সঙ্গীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর চলে যাওয়া

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ১০:০২ এএম, ১৯ অক্টোবর ২০১৮

বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড এলআরবির প্রতিষ্ঠাতা ও লিড গিটারিস্ট আইয়ুব বাচ্চু (৫৬) আর নেই। ইন্নানিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাহে রাজিউন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নিজ বাসায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর স্কয়ার হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুতে চারদিকে শোকের ছায়া নেমে আসে। সঙ্গীত জগতের জন্য এ এক অপূরণীয় ক্ষতি।

বাংলাদেশের ব্যান্ড সঙ্গীত জগতে গিটার ও গানের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন আইয়ুব বাচ্চু। গানের পাশাপাশি গিটারেও ভক্তদের মাত করেছেন তিনি। আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া উল্লেখযোগ্য গানগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘রূপালি গিটার’, ‘রাত জাগা পাখি হয়ে’, ‘মাধবী’, ‘ফেরারি মন’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘ঘুমন্ত শহরে’, ‘বার মাস’, ‘হাসতে দেখ’, ‘উড়াল দেব আকাশে’ ইত্যাদি। ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি,’ ‘সেই তুমি কেন অচেনা হলে’, ‘একদিন ঘুম ভাঙ্গা শহরে’, ‘মেয়ে ও মেয়ে’, ‘কবিতা সুখ ওড়াও’, ‘এক আকাশ তারা’ গানগুলো ঘুরেছে মানুষের মুখে মুখে।

১৯৭৮ সালে সঙ্গীতজীবন শুরু করেন আইয়ুব বাচ্চু। আইয়ুব বাচ্চু একাধারে গায়ক, লিড গিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার, প্লেব্যাক শিল্পী ও সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন। সোলসের হয়ে ব্যান্ড সঙ্গীতে পা রাখার পর ১৯৯০ সালে নিজের ব্যান্ড দল প্রতিষ্ঠা করেন আইয়ুব বাচ্চু। ব্যান্ডের নাম রাখেন ‘লিটল রিভার ব্যান্ড’। পরবর্তীতে এর নাম বদলে রাখা হয় ‘লাভ রান্স ব্লাইন্ড’।

ওই বছরই এলআরবি ডাবল অ্যালবাম দিয়ে তাদের যাত্রা শুরু করে। আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম প্রকাশিত একক অ্যালবাম ‘রক্তগোলাপ’। তার সফলতার শুরু দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘ময়না’র মাধ্যমে। তিনি বেশ কিছু বাংলা ছবিতে প্লে-ব্যাকও করেছেন। ১৯৯৫ সালে বাচ্চু তার তৃতীয় একক অ্যালবাম ‘কষ্ট’ বের করেন। বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা একক অ্যালবামগুলোর মধ্যে একটি এটি।

সব মহলে দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকারসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষজন তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বইছে শোকের মাতম। তরুণ-তরুণীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই সঙ্গীত তারকা। আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর খবর শোনার পর ভক্তরা ভিড় জমান হাসপাতালে। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। একজন শিল্পী মানুষের কতটা আপন হতে পারেন- সেটি যেন বলে দিচ্ছে ভক্তদের এই ভালোবাসা।

মানুষ মরণশীল। কেউ চিরকাল থাকবে না। তবে অকালে চলে গেলেন আইয়ুব বাচ্চু। তার চলে যাওয়ায় সঙ্গীত জগতের বিশেষ করে ব্যান্ড সঙ্গীতে শূন্যতার সৃষ্টি হলো। চলে যাওয়া মানেই প্রস্থান নয়। আইয়ুব বাচ্চু বেঁচে থাকবেন তার কর্মের মধ্যে। আমরা এই কিংবদন্তি শিল্পীর বিদেহি আত্মার চিরশান্তি কামনা করছি। তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা।

এইচআর/জেআইএম

মানুষ মরণশীল। কেউ চিরকাল থাকবে না। তবে অকালে চলে গেলেন আইয়ুব বাচ্চু। তার চলে যাওয়ায় সঙ্গীত জগতের বিশেষ করে ব্যান্ড সঙ্গীতে শূন্যতার সৃষ্টি হলো। চলে যাওয়া মানেই প্রস্থান নয়। আইয়ুব বাচ্চু বেঁচে থাকবেন তার কর্মের মধ্যে। আমরা এই কিংবদন্তি শিল্পীর বিদেহি আত্মার চিরশান্তি কামনা করছি। তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা।

আপনার মতামত লিখুন :