শিশু শিক্ষার গুরুত্ব ও করণীয়

সুভাষ সিংহ রায় সুভাষ সিংহ রায়
প্রকাশিত: ০২:৩৪ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি দু-তিন দিন আগে ভারতের পারুল প্রকাশনীর একটা বই ‘বিদ্যাসাগরের ছাত্রজীবন’ (লেখক হরেকৃষ্ণ গিরি) খুব মন দিয়ে পড়ছিলেন। আমিও বইটা বেশ মন দিয়ে পড়েছি। বইটা মূলত শিশুদের জন্য শিক্ষাদান পদ্ধতি নিয়ে লেখা। আমাদের দেশে মধ্যবিত্তরা বেশ বিপদেই আছেন। ঢাকা শহরের সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করা যে কত বড় বিড়ম্বনা তা বলে বোঝানো যাবে না। যাদের ছেলেমেয়ে বড় হয়ে গেছে তারাও বুঝবেন। সন্তানের স্কুলে ভর্তি করতে হয় লটারির মাধ্যমে, বাবা-মাকে ইন্টারভিউ দিতে হয়। আবার সেই লটারি কীসের ভিত্তিতে হয় তাও অজানা।

ঢাকা শহরের মিশনারি স্কুলের পড়াশোনার মান তুলনামূলক ভাবে উন্নত। কিন্তু তাদের ভর্তি পদ্ধতি খুবই জটিল এবং অস্পষ্ট। তারা কারও কাছেই জবাবদিহি করে না। তাদের কার্যক্রম শিক্ষা মন্ত্রণালয়, গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় , শিক্ষা অধিদফতরের নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের সম্পূর্ণ বাইরে। জেলা শহরগুলোতেও একেবারে কেজি ক্লাসে ভর্তি করতেও নানা ধরনের পেরেশানির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। প্রায় জায়গায় লটারির মাধ্যমে নিজের সন্তানদের ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন দেখতাম সরকারি চাকরিজীবীদের সন্তানরা যে কোনো জেলার স্কুলে জুন মাসেও ভর্তি হতে পারতো। এখন সম্ভব নয়; তার প্রয়োজনও বোধ করেন না। যদি কুড়িগ্রাম কিংবা পটুয়াখালীর কর্মরত সাব-ইন্সপেক্টরের সন্তান ঢাকার নামিদামি স্কুলে পড়াশোনা করে থাকে তাহলে আলোচনা বহুদূর বিস্তৃত হবে।

আমরা কি বলতে পারবো বাংলাদেশে কতজন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তার সন্তান বাবা-মায়ের কর্মস্থলে লেখাপড়া করে? যে কারণে জেলা ও উপজেলা স্কুলগুলোতে লেখাপড়ার তাগিদও নেই; পরিবেশও নেই। আমাদের দুর্ভাগ্য প্রত্যেক জেলা শহরে শত শত কোচিং সেন্টার; ভালো স্কুল সে তুলনায় হাতেগোনা। গোটা ব্যবস্থা নিয়ে শিশুদের মনস্তত্ত্ব এ ভীষণ চাপ থাকে। এই ইতিহাস একেবারেই অজানা, কবে কীভাবে স্কুলে ভর্তিতে ডোনেশন প্রথা চালু হয়েছে। একেবারে ছোট থাকতে সন্তান যখন জেনে যায় তার বাপের টাকার জোরে ভর্তি হয়েছে তখন সন্তানের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে যায়। এবার আসা যাক যে বইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে শুরু করেছিলাম ‘বিদ্যাসাগরের ছাত্রজীবন’ পঠিত বই নিয়ে।

শিশুদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে উন্নত বিশ্বে অসংখ্য গবেষণা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশে নানা কারণে শিশুদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে চিন্তাভাবনা খুবই কম হচ্ছে। দেশের যতগুলো সমস্যা আছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরেরর মতে তার মধ্যে অন্যতম শিক্ষা সমস্যা। যে সমস্যায় উদ্বেলিত ছিল তার মন। প্রথম বয়স থেকেই এই দুশ্চিন্তার বীজ নিহিত ছিল তার বালক বয়সের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায়, যাকে তিক্তই বলা যায় । দু-দুটি স্কুলে তাকে পাঠানো হয়েছিল যেখানে তিনি টিকতেই পারেননি। বস্তুত রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা চিন্তার সূচনা অজান্তে সেখান থেকেই।

