গণতন্ত্রের 'মুক্তি' ও রাষ্ট্রের মালিকানা

ফকির ইলিয়াস
ফকির ইলিয়াস ফকির ইলিয়াস , কবি, সাংবাদিক, কলামিস্ট
প্রকাশিত: ০৯:২৪ এএম, ২৮ অক্টোবর ২০১৮

গণতন্ত্রে রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের। কথাটি খুবই পুরনো। এই কথা আমরা একাত্তর পূর্ববর্তী সময়েও শুনেছি। সেই সময়ে পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা ব্রুট মেজরিটি ছিল। পশ্চিমা খানতন্ত্রবাদীরা ভোট ভয় করতো। তারা পর্যায়ক্রমে সামরিক জান্তাদের লেলিয়ে দিয়েছিল। একের পর এক জেনারেলদের শাসন।

যে কাজটি অন্য কোনো বাঙালি রাজনীতিক করতে পারেন নি, সেই কাজটি করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। এই সাহস আর কোনো নেতার ছিল না। বাঙালির 'শেরে বাংলা' ছিলেন। কিন্তু মুজিব ছিলেন না। সেই মুজিব হয়ে উঠেছিলেন আপামর বাঙালির আশার প্রতীক। জাতি তাঁকে 'বঙ্গবন্ধু' খ্যাতি দিয়েছিল। তিনি আঙুল উঁচু করে বলেছিলেন, 'এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম।'

আমাদের মুক্তির স্বপ্নের শুরু সেই থেকেই। কিন্তু সেই মুক্তির বিরোধিতা কি এই বাঙাল মুলুকের কিছু রাজাকার করে নি? করেছিল। শুধু তাই নয়- এরা স্বজাতিকে খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট সবই করেছিল। না- তারা বাংলাদেশের বিজয় চায় নি। তারা এই দেশে গণহত্যার দোসর হয়েছিল। বিষয়টি কতটা অপরাধের তা এই প্রজন্ম এখনও খুঁজে বেড়ায়। তারা দেখে এই দেশেই যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের বিচার হয়েছে, হচ্ছে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হলো। কিন্তু একটি মহল এই স্বাধীনতা মেনে নিতে পারেনি। তারা টার্গেট করে রেখেছিল বঙ্গবন্ধুকেই। কি ছিল তাঁর অপরাধ! অপরাধ একটিই, তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। এরপরে ১৫ আগস্টের মর্মান্তিকতা আমরা ভুলে যাই নি।

আচ্ছা, আজ যারা এত বছর পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আদর্শ প্রতিষ্ঠার নামে গণতন্ত্রের 'মুক্তি' চাইছেন- তারা কোথায় ছিলেন ১৫ আগস্টের পর? এ বিষয়ে কিছু কথা বলা দরকার। জাতির জনককে নির্মমভাবে হত্যা করার পর কি ছিল ড. কামাল হোসের ভূমিকা? এ প্রসঙ্গে বেগম মতিয়া চৌধুরীর বক্তব্য এখানে প্রণিধানযোগ্য। মতিয়া চৌধুরী বলছেন- ''১৫ আগস্টের পরদিন ১৬ আগস্ট ড. কামাল হোসেনকে শেখ রেহানা যখন বলল, ‘চাচা একটা আবেদন জানান বিশ্ববাসীর প্রতি যেন মোস্তাক সরকারকে সমর্থন না দেয়া হয়’। তিনি (ড. কামাল) রেহানার হাত ছাড়িয়ে দিয়ে চলে যেতে উদ্যত হলে তখন রেহেনা গিয়ে বলল, ‘আপনি কথা দেন মোস্তাকের মন্ত্রী হবেন না’। যখন ওসমানীকে প্রেসিডেন্ট ক্যান্ডিডেট করা হলো এই কামাল হোসেন ধমক খেয়ে ইলেকশনের আগের দিন পল্টন থেকে লেজ গুটিয়ে চলে গেলেন।''

