ঢাকা-৫ আসনে ইপিজেড গড়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে: তারেক রহমান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৪০ পিএম, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকা-৫ আসনে নির্বাচনি পথসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ঢাকা-৫ আসনে দ্রুত একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং এলাকার অর্থনৈতিক কাঠামোর উন্নয়ন ঘটবে।

তিনি বলেন, এই এলাকায় ইপিজেড স্থাপন করা গেলে অন্তত ছয় লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষ কর্মসংস্থানের অভাবে ভুগছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে পরিকল্পিতভাবে এখানে ইপিজেড গড়ে তোলা হবে, যেন বেকারত্ব দূর করা যায়।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা-৫ আসনের যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক হোসেন রোডে নির্বাচনি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, দেশ গড়তে হলে পরিকল্পনা দরকার, অভিজ্ঞতা দরকার। কর্মসংস্থান ছাড়া কোনো দেশের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব নয়। বিএনপিই একমাত্র দল, যাদের কাছে দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা এবং সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন
অনেক কথা হয়েছে, এবার দেশ গঠনের কাজে নামতে হবে: তারেক রহমান
ধানের শীষ স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতীক

ইপিজেড প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকারই দেশে প্রথম ইপিজেড চালু করেছিল এবং কীভাবে ইপিজেড স্থাপন ও পরিচালনা করতে হয়, সে অভিজ্ঞতা বিএনপির রয়েছে। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই আমরা ঢাকা-৫ আসনে ইপিজেড গড়ে তুলবো।

তারেক রহমান ২৪-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে এ এলাকার মানুষের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। আন্দোলনে নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, এই এলাকার মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

তারেক রহমান বলেন, এই অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতি সম্মান দেখাতে হলে আমাদের দায়িত্বশীলভাবে এই ভোট ব্যবহার করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে নারীদের স্বাবলম্বী করা, কৃষকদের সহায়তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শুধু ভোটাধিকার নয়, মানুষের জীবনের মৌলিক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সচ্ছলতাও গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের গৃহিণী সরাসরি সরকারি সহায়তা পাবেন এবং ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন।

ছাত্র ও তরুণ সমাজের কর্মসংস্থানের বিষয়ে তিনি জানান, প্রতিটি সংসদীয় আসনে অন্তত একটি করে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের দেশ ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।

বিদেশগামী কর্মীদের জন্য স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি। বলেন, বিদেশে যেতে গিয়ে যেন আমাদের তরুণদের জমি বা পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করতে না হয়, সে ব্যবস্থা আমরা করবো।

কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালুর ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, এর মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশক সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি সরকার গঠন হলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্যখাতে পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্রামে গ্রামে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হেলথ কেয়ার কর্মী নিয়োগ করা হবে, বিশেষ করে মা-বোনদের চিকিৎসা সেবায় গুরুত্ব দেওয়া হবে। 

জুলাই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন, যারা জীবন দিয়ে যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই বাংলাদেশ গড়তে আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যাই।

কেএইচ/ইএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।