এদেশে ঔপনিবেশিক শিক্ষার বিকৃত এবং বিকলাঙ্গ রূপ রবীন্দ্রনাথকে পীড়িত করেছিল। নানাভাবে নানা সময়ে তার দুশ্চিন্তার কথা প্রকাশ করেছেন তিনি । ডা. লিউইস টার্মান (Lewis Madiskon Terman) শিশুদের মনস্তত্ত্ব বিশারদ হিসেবে বিখ্যাত। তিনি বলেছিলেন যে ছেলেমেয়ে ভবিষ্যতে তীক্ষ্ণধী হবে কিনা তা কতকগুলো লক্ষণ হতে বোঝা যায়। সে লক্ষণগুলো এই- বালক ও বালিকার তীব্র অনুসন্ধিৎসা মেধা ও স্মরণশক্তির প্রাবল্য, বিদ্যালয়ে শিগগিরই উন্নতি, অনেক বিষয়ে সাধারণ জ্ঞানের প্রাচুর্য, বুদ্ধিমানের মতো প্রশ্ন করা, চারদিকে সব পদার্থের ওপর তীক্ষ্ণভাবে নজর রাখা ইত্যাদি।

আমরা ইতিহাস পাঠ থেকে জেনে থাকবো ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বাল্যকালে এসব লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছিল। সে জন্য রামজয়ের (বিদ্যাসাগরের পিতামহ) মতো অভিজ্ঞ লোকে বুঝতে পেরেছিলেন, বালক ঈশ্বরচন্দ্র ভবিষ্যতে তীক্ষ্ণধী হবে- তার প্রতিভার জ্যোতিতে দেশ আলোকিত হবে। এ প্রসঙ্গে লেখক যা উল্লেখ করেছেন তা খুবই প্রণিধানযোগ্য। আমাদের পোড়া কপাল আমরা স্কুল পর্যায়ে যথার্থ শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারিনি কিংবা আদৌ তাগিদ বোধ করছি না।

দুই.
শিশুশিক্ষা নিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, “আমাদের মধ্যে অনেককেই দেখি শিশুদের জন্য কোনো কিছু রচনা করতে গেলেই সত্যের মধ্যে অনেক পরিমাণে জল মিশিয়ে রচনাগুলো জোলো রকমের করে তুলি।” আমরা লক্ষ করে দেখবো রবীন্দ্রনাথের শিশুসাহিত্যের মধ্যে এরূপ অবহেলা নেই। তিনি সেখানেও শ্রদ্ধাবনত সাধকের মতো একাগ্রভাবে শিশুদের কাছে তার প্রীতির অর্ঘ্যই নিবেদন করেছেন। তিনি বলতেন, “শিশুদের জন্য তো এই অসীম আকাশ সঙ্কীর্ণ করিয়া রচনা করা হয় নাই, এই চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারার তো কোনো ক্ষুদ্র সংস্করণ রচিত হয়নি।’

কবিগুরু এ প্রসঙ্গে বলতেন, “বিধাতা যদি শিশুদের এতখানি সম্মান করেন, তবে আমরা কেন তাহাদের প্রতি এত শ্রদ্ধাহীন হইব। আমরা শিশুদের জন্য কিছু করিতে গেলেই ক্ষুদ্র করিয়া জোলো করিয়া তুলি।” শিশুদের নিজেদের সাহিত্য সভা আছে। তাতে তাদের গান, তাদের রচনা উৎসবগুলো ভরপুর করে। সেখানে সাজসজ্জা, প্রসাধন সবই শিশুরা নিজেরাই করে। এইসব উপলক্ষে শিশুদের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ কত গান, নাট্য, অভিনয় প্রভৃতি করেছেন। শিশুদের শিক্ষা দিতে গিয়েও তার যে শ্রদ্ধা ও ধৈর্য দেখেছি, তা তার মতো প্রতিভাশালী মহাপুরুষের পক্ষেই সম্ভব।

