মাশরাফির উত্তরের মাঝে অনেক প্রশ্ন

অঘোর মন্ডল
অঘোর মন্ডল অঘোর মন্ডল , এডিটর, দীপ্ত টিভি
প্রকাশিত: ০৯:৫৯ এএম, ১২ জানুয়ারি ২০২০

সাংবাদিকের কাজ প্রশ্ন করা। সেই প্রশ্ন কারো কাছে প্রিয়। কারো কাছে অপ্রিয়। প্রশ্ন করার অধিকার যেমন সাংবাদিকের আছে তেমনি উত্তর দেয়া-না দেয়ার একটা অধিকারও সম্ভাবত উত্তরদাতার আছে। কিংবা কৌশলে অপ্রিয় প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাও অনেকের আছে। আবার কেউ কেউ কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার দক্ষতা দেখান। তারপরও সাংবাদিকরা প্রশ্ন তোলেন। অন্যকে জানানোর আগ্রহ নিয়েও প্রশ্ন করেন। যদিও এখন অনেকে বলেন; সব প্রশ্নের উত্তর হয় না। সব প্রশ্ন করতে নাই। প্রশ্ন করলে বিপদ।

কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেটে মাশরাফি এমন এক চরিত্র, যিনি আর যাই হোক, সাংবাদিকদের বিপদে ফেলেননি। বরং কখনও কখনও সাংবাদিকরাই তার মন পড়তে পারেননি। সংখ্যা দিয়ে সবাইকে মাপতে গেলে বিপদ। অনূর্ধ্ব -১৭ খেলা কৌশিক থেকে মাশরাফি বিন মোর্তাজার টেস্ট খেলা, অধিনায়ক হওয়া, ক্যারিয়ারের শুরুতে ইনজুরি আক্রান্ত হওয়া, বার সাতেক অপারেশন থিয়েটারে ঢোকা, তার পায়ে ঢাকা কমিউনিটি ক্লিনিকে ব্যান্ডেজ বাঁধা থেকে মেলবোর্নে ডাক্তার ইয়ং তার পায়ে অস্ত্র পচার করার পর সেই ডাক্তারের সাথে কথা বলার কিঞ্চিত সুযোগ হয়েছে।

সেটা মাশরাফি ক্রিকেটার সে কারণে। তারপরও বলছি; মাশরাফিকে পড়া সত্যি কঠিন কাজ। যদিও তার মত সিংহ হৃদয়ের মানুষ বাংলাদেশ ক্রিকেট কমই পেয়েছে। সাংবাদিকরাও এমন চরিত্র কম পেয়েছেন। যাকে নিয়ে কিছু কথা লিখতে পারাও সাংবাদিক হিসেবে নিজের ক্যারিয়ারে কিছু স্কোর জমা করা। সেই মাশরাফিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্তারাও ঠিক চিনতে পেরেছেন সে দাবি কেউ করবেন না। কারণ, আজ যারা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে বড় কর্তা, তাদের দুই একজন দেড়যুগ আগেই মাশরাফিকে 'অচল' এর খাতায় রেখে দিয়েছিলেন। তারপরও অনেকে তাকে দলে রাখা মানে‌'ব্যাগেজ' টানা মনে করে বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ দিয়েছিলেন। এখন তাদের অনেকে সেই ম্যাশের সাথে সেলফি কিংবা বিসিবির নিয়োগ করা ক্যামেরা পারসনকে দিয়ে হাস্যোজ্জ্বল মুখে ছবি তোলেন। এই ছবিগুলোই মাশরাফির ক্যারিয়ারের কয়েকশ উইকেট আর কয়েক হাজার রানের সমান!