এটা কে না জানে, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের আগে ড. কামাল হোসেন হঠাৎ করেই বিদেশে চলে গিয়েছিলেন। কোন অফিসিয়াল ট্যুর কিংবা রাষ্ট্রীয় কাজে নয় ড. কামাল বিদেশে গিয়েছিলেন ব্যক্তিগত ট্যুরে। তাঁর সময়মতো দেশ ত্যাগে যে কারো মনে প্রশ্ন উঠবে, তাহলে কি ড. কামাল আগে থেকেই জানতে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মতো একটি কলঙ্কজনক ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে? বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর ড. কামালের কর্মকান্ডে এই সন্দেহ আরো ঘনীভূত হয়। সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী এক প্রকার জোর করেই তাকে বঙ্গবন্ধুর বেঁচে যাওয়া দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার সঙ্গে দেখা করতে নিয়ে আসেন। তখনই শেখ রেহানা তাকে এই বিষয়ে অন্তত একটি বিবৃতি দিতে অনুরোধ করেছিলেন। শেখ রেহানা মনে করেছিলেন, যেহেতু ড. কামাল একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী এবং বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার অত্যন্ত ঘনিষ্টতা ছিল আর বঙ্গবন্ধুই তাঁকে মন্ত্রী বানিয়েছিলেন, তাই বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করে ড. কামাল হোসেনেরই বিবৃতি দেবেন। কিন্তু সেই সময়টাতে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে কোন বিবৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানান ড. কামাল হোসেন।

এখানে আরেকটি বিষয় ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিএনপির বর্তমান কাণ্ডারী তারেক রহমানের সাথে ড. কামাল হোসেনের সখ্য গড়ে উঠেছে বেশ আগে থেকেই। তারেক রহমান কিছুদিন আগে লন্ডনের ওয়েস্ট মিন্সটারের সেন্ট্রাল হলে এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রথম 'অবৈধ প্রধানমন্ত্রী' বলে উল্লেখ করে মিথ্যাচার করেছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিলেন তার কথার সত্যতা। ওইসব তথ্য সূত্রের একটি ছিল ড. কামাল হোসেনের একটি সাক্ষাৎকার, যা ঢাকা থেকে প্রকাশিত ২৬ আগস্ট ২০১১ সালে 'সাপ্তাহিক' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু ট্রাভেল ডকুমেন্টের প্রয়োজনেই সেই সময়ে পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে আসার পথে লন্ডনে আসেন। ড. কামালের এই তথ্যকে নির্ভর করেই তারেক জাতির জনক'কে ঘায়েলের প্রয়াসী হন।

'সাপ্তাহিক'কে দেয়া ড. কামাল হোসেনের সেই সাক্ষাৎকারটির অংশ আমরা এখানে পড়তে পারি-

সাপ্তাহিক : ১০ জানুয়ারি ১৯৭১ বঙ্গবন্ধুসহ আপনি দেশে ফিরলেন। তারপর কি হলো?
ড. কামাল হোসেন : আমরা এসেছি একসঙ্গে। ১১ তারিখ আমি তো খুব ফুর্তিতে। বঙ্গভবন তখন হোস্টেলের মতো। ওখানে গিয়ে প্রত্যেক টেবিলে বসছি, চা খাচ্ছি, তখনকার ঘটনাগুলো শুনছি। আগের দিন আমরা খবর পেলাম যে, তাজউদ্দীন ভাই তখনকার চিফ জাস্টিসের পাশের ভবন প্রাইম মিনিস্টার হাউজে আমাকে এবং আবু সাঈদ চৌধুরী সাহেবকে ডেকেছেন। আমি আমীর-উল ইসলামকেও সঙ্গে নিয়েছি। নিয়ে আমরা তাজউদ্দীন সাহেবের বাসায় গিয়েছি। আমাদের উপরে বসতে বলা হয়েছে। নিচে বৈঠকখানায় কেবিনেট মিটিং হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু সেই মিটিংয়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে আছেন। আমাকে ডেকে বললেন, দেখ আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমরা সংসদীয় পদ্ধতিতে যেতে চাই।

বঙ্গবন্ধু তখন প্রেসিডেন্ট। তাজউদ্দীন আহমদ তখন প্রাইমমিনিস্টার। বঙ্গবন্ধু জিজ্ঞেস করলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরতে হলে কি করা লাগবে? আবু সাঈদ চৌধুরী সাহেব হাইকোর্টেরও জজ ছিলেন। আমরা বারান্দায় বসে বুদ্ধি করছি যে, এক লাইন যোগ করলেই তো হয়। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মধ্যে আছে বঙ্গবন্ধু ইজ প্রেসিডেন্ট। তাজউদ্দীন ইজ প্রাইমমিনিস্টার। নজরুল ইসলাম ইজ অ্যাকটিং প্রেসিডেন্ট। আমি বললাম, একটা বাক্য ‘প্রেসিডেন্ট শ্যাল পারফর্ম অল হিজ ফাংশন্স অন দি অ্যাডভাইজ অব দ্য প্রাইমমিনিস্টার’ এটা যদি একটা গেজেট করে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া হয় আর বঙ্গবন্ধু প্রাইমমিনিস্টার হিসেবে শপথ নেন, আর অন্য একজন প্রেসিডেন্ট হন, তখন ওই প্রেসিডেন্টের তো কোনো ক্ষমতা থাকবে না। কারণ যা কিছু হবে, সই করবে প্রেসিডেন্ট, সবই করবে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী। এটা হবে পার্লামেন্টারি ফর্মের ভাষা। আমরা এসে ঘণ্টাখানেকের মতো বোধহয় বসেছি।