এ প্রসঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শিশু শিক্ষা নিয়ে ভাবনার কথা স্মরণ করতে পারি। আমরা খেয়াল করলেই দেখতে পাবো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অত্যন্ত আধুনিক ও সময় উপযোগী। পাঠক একটু খেয়াল করে দেখবেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে যখন জনগণের তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা করাই ছিল দুরূহ, রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অবস্থাও নাজুক, সেই সময় প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক করেছিলেন রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭৩ সালে প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করে ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারি করেন তিনি। স্বল্প সময়ের মধ্যে ১১ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের কাজও করেছিলেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি শিল্প-সংস্কৃতির চর্চার মধ্য দিয়ে শিশুর বিকাশে বঙ্গবন্ধু মনোযোগী ছিলেন।

বঙ্গবন্ধু বলতেন, ‘শিশুদের যথাযথ শিক্ষার ব্যত্যয় ঘটলে কষ্টার্জিত স্বাধীনতা অর্থহীন হবে।’ আর সে কারণেই শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশের দিকে মনোযোগী হয়েছিলেন তিনি। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন এ দেশের শিশুরা শিল্প-সংস্কৃতি নিয়ে বাঁচুক। পড়াশোনার সাথে সাথে তারা শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা করতে করতে বড় হোক। উনি এতটাই সংস্কৃতিমনা ছিলেন যে, উনি চাইতেন শিশুরা হাসবে, গাইবে, ছবি আঁকবে, গল্প লিখবে। শিশুরা হেসে-খেলে বড় হবে। এবং এজন্য উনি শিশুদের জন্য নির্দেশনাও দিতেন স্কুল বা সংগঠনগুলোতে। কচিকাঁচার মেলা বা তার সময়ে যেসব সংগঠন ছিল, সেগুলোতে উনি বলতেন, এগুলোর খুব ভালো কাজ হতে হবে। কারণ সংস্কৃতি চর্চা না করলে সত্যিকার অর্থে ছেলে-মেয়েরা বড় হয়ে উঠতে পারবে না- এগুলো উনি বলতেন। এই যে মানুষটা শিশুদের জন্য সব সময় ভাবতেন, শিশুরাই ভবিষ্যৎ-এটাই বঙ্গবন্ধু ।

তিনি প্রত্যেকটা জায়গা ধরে ধরে নির্দেশনা দিয়েছেন, বিশেষ করে শিশুদের জন্য। শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ, শিশু সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিশু সংগঠন, প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুদের সুবিধাগুলোর ভিত্তি কিন্তু উনিই করে গেছেন। উনি চিন্তা ভাবনায় অনেক দূরদর্শী ছিলেন বলেই এসব চিন্তা করে গেছেন। উনি জানতেন, একটা দেশের শিশুদের ভিত্তি যদি তৈরি করতে না পারি, তাহলে সে জাতি কখনও ভালো নাগরিক পাবে না।

১৯৭০ সালের নির্বাচনের আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগকে বঙ্গবন্ধু সর্বোৎকৃষ্ট বিনিয়োগ বলেছিলেন। নিরক্ষরতা দূর করার পাশাপাশি পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের বাধ্যতামূলক অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষাদানের জন্য ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ চালুর কথাও বলেন তিনি। দারিদ্র্য যেন উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে মেধাবীদের জন্য বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকে লক্ষ রাখার কথাও বলেন বঙ্গবন্ধু।’ কমিশনের রিপোর্টে ছিল, পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, যথেষ্ট নয়। এটা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করতে হবে। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির মাধ্যমিক শিক্ষায় জেনারেল স্ট্রিম থাকবে, কারিগরি স্ট্রিম থাকবে; শিক্ষাটা বহুমুখী হয়ে যাবে। দ্বাদশ শ্রেণির পর থেকে হবে উচ্চ শিক্ষা। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষাটা হবে একমুখী, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। কুদরত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টটাই পরবর্তীকালে ২০১০ সালে শেখ হাসিনা প্রশাসন চূড়ান্ত করলেন। ২০১০ পর্যন্ত একটা দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ এগিয়েছে কোন শিক্ষা নীতি ছাড়া। শিক্ষাব্যবস্থা হচ্ছে একটি প্রজাতন্ত্রের চোখ। সেই চোখ বন্ধ ছিল। অন্ধের মতো আমরা এগিয়ে গিয়েছি। সেই কারণে আমরা সঠিক শিক্ষা দিতে পারিনি, এটা আমাদের ব্যর্থতা। ২০১০ সাল থেকে শিক্ষা নীতি চালু হয়েছে, এই শিক্ষা নীতি যখন পরিপূর্ণভাবে আমরা বাস্তবায়ন করতে পারব, তখন বলতে পারব যে, একটি শিক্ষা নীতি আমরা অনুসরণ করছি।”

