আ.লীগ জাতীয়তাবাদ চুরি করেছে: খালেদা জিয়া


প্রকাশিত: ০৪:৫৭ পিএম, ১২ মে ২০১৫

বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগই দেশের আসল জাতীয়তাবাদী দল- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘তারা জাতীয়তাবাদ চুরি করেছে। যারা মানুষ হত্যা করে, গুম করে, টাকা বিদেশে পাঠায় তারা জাতীয়তাবাদী হয় কীভাবে।’

মঙ্গলবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

‘বর্তমান রাজনৈতিক ক্রান্তিকালে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের করণীয়’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল। এতে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত।

গত বুধবার এক অনুষ্ঠানে জয় বলেছিলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে পতাকা দিয়ে যারা মন্ত্রী বানাতে পারে সেই দল কি জাতীয়তাবাদী দল হতে পারে? যে রাজকারদের সহযোগিতায় ৩০ লাখ মানুষকে খুন করা হয়েছে, তাদের যারা দেশে ফিরিয়ে আনতে পারে, তারা কি জাতীয়তাবাদী হতে পারে? নাকি স্বাধীনতা, গণতন্ত্রের পক্ষে আন্দোলন করে যে দল, যুদ্ধাপরাধীদের-সন্ত্রাসীদের বিচার করছে যে দল- সে দল আসল জাতীয়তাবাদী দল। বাংলাদেশের আসল জাতীয়তাবাদী দল হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।’

সভায় সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বেগম জিয়া বলেন, ‘তারা অক্টোপাসের মতো জড়িয়ে রেখেছে। সুপরিকল্পিত পরিকল্পনার মাধ্যমে এদের থেকে বের হতে হবে।’

দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর দলের যুগ্ম-মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের সন্ধান পাওয়ায় শুকরিয়া মোনাজাতও করা হয় এই অনুষ্ঠানে।

খালেদা জিয়া বলেছেন, সরকার দেশটিকে আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। প্রতিটি জায়গায় দুর্নীতি হচ্ছে। জমি দখল, বাড়ি দখল হচ্ছে।  সরকারি দলের লোকেরা সবখানে লুটেপুটে খাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি, অশান্তিতে নয়। মুক্তিযোদ্ধারাও দেশে অশান্তি দেখতে চায় না। তারা দেশে শান্তি চায়।

তিনি আরো বলেন, র‌্যাব আমাদের তৈরি। কিন্তু আমরা তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করিনি। আর এই সরকার র‌্যাবকে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে।

বেগম জিয়া বলেন, বর্ষবরণ উৎসবে টিএসসিতে যা ঘটেছে তা বাংলাদেশের সব মানুষের জন্যেই লজ্জাকর। শুধু লজ্জা নেই সরকারের। কারণ, এটি তাদের নিজেদের লোকেরাই করেছে।

তিনি বলেন, সেদিন ছাত্ররা প্রতিবাদ করতে গিয়েছিল। আপনারা দেখেছেন পুলিশ কী করেছে। তারা মাথাকে টার্গেট করে। পায়ে গুলি করে। মাথা মানুষের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এখানে আঘাত পেলে মানুষের জীবন বাদ হয়ে যেতে পারে।

মতবিনিময়ে অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজীজ উলফাৎ, সাধারণ সম্পাদক এ কে এম শফিউজ্জামান খোকন, সিনিয়র সহ-সভাপতি সাদেক খান, মুক্তিযোদ্ধা ইসমাঈল হোসেন বেঙ্গল, মুহিউদ্দিন শাহজাহান, এম আফজাল হোসেন, মাহবুব হোসেনসহ প্রায় ৭০ জন মুক্তিযোদ্ধা।

এমএম/এসআরজে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।