বঙ্গবন্ধু বললেন, রুহুল কুদ্দুস এটাকে গভর্নমেন্ট প্রেসে পাঠিয়ে দাও। তাহলে আমাকে তো প্রাইমমিনিস্টার হতে হচ্ছে। তাজউদ্দীন তুমি ফাইন্যান্স মিনিস্টার হবে আর প্রেসিডেন্ট কে হবে? আবু সাঈদ চৌধুরী সাহেব আপনি প্রেসিডেন্টের শপথ নেবেন কালকে। এভাবেই নিজেদের মধ্যে কথা হয়েছে। আবু সাঈদ চৌধুরী বললেন, বলেন কি! আমার তো ফ্যামিলি লন্ডনে। ওনার ধারণা ছিল যে উনি অ্যাম্বাসেডর হবেন। স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রের পক্ষে যাবেন। বঙ্গবন্ধু বললেন, না না আপনাকে ছাড়া হয় কী করে! আপনার প্রেসিডেন্ট হওয়া সম্মানজনক হবে। কনস্টিটিউশনাল হেড হবেন। আর কালকে আপনি আমাদেরকে শপথ পড়াবেন। ''

ড. কামালের বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে যে তারেক রহমান জাতির পিতাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন, এর প্রতিবাদ না করে সেই ড. কামালই এখন হয়ে উঠেছেন বেগম খালেদা জিয়া-তারেক রহমানের ত্রাতা !এর প্রকৃত রহস্য কি? ড. কামাল হোসেনের ফ্রন্টে আরও যারা সক্রিয় রয়েছেন এর মধ্যে অন্যতম মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তার পাকিস্তান প্রীতি এখন ভালোভাবেই চাউর হচ্ছে।

মাহমুদুর রহমান মান্না সম্প্রতি নাগরিক টেলিভিশনের টকশোতে পাকিস্তান বন্দনায় মুখর হয়েছেন। ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের চেয়ে পাকিস্তান অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। মান্নার এই মন্তব্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে দেশজুড়ে। কারণ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূচক বলছে, অর্থনীতি, সামাজিক অগ্রগতিসহ প্রায় সকল ক্ষেত্রেই পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

নাগরিক টেলিভিশনের টকশোতে বাংলাদেশকে ‘উন্নয়নের রোল মডেল’ বলে বহুল ব্যবহৃত বাক্যাংশকে চ্যালেঞ্জ করতে গিয়ে মান্না বলেন, ''বাংলাদেশ কোন দেশের রোল মডেল বলেন তো? পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা আমাদের চেয়ে ভালো। যাকে আমরা সবচাইতে সমালোচনা করি।''

মান্নার এমন মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে সঞ্চালক তাঁকে পাল্টা প্রশ্ন করেন ‘পাকিস্তানের অবস্থা আমাদের চেয়ে ভালো?’উত্তরে মান্না বলেন, ‘হ্যাঁ, ডেফিনেটলি। তাদের গ্রোথ ইয়ে টিয়ে সব দিক থেকে অনেক বেশি স্টেবল এবং তাদের ইনস্টিটিটিউশনগুলো অনেক বেশি স্টেবল।’

এরাই এখন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার ঝাণ্ডা উড়াতে চাইছেন। এর নেপথ্যে কি? সিলেটের একজন নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদের বক্তব্য আরও লজ্জায় ফেলেছে সচেতন মানুষকে। তিনি প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছেন, তিনি মুজিব কোট পরে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলে ইলেকশন করবেন। জনগণের কাছে যাবেন। জনগণের কাছে তিনি যেতেই পারেন কিন্তু একাত্তরে পরাজিত আলবদর রাজাকারদের পরোক্ষ পারপাস সার্ভ করে কি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন সম্ভব? ২০১৮ সালের বাংলাদেশ তো এমনটি বিশ্বাস করে না। করতে পারে না।