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী হয়েও স্বাধীনতার পর কচিকাঁচার মেলার অনুষ্ঠানগুলোতে আসতেন। উনি যখন দ্বিতীয় বিপ্লবের জন্য বাকশাল করলেন, তখন কচিকাঁচার মেলা ও খেলাঘরকে একত্রিত করে দুটাকে সরকারি শিশু প্রতিষ্ঠান করা হল।“শিশুদের দিকে কতটা নজর ছিল যে, দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি বা বাকশাল ঘোষণার সময় এই দুটি প্রতিষ্ঠান যেহেতু প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক তাদের দিয়ে তিনি জাতীয় শিশু সংগঠন গড়ে দিয়েছেন।”

তিন.
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষাকে শিশুদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। শিশু অবস্থায়ই তাদের পড়াশোনার জন্য অতিরিক্ত চাপ না দিতে অভিভাবক, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে আমি এটুকুই বলব, কোনোমতেই যেন কোমলমতি শিশুদের কোনো অতিরিক্ত চাপ না দেওয়া হয়। তাহলেই দেখবেন তারা ভেতরে একটা আলাদা শক্তি পাবে। তাদের শিক্ষার ভিতটা শক্তভাবে তৈরি হবে।’

প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৯-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি সম্পৃক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। অল্প বয়সে লেখাপড়ার কঠোর শৃঙ্খলে আবদ্ধ করাকে ‘এক ধরনের মানসিক অত্যাচার’ বলে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘শিশুরা প্রথমে স্কুলে যাবে এবং হাসি খেলার মধ্য দিয়েই লেখাপড়া করবে। তারা তো আগে থেকেই পড়ে আসবে না, পড়ালেখা শিখতেই তো সে স্কুলে যাবে। প্রধানমন্ত্রী শিশুদের পাঠদান সম্পর্কে নিজস্ব অভিব্যক্তি সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করতে গিয়ে বলেন, ‘পৃথিবীর অনেক দেশেই সাত বছরের আগে শিশুদের স্কুলে পাঠায় না। কিন্তু আমাদের দেশে অনেক ছোটবেলা থেকেই বাচ্চারা স্কুলে যায়। কিন্তু তারা যেন হাসতে খেলতে, মজা করতে করতে পড়াশোনাটাকে নিজের মতো করে করতে পারে, সেই ব্যবস্থাটাই করা উচিত।

প্রধানমন্ত্রী লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তার সরকার এ জন্য প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম করে দিচ্ছে। এ সময় প্রতিটি স্কুলে ধর্মীয় শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক চর্চায় তার সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করছে। ঝরে পড়া রোধকল্পে তার সরকারের বৃত্তি ও উপবৃত্তি প্রদান ১ কোটি ৪০ লাখ মাকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকা পৌঁছে দেওয়াসহ সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি এবং স্থানীয় উদ্যোগে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি স্কুল দরকার হলে টিফিন তৈরি করে দেবে, না হলে বাচ্চার মায়েরা তাদের সন্তানের জন্য টিফিন তৈরি করে দেবে। এটা প্রত্যেক মা এবং অভিভাবককেই উদ্যোগ নিতে হবে।

লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক ।

এইচআর/জেআইএম

কোন জেলার স্কুলে জুন মাসেও ভর্তি হতে পারতো। এখন সম্ভব নয় ; তার প্রয়োজনও বোধ করেন না। যদি কুড়িগ্রাম কিংবা পটুয়াখালীর কর্মরত সাব ইন্সপেক্টরের সন্তান ঢাকার নামিদামি স্কুলে পড়াশুনা করে থাকে তাহলে আলোচনা বহুদূর বিস্তৃত হবে।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]