রায় নিয়ে মন্তব্য করায় বুয়েট শিক্ষককে পিটুনি


প্রকাশিত: ০৪:০৩ পিএম, ১২ এপ্রিল ২০১৫

যুদ্ধাপরাদের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকরের পর অসন্তোষ প্রকাশ করে ফেসবুকে `আপত্তিকর` মন্তব্যের অভিযোগে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক শিক্ষককে পিটিয়েছে ছাত্রলীগ।

রোববার বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলমকে বিভাগ থেকে ধরে এনে পিটুনি দেন ছাত্রলীগ নেতারা। তাকে মারধরের ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে বুয়েট প্রশাসন।

শিক্ষককে মারধরের প্রতিবাদে ও এ ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের শাস্তির দাবিতে আগামী রোববার পর্যন্ত কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বুয়েট শিক্ষক সমিতি।

অপরদিকে ওই শিক্ষককে অপসারণের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি দিয়েছে ছাত্রলীগ।

বুয়েটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায়ে আনন্দ প্রকাশ করে বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষকদের মিষ্টি মুখ করাতে যান বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মিষ্টিমুখ করানোর একপর্যায়ে অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলমের কক্ষে গিয়ে কামারুজ্জামানের রায় নিয়ে ফেসবুকে তার মন্তব্যের কারণ জানতে চান ছাত্রলীগ নেতারা।

অধ্যাপক জাহাঙ্গীর এ সময় তাদেরকে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মারা শুরু করেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। পরে ওই শিক্ষককে টেনেহিঁচড়ে বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ায় নিয়ে আটকে রাখেন তারা।

অধ্যাপক জাহাঙ্গীরকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রলীগেরই আরেক গ্রুপ তাদের বিরোধিতা করেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে ওই গ্রুপটি উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। এ সময় তারা শিক্ষককে মারধরকারীদের বিচার চান।

একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অধ্যাপক জাহাঙ্গীরকে ক্যাফেটেরিয়া থেকে উদ্ধার করে আনেন।

মিষ্টি বিতরণ ও মারধরে বুয়েট ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সভাপতি শুভ্র জ্যোতি টিকাদার ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ কনক নেতৃত্ব দেন বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, `কামারুজ্জামানের ফাসি কার্যকর` শিরোনামের একটি খবর বুয়েটের শিক্ষার্থী দিপু সরকার শনিবার `আড়ি পেতে শোনা` নামে ফেসবুকে বুয়েটের একটি ক্লোজড গ্রুপে পোস্ট করেন। এরপর ওই শিক্ষার্থীর পোস্টের নিচে অধ্যাপক জাহাঙ্গীর লিখেন `এটা কখনোই হবে না। অপেক্ষা কর ও দেখ । দিন দিন তোমরা সবাই রাজাকারদের চেয়েও খারাপ হবে। অবিচার কখনোই ভালো হয় না।` এরপর গ্রুপটির অন্য শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষকের এ মন্তব্যের প্রতিবাদ জানায়। এরপর তিনি আরো উগ্র হয়ে ওঠেন এবং এ রকম মন্তব্য অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে ফেসবুকের ওই গ্রুপে তিনি লিখেন `জয় মা কালি, জয় ইন্ডিয়া`, `বলুন জয় বাংলাদেশ এটা অরাজনৈতিক। কেননা জয় বাংলা দুটি দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে`। এভাবেই গ্রুপটিতে মন্তব্য- পাল্টা মন্তব্য করা হতে থাকে।

এসব মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিষ্টিমুখ করানোর সময় তার কক্ষে গিয়ে মন্তব্যের কারণ জানতে চান। পরে তাকে মারধর করেন।

এদিকে অধ্যাপক জাহাঙ্গীরকে মারধরের ঘটনায় তাৎক্ষণিক সভা ডাকে বুয়েটের একাডেমিক কাউন্সিল। সভাশেষে উপাচার্য খালেদা ইকরাম বলেন, `এমন ঘটনা আমাদের জন্য খুবই অপ্রীতিকর। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে।`

এরপর বুয়েট শিক্ষক সমিতির এক জরুরি সভা ডেকে আগামী রোববার পর্যন্ত কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি শুভ্র জ্যোতি টিকাদার বলেন, `আমরা এমন আপত্তিকর মন্তব্য করার কারণ জানতে চেয়েছি এবং তাকে ক্ষমা চাইতে বলেছি। এজন্য তিনি ক্ষমা চেয়েছেনও।`

শিক্ষক সমিতির কর্মসূচির কারণে অনির্দিষ্টকালের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি দিয়েছেন বলে জানান এ ছাত্রলীগ নেতা।

একে/আরআই
 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।