জনগণই খালেদা জিয়ার আগুনসন্ত্রাসের জবাব দেবে : ইনু


প্রকাশিত: ০৩:৫০ পিএম, ২৭ এপ্রিল ২০১৫

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বেগম জিয়া গণতান্ত্রিক পথ ত্যাগ করে চক্রান্তের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের জন্য জঙ্গি নাশকতা ও অন্তর্ঘাতসহ মানুষ পুড়িয়ে মারার যে আগুনসন্ত্রাস করেছেন, জনগণই তার প্রতিশোধ নেবে, জবাব দেবে।

সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার রোববারের সংবাদ সম্মেলনকে বিএনপি নেত্রী বেগম জিয়ার ‘অপরাধ ও দুষ্কর্মের সাফাই গাওয়ার অপচেষ্টা’ বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী রাজাকাররাও দায়মুক্তি না পেয়ে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কাদের মোল্লা বলেছিল, আমি ‘সেই কাদের মোল্লা` বা ‘কসাই কাদের’ নই। দেলোয়ার হোসেন সাঈদী বলেছিল, আমি ‘সেই দেলু রাজাকার’ নই। কিন্তু তারা বিচারের হাত থেকে রেহাই পায়নি। বেগম খালেদা জিয়াও যতই সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করুন না কেন, বিচারের হাত থেকে রেহাই নেই।

ইনু বলেন, তিনি (বেগম জিয়া) হয়তো বলার চেষ্টা করবেন, আমি সেই আগুন সন্ত্রাসী খালেদা নই, কিন্তু তিনিই সেই খালেদা জিয়া, যিনি একাত্তরের খুনী-রাজাকারদের দোসর, পঁচাত্তরের ঘাতকদের রক্ষাকারী, একুশে আগষ্টের গ্রেনেড হামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার প্রচেষ্টাকারী, আগুন-সন্ত্রাসে শত মানুষ পুড়িয়ে হত্যাকারী, জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক।

ইনু আরও বলেন, নরহত্যার দায় তিনি এড়াতে পারবেন না। যতই সাফাই দেন না কেন, জনগণের চোখের সামনে সংঘটিত মানুষ পোড়ানোর অপরাধ ঢাকা পড়বে না। আর সে কারণেই বাংলাদেশে আর কোন দিন আগুনসন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদীদের জনগণ ক্ষমতায় আনবে না।

মন্ত্রী বলেন, বেগম জিয়া বলেছেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। যদি তাই হয়, তাহলে সিটি নির্বাচনে জনগণ ভোটাধিকার ফিরে পেলো কিভাবে ? বেগম জিয়া-বিএনপি-২০ দলতো সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠানে দাবি করেনি। বরং সরকারই সময়মত সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছে।

বেগম জিয়ার পূর্ণ বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী নামানোর দাবি প্রসংগে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বেগম জিয়া দুইবার প্রধানমন্ত্রী, দুইবার বিরোধী দলীয় নেত্রী ছিলেন। চারটি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তার ক্ষমতার দুই আমলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়েছে। কখনই কি সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচনের মাঠে নামানো হয়েছে? তার আশে-পাশে এত বড় বড় ব্যারিষ্টার-উকিল সাহেবরা আছেন। বেগম জিয়া না জানলেও তারাতো জানেন, নির্বাচনকালে কখনই সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দেয়া হয়নি। সেনাবাহিনীকে মোতায়েন করা হয়, সিভিল প্রশাসনের সাহায্যে। বিচারিক ক্ষমতা কখনই কোন প্রতিষ্ঠান বা বাহিনী বা সংস্থাকে দেয়া যায় না। এটা জানার পরও পূর্ণ বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়নের দাবি, অজ্ঞতা নয়, জ্ঞানপাপ।

আরএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।