পিটিয়ে হত্যা : দায় নেবে কে?

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ০৯:৪৬ এএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

এটা খুবই উদ্বেগজনক খবর যে দেশে কিশোর অপরাধ বাড়ছে। অবস্থা এমন হয়েছে খুনখারাবির মত ঘটনাও ঘটছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা করা হচ্ছে। বখে যাওয়া কিশোর অপরাধীরা হত্যাকাণ্ড, অপহরণ ছিনতাই থেকে শুরু করে সব ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। পাড়া-মহল্লায় গ্রুপ বেঁধে চলাফেরা করে। গভীর রাত পর্যন্ত আড্ডায় লিপ্ত থাকে। স্কুল-কলেজের মেয়েদের দেখলেই নানাভাবে হয়রানি করে। এ অবস্থার অবসান হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

এ ধরনের ভয়ঙ্কর কিশোর অপরাধের শিকার হয়ে এবার প্রাণ গেল দশম শ্রেণির ছাত্র সাকিব হোসেনের (১৬)। সে সাতক্ষীরা শহরের পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ও পুলিশ কনস্টেবল নজরুল ইসলামের একমাত্র সন্তান। এ ঘটনায় একজন আহত হয়েছে। আহত ছাত্রের নাম রাশেদুল ইসলাম। সে একই বিদ্যালয়ের একই শ্রেণির ছাত্র ও শহরের রসুলপুর এলাকার অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে।

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী সাকিব, সামিউজ্জামান তিন বন্ধু মিলে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বকচরা মাদ্রাসায় মাহফিল শুনতে যায়। সেখানে শহরের কামালনগর কলোনির আব্দুল কাদের ও শান্তর সঙ্গে সাকিবের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তা মিটে যায়। রাত ১০টার দিকে তারা তিন বন্ধু বাড়ি ফিরে আসছিল। পথে বাইপাস সড়কে কাদের ও শান্তর নেতৃত্বে ২০-২৫ জন লাঠি হাতে তিন বন্ধুকে আটকায়।

এ সময় তাদের মধ্যে কেউ একজন একটি মেয়ের নাম উল্লেখ করে বলে, ‘ওই মেয়েকে আমি ভালবাসি, তুই ওর দিকে তাকাস!’ এই বলেই সাকিবকে তারা লাঠি ও গাছের ডাল দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটাতে শুরু করে। এ সময় রাশেদুল থামাতে গেলে তাকেও তারা মারতে থাকে। একপর্যায়ে সাকিব লুটিয়ে পড়লে তাকে ফেলে রেখে তারা চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন সাকিব ও তাঁকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
দেখা যাচ্ছে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে হত্যাকাণ্ডের মত ঘটনা ঘটছে। বিপথগামী এসব কিশোরদের যদি এখনই ফেরানো না যায় তাহলে এর চরম মূল্য দিতে হবে। বয়ঃসন্ধিকালের এসব কিশোরদের হিতাহিত জ্ঞান খুব একটা কাজ করে না। অনেক ক্ষেত্রে এরা পারিবারিক সান্নিধ্য থেকেও বঞ্চিত হয়। ফলে হয়ে ওঠে আরো বেপরোয়া। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলনও গড়ে তুলতে হবে।

সমাজকে অবক্ষয় থেকে বাঁচাতে হবে। পারিবারিক বন্ধন, নৈতিক শিক্ষা, অনুশাসনও এদের বিপথ থেকে ফেরাতে পারে। কাজেই এ ব্যাপারে পরিবারকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। সন্তান কোথায় যায়, কী করে, কার সাথে মেশে- এটা নজরদারিতে রাখলে অনেক সমস্যা থেকেই মুক্তি পাওয়া যাবে। আমরা এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না।

এইচআর/আরআইপি

‘দেখা যাচ্ছে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে হত্যাকাণ্ডের মত ঘটনা ঘটছে। বিপথগামী এসব কিশোরদের যদি এখনই ফেরানো না যায় তাহলে এর চরম মূল্য দিতে হবে। বয়ঃসন্ধিকালের এসব কিশোরদের হিতাহিত জ্ঞান খুব একটা কাজ করে না। অনেক ক্ষেত্রে এরা পারিবারিক সান্নিধ্য থেকেও বঞ্চিত হয়। ফলে হয়ে ওঠে আরো বেপরোয়া।’

আপনার মতামত লিখুন :