জন্মদিনের শুভেচ্ছা সাধারণ মানুষের প্রিয় চিকিৎসক ডা. স্বপ্নীল

সম্পাদকীয় ডেস্ক
সম্পাদকীয় ডেস্ক সম্পাদকীয় ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:০১ পিএম, ২২ আগস্ট ২০২১

তাপস হালদার
অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লিভার বিশেষজ্ঞ। শুধু এইটুকু পরিচয়ই কি তাঁর জন্য যথেষ্ট? আমি মনে করি তিনি নিজেকে একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। কোন ক্ষেত্রে তিনি পদচারণা করেননি? সামাজিক, রাজনীতি, বুদ্ধিজীবী মহল, কলাম লেখক, টক শো বক্তাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর সরব উপস্থিতি। তিনি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’-এর সদস্য সচিব হিসেবে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছেন। অন্যদিকে মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় নেতা হিসেবে দেশরত্ন শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে একজন সৈনিক হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করছেন। আবার বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ, দেশরত্ন শেখ হাসিনা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার পক্ষে গণমাধ্যমে রেখে যাচ্ছেন জোরালো ভূমিকা।

অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল সিলেটের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। বাবা ছিলেন উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তা। জীবনসঙ্গীনি হিসেবে পেয়েছেন আরেক কৃতিসন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবী কন্যা ডা. নুজহাত চৌধুরীকে। ডা. স্বপ্নীল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৯৫ সালে এমবিবিএস, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৮ সালে গ্যাস্ট্রো-এন্টারোলজিতে এমএসসি এবং ২০০৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হেপাটোলজিতে এম.ডি. ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি ডিভিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন। এছাড়া ল্যাব এইড স্পেশালাইজড হাসপাতালেও কর্মরত আছেন। তিনি জাপানের এহিমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস্ট্রো-এন্টারোলজি ও মেটাবোলজি বিভাগের ভিজিটিং রিসার্চার। এছাড়া আমেরিকান কলেজ অব গ্যাস্ট্রো-এন্টারোলজি, ইন্ডিয়ান কলেজ অব ফিজিসিয়ানস, রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অব আয়ারল্যান্ড এবং রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অব লন্ডনের ফেলো।

ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল লিভার স্টাডি নিয়ে দেশ ও বিদেশে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি লিভার বাংলাদেশের স্টাডি ফর ফোরামের নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও‘সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দি স্টাডি অব দি লিভার’-এরও সাধারণ সম্পাদক, ইউরোএশিয়ান গ্যাস্ট্রো-এন্টারোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি, ইউরোএশিয়ান গ্যাস্ট্রো-এন্টারোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ও এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় লিভার অ্যাসোসিয়েশনের হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, একিউট অন ক্রনিক লিভার ফেইলিউর এবং লিভার ফাইব্রোসিস সংক্রান্ত গাইডলাইন কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।

অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব বাংলাদেশ, কিউবা ও জাপানের সঙ্গে যৌথভাবে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের চিকিৎসায় একটি নতুন ওষুধ উদ্ভাবনে প্রধান গবেষক হিসেবে মৌলিক গবেষণা পরিচালনা করছেন। যা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক মহলে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। ২০১৩ সালে মার্কিন লিভার এসোসিয়েশনের ‘প্রেসিডেন্সিয়াল পদক’ও ইউরো-এশিয়ান গ্যাস্ট্রো-অ্যান্টারোলজিক্যাল এসোসিয়েশন ২০১৪ সালে ‘অর্ডার অব মেরিট’মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা পান। এছাড়াও পেয়েছেন, এশিয়ান প্যাসিফিক এসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব দ্য লিভার, ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল এসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব দ্য লিভার, জাপান সোসাইটি অব হেপাটোলজি, ইউরো-এশিয়ান গ্যাস্ট্রো-অ্যান্টারোলজিক্যাল এসোসিয়েশন ও এশিয়া প্যাসিফিক প্রাইমারি লিভার ক্যান্সার এক্সপার্ট এসোসিয়েশন কর্তৃক আন্তর্জাতিক পুরস্কার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার হেপাটাইটিস সর্ম্পকিত স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। বাংলাদেশ থেকে তিনিই একমাত্র সদস্য।

আমার সাথে ডা. স্বপ্নীল ভাইয়ের পরিচয় সম্প্রীতি বাংলাদেশের একজন কর্মী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে, তিন থেকে সাড়ে তিন বছর আগে। কিন্তু এই মানুষটিকে যতবার দেখি ততবারই নতুনভাবে আবিস্কার করি। একজন মানুষ এত কাজ একসঙ্গে করতে পারে সেটা ভেবে বিস্মিত হই। একমাসে কম করে হলেও পনের-বিশটি কলাম লিখেন। প্রতিদিন কম করে হলেও চার-পাঁচটি টিভি টক শো ও অনলাইন ফেসবুক ওয়েবিনারে সংযুক্ত থাকেন। প্রতিদিন ভোর রাত পর্যন্ত রোগী দেখেন, আবার সকালে নির্ধারিত সময়েই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজে ঢুকে পড়েন। সময়ের প্রতিটি মিনিট তিনি কাজে ব্যয় করেন। কাজই তাঁর ধ্যান জ্ঞান।

আজ বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের জন্মদিন। আপনি কারো কাছে স্যার, কারো কাছে নেতা, আমাদের কাছে প্রিয় স্বপ্নীল ভাই। আজকের দিনে আপনার সুস্বাস্থ্য ও কর্মময় জীবন কামনা করি। শুভ জন্মদিন স্বপ্নীল ভাই।

লেখক : সদস্য, সম্প্রীতি বাংলাদেশ ও সাবেক ছাত্রনেতা।

[email protected] gmail.com

এইচআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]