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার কথা আপনাদের মনে আছে, প্রিয় পাঠক! আমি সেই দিনটির মর্মান্তিক দৃশ্য স্মরণ করিয়ে খুব বেদনার সাথে পুনরায় লিখতে চাই, সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে এসে সন্ত্রাসীদের গ্রেনেডে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমান, কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক মোস্তাক আহমেদ সেন্টু, শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী ল্যান্স কর্পোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ, মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা), মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের (দক্ষিণ) কর্মী সুফিয়া বেগম, ১৫নং ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হাসিনা মমতাজ রীনা, মাদারীপুর জেলার ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি লিটন মুন্সী, রি-রোলিং মিল ব্যবসায়ী রতন সিকদার, ৩০নং ওয়ার্ড শ্রমিক নেতা মো. হানিফ, সরকারি কবি নজরুল কলেজের দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্র মামুন মৃধা, ৬৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ সহসম্পাদক বেলাল হোসেন, আমিনুল ইসলাম মোয়জ্জেম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের আবদুস কুদ্দুস পাটোয়ারী, যুবলীগ নেতা আতিক সরকার, শ্রমিক লীগ কর্মী নাসিরউদ্দীন সরদার, মহিলা আওয়ামী লীগের রেজিয়া বেগম, বালুঘাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, আবুল কাশেম, মমিন আলী, শামসুদ্দিন, ইছহাক মিয়া এবং অজ্ঞাতনামা আরো দুজন।

২৪ জন নিহত হওয়া ছাড়াও সেদিন আহত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাসহ ৪ শতাধিক নেতাকর্মী। কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আহত হন আমির হোসেন আমু, আব্দুর রাজ্জাক, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, এডভোকেট সাহারা খাতুন, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, মোহাম্মদ হানিফ, সাবের হোসেন চৌধুরী, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ প্রমুখ। হ্যাঁ, সুলতানও সেদিন রক্তাক্ত হয়েছিলেন। আজ সেই গ্রেনেড হামলার মূল হোতাদের সাথে হাত মিলিয়েছেন সুলতান! এর চেয়ে মর্মান্তিক আর কি হতে পারে!

কেন তার এই স্খলন ? এই প্রশ্নটিই করছেন আজ সুলতান মনসুরের সতীর্থরা। ক্ষমতার কাছে যেতে পারেন নি বলে? তিনি তো তার ধৈর্য্যের পরিচয় দিতে পারতেন। কেন পারলেন না? আ স ম আবদুর রব সবসময় ক্ষমতার ভাগ চান। তিনি এরশাদের বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন। ছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীও কোয়ালিশন করে। এখনও ক্ষমতা চান। পাননি বলেই তিনি এখন সরব।

একথাটি খুবই স্পষ্ট, ড. কামাল হোসেনকে সামনে রেখে মূল খেলাটি খেলছে বিএনপি। আর আরও নেপথ্যে রয়েছে একাত্তরের পরাজিত শক্তি গোলাম আজমের প্রেতাত্মারা। সময় হলেই ওরা বেরিয়ে আসবে। ড. কামাল মূলত একটি ঢাল হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছেন।

আজ যারা রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের বলে জিগির তুলছেন, ২০০১-২০০৫ সালের জঙ্গীবাদী-মৌলবাদী শক্তির উত্থানের সময় তারা কোথায় ছিলেন? তারা কোথায় ছিলেন যখন আলবদর মুজাহিদ-নিজামীর গাড়িতে মন্ত্রীর পতাকা তুলে দিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।

বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা চান। কিন্তু তা অবশ্যই একাত্তরের পরাজিত শক্তি, কিংবা ২১ আগস্টের দাগী অপরাধীদের পালে হাওয়া দেয়ার জন্য নয়। বিএনপি ২০ দলের নামে জামায়াতের সাথে আছে, আবার ফ্রন্টের নামে ড. কামালের এ টিম হিসেবে আছে- এটাই তাদের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড। বাংলাদেশের মানুষ এতো বোকা নয়। তারা এই দ্বৈতচরিত্রের নকশা ও মুখোশ ঠিকই ধরতে পারছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই ছিল গণমানুষের রাষ্ট্র- এই ধুয়া তুলে যারা অন্য মতলব হাসিল করতে চাইছেন, তারা বার বারই চিহ্নিত হচ্ছেন।

নিউ ইয়র্ক ২৬ অক্টোবর ২০১৮

লেখক : কবি, কলামিস্ট।
oronik@aol.com

এইচআর/পিআর

বাংলাদেশ স্বাধীন হলো। কিন্তু একটি মহল এই স্বাধীনতা মেনে নিতে পারেনি। তারা টার্গেট করে রেখেছিল বঙ্গবন্ধুকেই। কি ছিল তাঁর অপরাধ! অপরাধ একটিই, তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। এরপরে ১৫ আগস্টের মর্মান্তিকতা আমরা ভুলে যাই নি

আপনার মতামত লিখুন :