ফাঁসি কার্যকর হোক

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ১০:০১ এএম, ১৬ এপ্রিল ২০১৯

অবশেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. একেএম শফিউল ইসলাম লিলন হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক অনুপ কুমার এ রায় দেন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এ রায় স্বস্তিদায়ক। দ্রুত এ রায় কার্যকর করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন চৌদ্দপাই এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় অধ্যাপক শফিউলকে। পরের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মুহাম্মদ এন্তাজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে নগরীর মতিহার থানায় হত্যা মামলা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রাজশাহীর কাটাখালী পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুল ইসলাম মানিক, আবদুস সামাদ পিন্টু ও সবুজ শেখ। এর মধ্যে সবুজ শেখ পলাতক রয়েছেন। অন্য দুজন রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এ মামলার বাকি আট আসামি বেকসুর খালাস পেয়েছেন।

লালন ভক্ত ড. একেএম শফিউল ইসলাম লিলন মুক্তমনা ও প্রগতিশীল আদর্শের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত ছিলেন। ২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন চৌদ্দপাই এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় অধ্যাপক শফিউলকে। পরের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মুহাম্মদ এন্তাজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে নগরীর মতিহার থানায় হত্যা মামলা করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখায় কর্মরত নাসরিন আখতার রেশমার সঙ্গে শফিউল ইসলামের দ্বন্দ্বের জেরে তার স্বামী যুবদল নেতা পিন্টু লোকজন নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

এটা খুবই আশঙ্কার বিষয় যে গত দুই বছরে দেশে পাঁচজন মুক্তমনা ব্লগার এবং একজন প্রকাশককে হত্যা করা হয়েছে। মূলত ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দারকে খুনের মাধ্যমে শুরু হয় ধারাবাহিক ব্লগার হত্যাযজ্ঞ। একই ধারাবাহিকতায় ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা থেকে ফেরার পথে টিএসসির কাছে নৃশংসভাবে খুন করা হয় মার্কিন প্রবাসী বাংলাদেশি ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায়কে। এর এক মাসের মাথায় খুন হন ওয়াশিকুর রহমান। এ ঘটনার দুই মাস পরই মার্চে সিলেটে খুন হন অনন্ত বিজয় দাস নামে আরেক ব্লগার। আগস্টে হত্যা করা হয় নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায়কে। ব্লগারদের পর সবর্শেষ আঘাত আসলো নাজিমুদ্দিন সামাদের ওপর।

একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে মুক্তমনা লেখক ও প্রকাশকদের ওপর এ ধরনের আঘাত কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। এ অবস্থা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের পথে এক বিরাট বাধা। মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতার বোধ তৈরি করে এসব ঘটনা। ফলে একটি রাষ্ট্র বা সমাজ তার স্বাভাবিক গতি-প্রকৃতি হারায়। হয়ে পড়ে দিকভ্রান্তহীন। অপরাধীরা পার পেয়ে যায় বলেই আরও অপরাধ করতে উৎসাহিত হয়। হত্যার পর মামলা হয়। নিয়মমাফিক তদন্তও চলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হত্যার কোনো কিনারা হয় না। এ কারণে বিচার চাওয়ার প্রতিও আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন ভুক্তভোগীরা।

সরকারের পক্ষ থেকে হত্যার বিচারের ব্যাপারে আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু একটা পর্যায়ে গিয়ে তদন্ত আর এগোয় না। কিংবা তদন্তের গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে কেউ কিছু জানতে পারে না। চরমপন্থার উত্থান ঠেকাতে হলে আইন-আদালতের প্রথাগত শাস্তির বাইরেও বিষয়টির গভীরে প্রবেশ করতে হবে। সমাজে বা রাষ্ট্রে কেন, কোন পরিস্থিতিতে চরমপন্থার উত্থান ঘটছে এবং তারা অবাধে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পারছে সে বিষয়গুলোও ভাবতে হবে। সামাজিক প্রতিরোধও এখানে বড় নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।

অধ্যাপক শফিউল হত্যার রায়ে তিনজনের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। এখনো অনেক আইনি ধাপ বাকি আছে। আমরা আশা করবো শেষ পর্যন্ত অপরাধীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবে।

এইচআর/এমকেএইচ

অধ্যাপক শফিউল হত্যার রায়ে তিনজনের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। এখনো অনেক আইনি ধাপ বাকি আছে। আমরা আশা করবো শেষ পর্যন্ত অপরাধীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবে।

আপনার মতামত লিখুন :