সিটি নির্বাচন : পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি পরাজিতদের


প্রকাশিত: ০৩:০০ পিএম, ০৪ মে ২০১৫

ঢাকা ও চট্টগ্রামের তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট কারচুপি, সহিংসতা ও অনিয়মের অভিযোগ এনে নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখতে ও আবারো ভোটগ্রহণের অবেদন জানিয়েছেন প্রার্থীরা। বেশিরভাগ প্রার্থী নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) পক্ষপাতদুষ্ট উল্লেখ করে এ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট স্থগিত রেখে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ভোটগ্রহণের দিন থেকে সোমবার পর্যন্ত প্রার্থীদের শত শত অভিযোগ পড়েছে ইসিতে।
 
এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আবু হাফিজ বলেন, নির্বাচনের পর নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থীদের কোন অভিযোগ থাকলে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করতে পারেন। ট্রাইব্যুনাল তদন্ত করে রায় দেবেন। এ বিষয়ে এখন ইসির কিছু করণীয় নেই বলেও জানান তিনি।
 
ইসি সূত্র জানায়, নির্বাচন বর্জন করলেও ঢাকা উত্তর সিটির বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল প্রায় ২৫ পাতার এক বিশাল অভিযোগপত্র ইসিতে পাঠিয়েছেন। ২৯ এপ্রিল পাঠানো চিঠিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত নানা অনিয়মের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পক্ষপাতদুষ্ট, প্রহসনমূলক ও অগ্রহণযোগ্য এ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট স্থগিত করে তদন্তপূর্বক নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

চিঠিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনে আওয়ামী-ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসী বাহিনীর পাশাপাশি প্রিজাইডিং, পোলিং অফিসার, র্যাব-পুলিশ সম্মিলিতভাবে টেবিল ঘড়ি মার্কায় সিল মেরে অবাধে বাক্স ভর্তি করে।

এমনকি ভোট চলাকালীন সময় কমিশনে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করা হয় চিঠিতে।
 
একই রকম ভাবে চট্টগ্রাম সিটির ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরর প্রার্থী মোহাম্মদ হোসেন অভিযোগে লিখেছেন, উত্তর হালিশহরে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে অনিয়ম, জালভোট প্রদান এবং ভোট কারচুপি হওয়ায় উক্ত নির্বাচন বাতিল করে নতুন করে ভোট গ্রহণের দাবি জানান তিনি। উল্লিখিত দীর্ঘ চিঠিতে তিনি চারটি কেন্দ্রে দখল করে জালভোট ও সিল মারার অভিযোগ করেছেন।

ঢাকা উত্তরের ১১ নং সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের প্রার্থী রোজি জয়ীতা তার চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, তার নির্বাচনী এলাকায় ওই দিন দুপুরের পর থেকে সব কেন্দ্র দখল করে জালভোট প্রদান ও কেটলী প্রতীকের ব্যালট পেপারগুলোতে ডাবল সিল মেরে নষ্ট করা হয়েছে।

চিঠিতে ফলাফল স্থগিতের পাশাপাশি উক্ত ঘটনা তদন্ত করে নতুন নির্বাচনের দাবি জানান তিনি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৫৪ নম্বার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মোহাম্মদ মনির হোসেন অভিযোগে বলেছেন, ভোটগণনার পূর্বেই আমার এজেন্টদের স্বাক্ষর নিয়ে বেড় করে দেয়া হয়েছে।

দক্ষিণ সিটির ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের তিনটি কেন্দ্রের ফল স্থগিত করে নতুন ভোটগ্রহণ করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন কাউন্সিলর প্রার্থী জুবায়েদ আদেল। তার সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন আরেক কাউন্সিলর প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ আলমগীর। এছাড়াও চট্টগ্রাম থেকে অনিয়মের অভিযোগ ইসিতে জমা দেন ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী চৌধুরী সায়েফুদ্দীন সিদ্দিকী, ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হাজী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সির প্রার্থী মো. আব্দুল মালেক।

তবে সোমবার পর্যন্ত এ রকম শত শত অভিযোগ ইসিতে আসলেও কোন ব্যবস্থা নিয়ে দেখা যায়নি।

এইচএস/আরএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।