ভোটের দিন যেভাবে কাটালেন আনিসুল হক
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী আনিসুল হক বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু মঙ্গলবার ভোটগ্রহণের দিন আনিসুল হকের সময় কেটেছে ব্যস্ততা, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে।
মঙ্গলবার আনিসুল হক সকাল দশটায় সপরিবারে ভোট দিয়েছেন রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতনে। বাবা শরিফুল হক, স্ত্রী রুবানা হক, ছেলে, মেয়ে, ছেলের বউ, দুই ভাই ইকবাল হক ও হেলাল হক এবং একমাত্র বোনসহ তিনি ভোট কেন্দ্রে গিয়ে পৌনে দশটার দিকে ভোট দেন।
ভোট দেয়ার পর কেন্দ্রের পাশেই বাসায় চলে যান আনিসুল। এরপর সাড়ে বারটার দিকে বের হয়ে উত্তরা ও মিরপুরের বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে যান। আওয়ামী লীগ সমর্থিত এ মেয়র প্রার্থী উত্তরা উচ্চ বিদ্যালয়, উত্তরা আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ হয়ে মিরপুরের পল্লবীতে এমআই মডেল স্কুলে যান নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে।
এরপর পর্যায়ক্রমে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, মিরপুর সিদ্ধান্ত হাই স্কুল এবং শাহআলী উচ্চ বিদ্যালয় হয়ে আবার দুপুরের মধ্যেই বনানীর বাসায় ফিরে আসেন।
প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ভোটার, পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ভোট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিক ও ভোটারদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠেন এ প্রার্থী।
বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর ভোট বর্জনের তথ্য জানার পর তিনি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী দলীয় সিদ্ধান্তে নির্বাচন বর্জন করেছেন।
বনানীর বাসায় ফেরার পর আগত আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলেন আনিসুল হক। বাসার নিচের ড্রইংরুমেই দুপুর পর্যন্ত কাটান। পরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাসাতেই দুপুরের খাবার খান। বিকাল পর্যন্ত তিনি বাসাতেই অবস্থান করেন। সন্ধ্যার আগে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে গড়া অস্থায়ী মিডিয়া সেন্টারে গিয়ে তিনি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
নির্বাচন শেষে মিডিয়া সেন্টারে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় আনিসুল হক বলেন, খেলতে গেলে ফাউল হয়। এটা মেজর না মাইনর সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে ছোটখাটো কিছু ত্রুটির কথা স্বীকার করেন তিনি।
বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল ভোট ও মারামারি প্রসঙ্গে এই মেয়র প্রার্থী বলেন, দু-একটা এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে তা আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী ও বিএনপির দুই প্রার্থীর মধ্যে। এটা অনেকটা ভাইয়ে ভাইয়ে গণ্ডগোলের মতো। বিএনপির ভোট বর্জন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৬ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র দু-একজন ভোট বর্জন করেছেন যা সংখ্যার দিক থেকে খুব সামান্য। বেশির ভাগ প্রার্থী নির্বাচনে ছিলেন। বেশির ভাগ কেন্দ্রেই ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন।
এআরএস/এমএস