খালেদাকে নেতৃত্ব থেকে সরতে হবে : হাছান মাহমুদ
বিএনপিকে রক্ষা করতে হলে এ সংগঠনটির নেতৃত্ব থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে সরাতে হবে বলে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি। বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বঙ্গমাতা পরিষদ সোনালী ব্যাংক শাখার উদ্যোগে প্রেক্ষাপট-চলমান রাজনীতি ‘বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও বিএনপির অপরাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপিতে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তিনি তার নেতৃত্ব রক্ষায় বারবার গণমাধ্যমের সামনে কথা বলছেন। আওয়ামী লীগের এ নেতা আরো বলেন, বিএনপি যে লাইফ সাপোর্টে রয়েছে তা বেগম জিয়ার গতকালের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, সরকারে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তৎপরতার অংশ হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াকে বিএনপি নেতৃত্ব থেকে সরানোর জন্য উদ্যোগী হওয়া উচিত। তিনি আরো বলেন, বিএনপিকে দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষের মতো আমরাও একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে দেখতে চাই। কোন জঙ্গিবাদী সংগঠন হিসেবে নয়।
তিনি আরো বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জন্য বিএনপি সংসদে নেই, জামায়াতের মতো জঙ্গিবাদী দল নিয়ে গঠিত ২০-দলীয় জোটের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন বিএনপি এবং পেট্রলবোমাবাজদের সংগঠন বিএনপি। তার নেতৃত্ব থেকে বিএনপিকে রক্ষা করার কোন বিকল্প নেই।
বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার রাতে তার গুলশানের কার্যালয়ে নোয়াখালী আইনজীবী নেতাদের সাথে সাক্ষাৎকালে বলেন, ‘বিএনপি আছে, থাকবে। বিএনপি কখনো ভাঙবে না। বিএনপিতে কোনো বিভেদ নেই। সবাই ঐক্যবদ্ধ আছে।’
বঙ্গমাতা পরিষদ সোনালী ব্যাংক শাখার সভাপতি আব্দুল কাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল উসলাম এমপি, আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. শফিকুর রহমান।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলামের পরিচালনায় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, জাতীয় শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি আমিনুল হক ফারুক ও প্রচার সম্পাদক কে এম আযম খসরু।
অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, দেশে জঙ্গিবাদের উৎপাতের জন্য বিএনপি দায়ী। কেননা বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চার-দলীয় জোট সরকারের সময় সরকারি মদদ না পেলে দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটত না।
তিনি বলেন, জঙ্গিবাদের সাথে যারা জড়িত তারা সকলেই জামায়াত বা শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলো। তারা সব সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ আওয়ামী লীগ ও প্রগতিশীল লোকদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। তারা কখনো বিএনপি বা মৌলবাদী শক্তিকে টার্গেট করে না।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি নেতা তারেক রহমান জঙ্গিদের গডফাদার আর বেগম খালেদা জিয়া জঙ্গিবাদের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক। তিনি বর্তমান সরকারের মেয়াদের মধ্যে যুদ্ধাপরাধের বিচারের কাজ সম্পন্ন হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এসএইচএস/আরআই