অত্যন্ত হুমকির কারণ। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

বিশ্বব্যাংকের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- দেশের ৯৮ শতাংশ মানুষ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা পায়। কিন্তু এ পানির বেশিরভাগ অনিরাপদ। ৮০ শতাংশ পাইপলাইনের পানিতে জীবাণু আর নলকূপ ও গভীর নলকূপ থেকে উত্তোলিত পানির ৪১ শতাংশে এ জীবাণুর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। জীবাণুর এ হার পল্লী অঞ্চলের পুকুরে ব্যাকটেরিয়া উপস্থিতির হারের প্রায় সমান।

গত বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ডায়রিয়ার জীবাণু ছাড়াও এ পানিতে ১৩ শতাংশে আর্সেনিক। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেটে আর্সেনিকের প্রভাব বেশি। উপকূলের মানুষ সবচেয়ে বেশি নিরাপদ পানির ঝুঁকিতে। কারণ এ অঞ্চলের পানিতে লবণাক্ততার হার দ্রুত বাড়ছে।

জীবাণুযুক্ত পানির কারণে পেটের পীড়া, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছে উচ্চ থেকে নিম্নবিত্ত পর্যায়ের মানুষ। এর মধ্যে দারিদ্র্য পীড়িতরা উচ্চবিত্তের চেয়ে তিনগুণ বেশি পীড়ায় ভুগছে। মূলত অপর্যাপ্ত পরিশোধন ও অনিয়মিত প্রবাহের কারণে বাংলাদেশের পানিতে ই. কোলির হার বাড়ছে। এছাড়া পানির সরবরাহ লাইনে ছিদ্রের কারণেও ঝুঁকি বাড়ছে। দেশের অধিকাংশ শিশুই ঝুঁকিতে রয়েছে বলেও জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুমৃত্যু ও অপুষ্টি ঠেকাতে পানি, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি খাতে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। পানি ও স্যানিটেশনের আলাদা উদ্যোগ নিলে শিশুদের কল্যাণ বাড়বে।

নাগরিকদের নিরাপদ ও কার্যকর পানি-স্যানিটেশন সেবা নিশ্চিত করতে সরকারকে অর্থায়নের বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেয়ার কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। স্যানিটেশন ব্যবস্থার বিষয়ে বলা হয়েছে, দেশে স্যানিটেশন সুবিধা সবাই ঠিক মতো পায় না। একাধিক পরিবার একটি টয়লেট ব্যবহার করছে এমন সংখ্যা পাঁচ কোটি আট লাখ। এসব মানুষ বেশিরভাগই শহরাঞ্চলের বস্তিবাসী।

এ অবস্থায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশুদ্ধ পানি নিয়ে সংকট নতুন নয়। ওয়াসার পানি নিয়ে বিস্তর অভিযোগ আছে। ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ায় ওয়াসার পানি পান করতে ভয় পায় লোকজন। এ জন্য পানি ফুটিয়ে পান করতে হয়। এটি যেমন বাড়তি পরিশ্রমের তেমনি মূল্যবান গ্যাসও নষ্ট হচ্ছে পানি ফুটাতে গিয়ে। এছাড়া জার বা বোতলজাত পানি নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। এ অবস্থায় যে কোনো মূল্য বিশুদ্ধ পানি সরবারহ করতে হবে। মানুষজন ওয়াসার পানি কিনে খায়। পয়সা দিয়ে যদি বিশুদ্ধ পানি না পাওয়া যায় সেটি হবে অত্যন্ত দুঃখজনক।

এইচআর/এমএস

‘বিশুদ্ধ পানি নিয়ে সংকট নতুন নয়। ওয়াসার পানি নিয়ে বিস্তর অভিযোগ আছে। ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ায় ওয়াসার পানি পান করতে ভয় পায় লোকজন। এ জন্য পানি ফুটিয়ে পান করতে হয়। এটি যেমন বাড়তি পরিশ্রমের তেমনি মূল্যবান গ্যাসও নষ্ট হচ্ছে পানি ফুটাতে গিয়ে। এছাড়া জার বা বোতলজাত পানি নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। এ অবস্থায় যে কোনো মূল্য বিশুদ্ধ পানি সরবারহ করতে হবে। মানুষজন ওয়াসার পানি কিনে খায়। পয়সা দিয়ে যদি বিশুদ্ধ পানি না পাওয়া যায় সেটি হবে অত্যন্ত দুঃখজনক।’

আপনার মতামত লিখুন :