ইরানের প্রস্তাব অগ্রহণযোগ্য, ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর বাড়লো তেলের দাম
যুদ্ধ শেষে ইরানের দেওয়া প্রস্তাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পTrump। এরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে।
সোমবার (১১ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৫০ ডলার (প্রায় ৭৭ দশমিক ৬০ পাউন্ড) পর্যন্ত ওঠে। তবে পরে দাম কিছুটা কমে আসে।
এদিকে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ায় বড় বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলোর মুনাফাও বেড়েছে। রোববার (১০ মে) সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি আরামকো জানায়, বছরের প্রথম তিন মাসে তাদের আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। কোম্পানির প্রধান আমিন নাসের বলেন, তাদের ক্রস-কান্ট্রি পাইপলাইন ‘গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ পথ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে’ ও যুদ্ধের কারণে শিপিং বিঘ্ন এড়াতে সহায়তা করেছে।
এর আগে ব্রিটিশ জ্বালানি কোম্পানি বিপি জানিয়েছিল, তাদের মুনাফা দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। শেলও জানিয়েছে, তাদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এর আগে ইরান পাকিস্তানের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিক্রিয়া পাঠায়, যা বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ওই বার্তায় ইরান তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধ বন্ধ ও ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলা না করার নিশ্চয়তা চেয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংকট
সংঘাত শুরুর পর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের প্রস্তাবের জবাবে লেখেন, আমি ইরানের তথাকথিত ‘প্রতিনিধিদের’ জবাব পড়েছি। আমার ভালো লাগেনি- পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ চলাচল ফিরিয়ে আনা ও ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করার কথা বলা হয়েছিল। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত ‘নিষ্ক্রিয় না করা পর্যন্ত’ যুদ্ধ শেষ হবে না।
যুদ্ধবিরতি ও তেলের বাজারে ওঠানামা
এপ্রিলের শুরুতে একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, যাতে শান্তি আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়। যদিও মাঝে মাঝে সংঘর্ষ হলেও সেটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানা হয়েছে।
২১ এপ্রিল ট্রাম্প যুদ্ধবিরতিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে দেন, যাতে ইরান একটি ‘একীভূত প্রস্তাব’ দিতে পারে।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। তবে যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হুমকি দেয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ওই পথে জাহাজ চলাচলে হামলা চালানো হবে। এরপর থেকেই প্রণালিটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
সূত্র: বিবিসি
এসএএইচ