এভাবে যিনি তার সমালোচকদের আঘাত ফিরিয়ে দিতে পারেন হাসিমাখা মুখের ছবির প্রত্যাঘাতে, তাকে নিয়ে এখনও কম চর্চা হয় না। বঙ্গবন্ধু বিপিএলে মাশরাফি খেলছেন। তবে বিপিএল ড্রাফটে তিনি আনসোল্ড! দিন দুয়েক আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি সেই মাশরাফি অনেক কথা বললেন। অনেক প্রশ্নের উত্তর দিলেন। কিন্তু সেই সব উত্তরের মাঝে অনেক প্রশ্ন তুলে দিয়ে গেলেন।

বাইশ গজ থেকে অবসর না নিয়ে যিনি রাজনীতির মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তিনি এখন শুধু ক্রিকেটার নন। একজন রাজনীতিবিদও বটে। কিন্তু মাশরাফির উত্তরে ক্ষমতা বা রাজনীতির গন্ধ খুঁজে পাওয়া যায়নি। বরং এক ধরনের হতাশা, আক্ষেপ আছে। সেটা বোঝা যায়। মাশরাফি কেন ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছেন না, এমন সংঘবদ্ধ আওয়াজ এখনো উঠেনি। কিন্তু কানাঘুষা যে হয়, সেটা বিপিএলের ড্রাফটে পরিষ্কার বোঝা গেছে। সেটা মাশরাফির কানে পৌঁছায়নি, তা ভাবার কোন কারণ নেই। তবু দিন শেষে সাংবাদিকরা পেশাগত কারণেই প্রশ্নটা করেছেন।

উত্তরটা কী? ‘সবাইতো আমাকে অবসরে পাঠিয়ে দিয়েছেন।' অভিমানহীন মাশরাফির গলায় কী প্রচ্ছন্ন অভিমান খুঁজে পাওয়া যায় না? কিছুদিন আগে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, 'আপনার কাছে দলের প্রত্যাশা কি? ' উত্তরটা- 'আনসোল্ড ক্রিকেটারের কাছে আবার প্রত্যাশা!’-আক্ষেপের সুর কী বাজে না তার কণ্ঠে! বিশ্বকাপে আট ম্যাচে এক উইকেট পাওয়া মাশরাফিকে কী ডাকা হবে জাতীয় দলে? এই প্রশ্নের উত্তর' আমি কীভাবে বলবো'। যারা বলবেন তারা নির্বাচক। তাদের কাছে নির্দেশনা আসবে বিসিবি থেকে। কারণ, মাশরাফি বিশ্বকাপে তো শুধু ক্রিকেটার ছিলেন না। ছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়কও। মাশরাফির উত্তরটাকে মুক্তচিন্তার ধরে নিতে আপত্তি কোথায়? দিন শেষে জয় মুক্তচিন্তার-ই হয়।

মাশরাফির কাছে যে প্রশ্নগুলো তার উত্তর জানতে অবশ্য পড়তে হয়েছে কত কত শব্দ। আর সেই পড়া থেকেই নতুন চিন্তা আসে।এই চিন্তা থেকে আবার যে প্রশ্ন জাগে, তার উত্তর পেয়ে যাই কয়েক বছর আগে কলম্বোতে শ্রীলংকার বিপক্ষে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে টসের পর, কমেন্টেটরের কাছে মাশরাফির কথায়। 'এটাই আমার ক্যারিয়ারের শেষ টি-টোয়েন্টি!’ তার আগে কি কেউ লিখেছিলেন, এ ম্যাচই হতে যাচ্ছে মাশরাফির শেষ টি-টোয়েন্টি!'

আমার-আপনার মত আমজনতা কেন, বিসিবির কর্তারা কী জানতেন? কারো মুখে এখনও শুনিনি,' হ্যাঁ- জানতাম।' মাশরাফি নামটা নিশ্চয়ই ধুলো-কাদায় গড়াগড়ি খাওয়ার মত হালকা নয়। মাশরাফি নিজে সেটা আমাদের অনেকের চেয়ে ভাল জানেন। বিসিবি কর্তাদের নাম বদলেছে। চেহারা বদলেছে। বোর্ড পরিচালনার চিন্তায় এবং ধরনে কতটা বদলেছে, সেটাও বড় প্রশ্ন।

লেখক: সিনিয়র জার্নালিস্ট ও কলামিস্ট।

এইচআর/পিআর

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে মাশরাফি খেলছেন। তবে বিপিএল ড্রাফটে তিনি আনসোল্ড! দিন দুয়েক আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি সেই মাশরাফি অনেক কথা বললেন। অনেক প্রশ্নের উত্তর দিলেন। কিন্তু সেই সব উত্তরের মাঝে অনেক প্রশ্ন তুলে দিয়ে গেলেন

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]