মে দিবসে শ্রমিক সমাবেশ করবে বিএনপি, নয়াপল্টনে তৈরি হচ্ছে মঞ্চ
মে দিবস (আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস) উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শ্রমিক সমাবেশ করা হবে। সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। সমাবেশ সফল করতে মঞ্চ নির্মাণসহ সার্বিক আয়োজন এরই মধ্যে শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, নয়াপল্টনে নির্ধারিত স্থানে কর্মীরা মঞ্চ নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। দুপুরের পর থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০ বাই ২৫ ফুটের একটি বড় মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখবেন।
মঞ্চ নির্মাণের তদারকিতে থাকা জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের সভাপতি মাহফুজ কবির মুক্তা জাগো নিউজকে বলেন, মহান মে দিবস উপলক্ষে আমরা বর্ণাঢ্য আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠাই আমাদের মূল লক্ষ্য। বিএনপি সবসময় শ্রমজীবী মানুষের পাশে ছিল এবং থাকবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি শ্রমিকরা। তাদের অধিকার, ন্যায্য মজুরি ও উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না হলে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
শ্রমিক দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, এবারের সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি, অংশগ্রহণের দিক থেকে আগের সব রেকর্ড ভেঙে যাবে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, আগামী ১ মে (শুক্রবার) দুপুর আড়াইটায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে এই সমাবেশ হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকার কথা রয়েছে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
এছাড়া উপস্থিত থাকবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতারা। সভাপতিত্ব করবেন শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন।
সমাবেশ সফল করতে এরই মধ্যে শ্রমিক দল ও বিএনপির নেতারা বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন। এসব বৈঠকে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া, বর্তমান শ্রম পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সমাবেশ ঘিরে নিরাপত্তা, পরিবহন, মঞ্চ প্রস্তুতি ও জনসমাগম নিশ্চিত করতে একাধিক উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
নেতারা আশা করছেন, ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ও নেতাকর্মী সমাবেশে যোগ দেবেন।
তাদের মতে, এবারের মে দিবসের এই সমাবেশ শ্রমিকদের অধিকার, ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরবে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিন পর শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এই সমাবেশ নতুন মাত্রা পাবে এবং শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
কেএইচ/এমআইএইচএস