সংসদে মার্জিত বক্তব্য দেওয়ার প্রশিক্ষণ পাবেন বিএনপির ৪৫ এমপি
সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য রাখার জন্য দলের তরুণ ও মেধাবী ৪৫ জন সংসদ সদস্যকে চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। এদের মধ্যে অধিকাংশই সাবেক ছাত্রনেতা। সংসদে মার্জিত ও যুক্তিনির্ভর বক্তব্য উপস্থাপনের লক্ষ্যে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ উপলক্ষে গত শনিবার (২৮ মার্চ) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তাদের নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে আসন্ন সংসদ অধিবেশনকে সামনে রেখে কৌশল নির্ধারণ করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিরোধী দলের সম্ভাব্য ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ মোকাবিলা, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবে অংশগ্রহণ এবং সরকারের অবস্থান তুলে ধরার জন্য নির্দিষ্ট এমপিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিসহ নির্বাচিত ৪৫ জন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সংসদ সদস্য জাগো নিউজকে জানান, এই ৪৫ জন এমপি রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ইতিবাচক, দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক বক্তব্য দেবেন। বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে যুক্তিপূর্ণ পাল্টা বক্তব্য উপস্থাপন করাই তাদের মূল দায়িত্ব।
দলীয় একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে গঠিত এই তালিকার এমপিরা সংসদে গুছিয়ে ও সাবলীলভাবে বক্তব্য রাখতে পারবেন বলে মনে করছে দলের হাইকমান্ড। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তাদের সংসদীয় গণতন্ত্রকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন এবং জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ তালিকায় রয়েছেন হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, রাজিব আহসান, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, শাহাদাত হোসেন সেলিম, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, রফিকুল ইসলাম বকুল, আজিজুল বারী হেলাল, এস এম জাহাঙ্গীর, নুরুল ইসলাম নয়ন, শহিদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ।
একই বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদসহ সমসাময়িক রাজনৈতিক ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া দল ও অঙ্গসংগঠনের চলমান সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী।
জানা গেছে, বিএনপি সরকার আপাতত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের পথে যাচ্ছে না। জুলাই সনদ, অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা, আওয়ামী লীগের বিচার এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার মতো বিভিন্ন রাজনৈতিক বিবেচনায় তাকে বহাল রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে তিনি পূর্ণ মেয়াদে থাকবেন কি না, তা এখনো চূড়ান্ত নয়।
এদিকে, একই দিনে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও পৃথকভাবে বৈঠক করেন তারেক রহমান। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠকের পর আরও কয়েকজন নেতা এতে যোগ দেন।
ছাত্রদলের সঙ্গে বৈঠকে তারেক রহমান নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। মূল লক্ষ্য ছিল সংগঠনটির সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি করা, নিয়মিত কমিটি গঠনের মাধ্যমে ‘যোগ্য নেতৃত্ব’ তৈরি করা এবং শিক্ষার্থীদের কাছে সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন তিনি।
স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, তিনটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কিছু সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দলের চেয়ারম্যান নিয়মিতভাবে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তথ্য রাখছেন। এর ধারাবাহিকতায় যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সঙ্গে সাংগঠনিক বিষয়ে কথা বলেছেন। এর মাধ্যমে আগামীতে সংগঠনগুলো আরও বেশি সংগঠিত হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো নিয়েও দলের মধ্যে কাজ চলছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুনত্ব আনা হবে। এতে তরুণ নেতৃত্বে রাজনীতি বিকশিত হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, দ্রুত সময়ের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো পুনর্গঠন এবং তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতার পর বর্তমান উন্মুক্ত পরিবেশে সংগঠনকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর ওপর জোর দিয়েছেন তারেক রহমান। নতুন কমিটিতে যোগ্য ও তরুণ নেতাদের নিয়ে সংগঠনকে গতিশীল করা, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নেতা তৈরির মাধ্যমে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
কেএইচ/এএমএ