মুজিবনগর দিবস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাস্তবায়ন

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ১০:২৪ এএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৯

আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে এক অনাড়ম্বর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণ। সেদিন শপথ অনুষ্ঠানে পাঠ করা হয় স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

সেই ঘোষণাপত্র রচিত হয় ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী বাঙালির ওপর আক্রমণ শুরু করলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার ভিত্তিতে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পর পাকিস্তান বাহিনী গ্রেফতার করে বঙ্গবন্ধুকে। ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি করে গঠন করা হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

এই সরকারের অন্য সদস্যরা হলেন- উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রী ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, এ এইচ এম কামরুজ্জামান, খন্দকার মোশতাক আহমেদ। ১৭ এপ্রিল সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং কর্নেল আতাউল গনি ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি ঘোষণা করা হয়। শপথ অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে মন্ত্রিসভার সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানে মেহেরপুরের অপরিচিত গ্রাম বৈদ্যনাথতলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর।

মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য অংশ। মূলত এই সরকারের নেতৃত্বেই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলে। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর নানা দিক থেকেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু হচ্ছে। এটি এখন দৃশ্যমান বাস্তবতা। সামাজিক, অর্থনৈতিক নানা সূচকেও পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে এগিয়ে বাংলাদেশ। এই অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বজায় রাখতে হবে। ঠেকাতে হবে ইতিহাস বিকৃতি।

দুঃখজনক অভিজ্ঞতা হলো, দীর্ঘদিন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার একটি প্রাণপণ অপচেষ্টা বিএনপি-জামায়াতসহ একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কাছ থেকে হয়ে এসেছে। তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এইসব বাস্তব ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে বাদ দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করেছে। সে কারণেই দেখা যায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মহৎ অনেক ঘটনাই আমাদের সমাজের অনেক তরুণ-তরুণীর কাছে খণ্ডিতভাবে জানার মধ্যে রয়ে গেছে, অনেকেই ভালো করে মুক্তিযুদ্ধের এসব অবিচ্ছেদ্য অংশের গুরুত্ব আলাদা বা সামগ্রিকভাবে উপলব্ধি করতে পারছেন না।

এটি আমাদের জন্যে বেশ গ্লানিকর বটে। আমরা আশা করবো, বর্তমান এবং আগামী প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সমগ্র ইতিহাসই এর মূল চেতনায় উপলব্ধি করার চেষ্টা করবে। এর জন্যে তাদেরকে তথ্য উপাত্তসহ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে পড়তে হবে, জানতে হবে, তবেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করার আয়োজন ফলপ্রসূ হতে পারে।

এইচআর/জেআইএম

আমরা আশা করবো, বর্তমান এবং আগামী প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সমগ্র ইতিহাসই এর মূল চেতনায় উপলব্ধি করার চেষ্টা করবে। এর জন্যে তাদেরকে তথ্য উপাত্তসহ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে পড়তে হবে, জানতে হবে, তবেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করার আয়োজন ফলপ্রসূ হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন :