বিশ্বকাপ একাদশে সাকিবকে রাখতেই হবে

অঘোর মন্ডল
অঘোর মন্ডল অঘোর মন্ডল , স্পোর্টস এডিটর, দীপ্ত টিভি
প্রকাশিত: ০২:১৪ পিএম, ২৫ জুন ২০১৯

অলরাউন্ডার হিসেবে বিশ্বক্রিকেট সমাজে ক্যারি করার মত নাম-সাকিব আল হাসান। কিন্তু তিনিই এক নম্বর এটা মানতে ক্রিকেট বিশ্বের বড় একটা অংশের আপত্তি আছে। সেটা কখনো সরাসরি বলেছেন। কখনো ইনিয়ে বিনিয়ে অন্য কোন নাম প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছেন। কখনো বা পেছনমুখি হয়ে ইতিহাসের পাতা উল্টিয়ে বড় বড় নাম বের করে এনে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচারের চেষ্টা করেছেন। উপসংহার টানতে চেয়েছেন; সাকিব ভাল। র‌্যাংকিংয়েও এক নম্বরে। তবে তারচেয়ে অনেক ভাল অলরাউন্ডার দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব।

ক্রিকেট বিশ্ব হয়তো দেখেছে। কিন্তু বিশ্বকাপ? কপিল দেব, ইমরান খান কাপ জিতিয়েছেন নিজেদের দেশকে। স্টিভ ওয়াহ নামক একজন লোকও অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন। সেটা একাধিকবার। কিন্তু তাকে যে অলরাউন্ডার হিসেবেই মানতে রাজি নন তাঁর দেশের এক বিখ্যাত ক্রিকেটার; ইয়ান চ্যাপেল! কিন্তু ইমরান, কপিল দেব অলরাউন্ডার নন, সেটা বলার দুঃসাহস কোন অস্ট্রেলিয়ান বা ইংলিশ দেখান না। কারণ; ইংল্যান্ডের মাটি থেকে কপিল বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন ভারতকে। আর ইমরান খান পাকিস্তানকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। সেটা ইংলিশদের দুমড়ে–মুচড়ে দিয়ে। ইয়ান বোথাম নামের একজন লোকও সেই ইংল্যান্ড দলে ছিলেন।

তবে হ্যাঁ, বিশ্বকাপ জিতলেই তিনি সেরা অলরাউন্ডার। এই তত্ত্ব অচল। কারণ, স্যার রিচার্ড হ্যাডলির মত ক্রিকেটার বিশ্বকাপ জিততে পারেননি। স্যার ইয়ান বোথাম পারেননি। তার অর্থ এই নয়, যে তারা সেরা অলরাউন্ডারের তালিকায় থাকবেন না। থাকবেন। সর্বকালের সেরাদের তালিাকায়ই থাকবে নামগুলো। আপনাকে রাখতেই হবে।

কিন্তু বিশ্বকাপ ইতিহাসে সাকিব আল হাসান এরই মধ্যে সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারের দাবিটা জোরালো করেছেন। এবার নিয়ে সাকিব তাঁর ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলছেন। এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করতে পারেননি। এমন কী ফাইনালেও তুলতে পারেননি। তারপরও পরিসংখ্যান বলছে; বিশ্বকাপে সাকিবের ব্যক্তিগত কীর্তির কাছাকাছি কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না!

আফগানদের হুমকি-ধামকিকে সাউদাম্পটনে টাইটানিকের মত ডুবিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে খেলার আশার মাস্তুলটাকে উচিয়ে রাখলেন। সঙ্গে অনন্য এক মাইলফলক পেরিয়ে গেলেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে ১৯তম ব্যাটসম্যান হিসেবে এক হাজার রানের মাইলফলক পেরিয়ে গেলেন। পেছনে ফেললেন অনেক বড় বড় নাম। অজুর্না রানাতুঙ্গা, শিব নারায়ণ চন্দরপল, স্টিভ , ওয়াহ, ম্যাথু হেইডেন, সৌরভ গাঙ্গুলি, মার্ক ওয়াহ এবং স্যার ভিভ রিচার্ডকে। সেই সঙ্গে আছে তার ৩০ উইকেট।

হাজার রান আর ত্রিশ উইকেট পাওয়া অলরাউন্ডার বিশ্বকাপ ইতিহাসে আর কেউ নেই। তবে একটা জায়গায় সাকিব আর যুবরাজ সিং একই সমান্তরালে এসে দাঁড়িয়েছেন। এক ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি আর পাঁচ উইকেট। কাল আফগানিস্তানের বিপক্ষে সাকিব করলেন ৫১ রান। আর নিলেন ২৯ রানে ৫ উইকেট! সাকিবে বলীয়ান বাংলাদেশ এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম ফেবারিট হিসেবে ভাবলে দোষের কিছু নেই। সত্যিই সাকিবের পারফরম্যান্স এবারের বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত রুপকথার মত। কোনটা রুপকথা আর কোনটা সত্যি তা বোঝা কঠিন!

তবে সাকিবের এই রুপকথার মত পারফরম্যান্সকে ক্রিকেট বিশ্বে অনেকে সৎমায়ের চোখ দিয়ে দেখেন। যদিও স্কোরকার্ড তার এই পারফরম্যান্সকে অস্বীকার করতে পারছে না। সাকিব নিজের দেশকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করতে পারবেন কী না সেই প্রশ্নটা করার সময় এখনও আসেনি। তবে সাকিব নামের এক বাঁহাতি বিশ্বকাপ প্রত্যাশী অনেক দেশের স্বপ্নকে খাঁদের কিনারে নিয়ে ফেলেছেন।

আবার অনেকের বেঁচে থাকা স্বপ্নকে জনাকয়েক দেশপ্রেমিক আম্পায়ার সেই কিনার থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করছেন। তার সবশেষ নমুনা রেখে গেলেন এক পাকিস্তানি আম্পায়ার। নিজে অনফিল্ড আম্পায়ার ছিলেন না। কিন্তু থার্ড আম্পায়ার হিসেবে আলিম দার যা দেখালেন, তাতে তিনি মাঠে থাকলে কি হতে পারতো সেটা সহজেই বোঝা যায়।

সাকিব বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এটা মানতে অন্যদের যতোই অসুবিধা হোক না কেন, ফেসবুক মনে করিয়ে দিচ্ছে, চার বছর আগের বিশ্বকাপে সাবেক এক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ককে ব্রিসবেনে বসে ইন্টারভিউ করার সময় প্রসঙ্গ উঠতেই ভদ্রলোক বলেছিলেন, ‘সাকিব বিশ্বসেরা, এটা মানতে অসুবিধা কোথায়?’ ভদ্রলোকের নাম- মার্ক টেলর। যার চিরকালীন ক্রিকেট দুঃখ-লাহোরে অস্ট্রেলিয়াকে ফাইনালে তুলেও বিশ্বকাপটা নিয়ে মেলবোর্নে জলিমন্ট স্ট্রিটে জমা রাখতে না পারা!

সাকিবের ক্রিকেট ক্যারিয়ারেও হয়তো এরকম একটা দুঃখ থাকতে পারে। বিশ্বকাপ জেতা হলো না! তবে এবারের বিশ্বকাপে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন অন্যভাবে। যে কারণে, কোন ক্রিকেট চিন্তাশীল মানুষ এবারের বিশ্বকাপ একাদশ বাছতে গিয়ে সাকিবকে টিমের বাইরে রাখতে পারবেন না।
লেখক: সিনিয়র জার্নালিস্ট ও কলাম লেখক।

এইচআর/জেআইএম

অনেকের বেঁচে থাকা স্বপ্নকে জনাকয়েক দেশপ্রেমিক আম্পায়ার সেই কিনার থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করছেন। তার সবশেষ নমুনা রেখে গেলেন এক পাকিস্তানি আম্পায়ার। নিজে অনফিল্ড আম্পায়ার ছিলেন না। কিন্তু থার্ড আম্পায়ার হিসেবে আলিম দার যা দেখালেন, তাতে তিনি মাঠে থাকলে কী হতে পারতো সেটা সহজেই বোঝা যায়।

আপনার মতামত লিখুন :