স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নতুন কৌশলে জামায়াত-এনসিপি
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ডামাডোল বাজতে শুরু করছে। বিশেষ করে বিরোধীদলীয় জোটের অন্যতম প্রধান দুই দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। এরই মধ্যে সিটি করপোরেশন পর্যায়ে প্রার্থী চূড়ান্ত শুরু করেছে দল দুটি।
সমঝোতা করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল দুটির প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনসহ সারাদেশে বেশ কয়েকটি সিটি নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে দল দুটির দরকষাকষি চলছে। দুই দলের সমর্থকরা অনলাইন তর্কবিতর্ক করছেন।
সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে, অন্যদিকে এনসিপি দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে দুই দলের কেউ প্রার্থী ঘোষণা না করলেও জামায়াতের নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর আমির ও শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল জাব্বার আলোচনায় রয়েছেন। অন্যদিকে সদ্য এনসিপিতে যোগদান করা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জোনায়েদ এনসিপি থেকে আলোচনায় রয়েছেন।
জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, সিটি করপোরেশন পর্যায়ের নির্বাচনে ১১ দল সমঝোতার ভিত্তিতেই প্রার্থী ঠিক করবে। তবে উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে সব দল একক নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্তত ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে এককভাবে নির্বাচনের কথা জানিয়েছে এই সূত্র।
আরও পড়ুন
ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী আলোচনায় আসিফ-আদীব
ঢাকা সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে কে হতে পারেন জামায়াতের ‘চমক’
৫ সিটি করপোরেশনে এনসিপির হয়ে মেয়র পদে লড়বেন যারা
এদিকে এনসিপি বর্তমানে সারাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করছে। বিশেষ করে পৌর মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান, সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী কারা হবেন সেই হিসাব-নিকাশ চলছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।
এনসিপির একজন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক জাগো নিউজকে বলেন, দেশের প্রায় অধিকাংশ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। সারাদেশের ৬০০ উপজেলায় আমাদের প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। চলতি মাসের প্রথমার্ধে ১০০টি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে জামায়াতের সঙ্গে বনিবনা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যান এই পদগুলোতে একক নির্বাচন করার জন্য দলের পরিকল্পনা রয়েছে। মাঠে আমাদের কোন প্রার্থীর অবস্থান কতটুকু, জনসমর্থন কেমন-এসব পরখ করা হচ্ছে।
একক নির্বাচন করার ইচ্ছা এনসিপির একাংশের
এনসিপির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জাগো নিউজকে জানিয়েছে, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আসিফ মাহমুদসহ তার কিছু নেতাকর্মী সারাদেশে একক নির্বাচনের পক্ষে। অন্যদিকে দলটির বৃহদাংশ চাচ্ছে জামায়াতের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন করতে। এতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো সুযোগ পাবেন তারা।
সূত্র জানায়, একইভাবে জামায়াতের একটি অংশ চাচ্ছে একক নির্বাচন করতে। বিশেষ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে জামায়াত সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করার বিষয়ে অনড় থাকলে সমঝোতার ক্ষেত্রে তাদের ঢাকা উত্তর সিটি এনসিপিকে ছাড়তে হতে পারে। একইভাবে জামায়াতের তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা চাচ্ছেন এককভাবে নির্বাচন করতে।
এদিকে জামায়াত ও তাদের নারী বিভাগ স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুত হওয়ার কথা জানিয়েছে। দলটি সারাদেশে প্রার্থীও চূড়ান্ত করছে। তবে সমঝোতার বিষয়ে দলীয়ভাবে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার একজন সদস্য জাগো নিউজকে বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের পক্ষ শক্তি যারা আছি, তারা একসঙ্গে থাকতে চাই। বর্তমানে দেশের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ আমরা ১১ দলীয় জোট রাজপথে আন্দোলন করে যাচ্ছি। জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও আমরা একসঙ্গে থাকতে চাই। তবে এক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে আমাদের বোঝাপড়া চলছে। সিটি নির্বাচনে আমাদের সমঝোতা হোক, কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সবাই নিজের অবস্থান জানান দিতে চাই। এনসিপিও তাদের অবস্থান পরীক্ষা করতে চায় এককভাবে।
তিনি বলেন, কিছু উপজেলায় এনসিপি-জামায়াত এককভাবে করবে, আবার কিছু জায়গায় সমঝোতা করে করবে। এছাড়া জোটের অন্যান্য দল থেকে কাউন্সিলর, ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে পারে। এসব ক্ষেত্রে আমাদের সমর্থন থাকবে। এসব পরিকল্পনা আছে, নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক হলে সব চূড়ান্ত হবে।
আরও পড়ুন
এককভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি
আমি নির্বাচিত হলে বাসিন্দাদের ময়লার বিল দিতে হবে না: আসিফ মাহমুদ
গাজীপুর সিটি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জোবায়ের এসব বিষয়ে জাগো নিউজকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সমঝোতা নিয়ে এখনো ১১ দলে তেমন কোনো আলোচনা হয়নি। আমরা তো জাতীয় নির্বাচনের আগেই দেশের অধিকাংশ জায়গায় প্রার্থী চূড়ান্ত করে রেখেছি। সমঝোতা হলে কোন দলকে কোথায় ছাড় দেওয়া হবে, তা ঠিক করা হবে। আপাতত সব দল তাদের কাজ করে যাচ্ছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির মিডিয়া উইংয়ের সদস্য ইয়াসির আরাফাত জাগো নিউজকে বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জোটগত নির্বাচন কিংবা একক নির্বাচন-সবকিছু নিয়ে আলোচনা চলছে। আপাতত আমাদের প্রার্থী নির্বাচন চলছে। প্রার্থীরা এলাকায় কাজও করছেন।’
আরএএস/এমআইএইচএস/এমএমএআর/এমএফএ