প্রতিবন্ধিতা কোনো প্রতিবন্ধকতা নয়, তারাও দেশের সম্পদ

সম্পাদকীয় ডেস্ক সম্পাদকীয় ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:২৫ এএম, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০

ফারিয়া ইয়াসমিন

প্রতিবন্ধীরাও আমাদের মতো সমাজের অংশ। আমরা সবাই মানুষ। হয়তো কেউ শারীরিক, মানসিকভাবে সুস্থ, কেউ অসুস্থ। আজ ৩ ডিসেম্বর, বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস। প্রতিবন্ধীদের নিচু দৃষ্টিভঙ্গিতে বা অবহেলা দৃষ্টিতে দেখার কোনো বিষয় নেই বরং তাদের আরও সহানুভূতি ও সহযোগিতার দৃষ্টিতে দেখতে হবে। প্রতিবছর ডিসেম্বরের ৩ তারিখে বিশ্বব্যাপী প্রতিবন্ধী দিবস পালিত হয়।

কোনো ব্যক্তির শরীরের কোনো অংশ যখন স্বাভাবিকভাবে কাজ করে না তখন তাকে প্রতিবন্ধী বলে। যেমন- দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, বাকপ্রতিবন্ধী, শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী। ‘প্রতিবন্ধী’ নামক শব্দটা জুড়ে দেয়া মানেই তারা অবহেলার পাত্র নয়। অনেক ক্ষেত্রে এসব শিশু লেখাপড়া বা অন্যান্য কাজে সাধারণ শিশুদের থেকে ভালো হয়।

১৯৯২ সাল থেকে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে। মূলত তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শনের জন্য ও সম্মান জানানোর জন্য পালন করা হয়। শারীরিকভাবে অসম্পূর্ণ মানুষগুলোকে অনেকে বোঝা মনে করেন। এদের পারিবারিক, সামাজিকভাবে অনেক অবহেলার শিকার হতে হয়। প্রতিবন্ধিতা কোনো প্রতিবন্ধকতা নয় বরং আমাদের অবহেলার কারণে এটা প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায়। একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে এরা এগিয়ে যাবে সেই সাথে এগিয়ে নিয়ে যাবে সমাজকে, দেশকে। এদের কেউ জনসম্পদে পরিণত করা যায় প্রয়োজন শুধু দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আর যথাযথ উদ্যোগ।

প্রতিবন্ধীদের অসহায় অবস্থার অবসান করতে আমাদের দেশে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ, প্রতিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুনর্বাসন, যাতায়াত সুবিধা, ক্রীড়া সংস্কৃতি ও সামাজিক নিরাপত্তা প্রদানে ২০০১ সালে ‘প্রতিবন্ধী কল্যাণ আইন’ এ সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ‘ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট’ ২০১১ অনুযায়ী বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে প্রতিবন্ধিতার শিকার। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ মানুষ প্রতিবন্ধী যা এড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়।

দেশের ৬৪ জেলা এবং ৩৮টি উপজেলায় ১০৩টি প্রতিবন্ধী সেবা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং অটিজম সেন্টার চালু করা হয়েছে। দেশের সেনানিবাসে চালু করা হয়েছে ‘প্রয়াস’ নামের প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়। প্রতিবন্ধীদের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষ বলা হয়। আসলেই এরা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন এবং তাদের মাঝে অনেক আলাদা গুণাবলি রয়েছে যেগুলো অন্য সাধারণ মানুষের মাঝে নেই।

আমাদের উচিত তাদের অক্ষমতাকে সরিয়ে বিশেষ গুণাবলি বিকাশের পথ সুগম করে দেয়া। পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, চাকরি সকল ক্ষেত্র থেকে বৈষম্য সরিয়ে তাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে আমাদের অবহেলা তাদের মধ্যকার ইচ্ছাশক্তিকে নষ্ট করে দেয় তার ফলে তারা নিজেদের সমাজের বোঝা মনে করে।

প্রতিবন্ধীদের বুদ্ধির বিকাশের জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগ ও ব্যক্তি উদ্যোগে গঠিত বিভিন্ন সংস্থা কাজ করে চলেছে। শারীরিকভাবে অক্ষমতা থাকলে তাকে অবহেলা নয়, সহযোগিতা সম্মান, সহানুভূতি প্রদর্শন প্রয়োজন ৩ ডিসেম্বর বিশ্বজুড়ে সকলকে এই কথাটাই মনে করিয়ে দেয়া হয়। প্রতিবন্ধী শিশুদের অধিকার রয়েছে সমাজে অন্যদের মতো সুযোগ-সুবিধা লাভ করা আর আমাদের দায়িত্ব হলো তাদের অধিকারের প্রতি বিশেষভাবে নজর দেয়া।

শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসংস্থান প্রভৃতি ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষায়িত কার্যক্রমের প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের উচিত প্রতিবন্ধী মানুষটার দিকে তাকানো তার অক্ষমতার দিকে নয়। এখন সময় পাল্টাচ্ছে এই বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন জনগোষ্ঠীরা নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। আমাদের শুধু তাদের পাশে থাকতে হবে।

সরকার আইন প্রণয়ন করেছে কিন্তু এই আইনের প্রয়োগ কতটুকু কার্যকর হচ্ছে সেটা দেখা জরুরি। আমাদের সকলের সহযোগিতার হাত যদি তাদের দিকে বাড়িয়ে দেয়া হয় তাহলে তারা মানবসম্পদে পরিণত হবে। তারাও পারবে সমাজের অন্যান্য মানুষের মতো সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে।

লেখক : শিক্ষার্থী, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

এইচআর/বিএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]